ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

৫৬ হাজার বর্গমাইলের ছোট একটি দেশ আমার “বাংলাদেশ”। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশটির জন্ম। ভালেবাসার অত্যুক্তিতে আমরা আমাদের দেশকে “সোনার বাংলা” বলে থাকি। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনও নানা সমস্যায় জর্জরিত। দারিদ্রের কষাঘাতে পিষ্ট এখনও দেশের একটি বিরাট অংশ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার থেকেও বেশিরভাগ মানুষ এখনও বঞ্চিত। এখনও দু’মুঠো খাবারের অন্বেষনে জীবন বাজি রেখে হন্নে হয়ে নিরন্তর ছুটে চলে হাজার হাজার মানুষ। ডাস্টবিনের পঁচা খাবার খেয়ে জীবন ধারন কারী মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। সহায় সম্বলহীন মানুষরা এখনও রাস্তায় ঘুমায়,রাস্তাই তাদের ঠিকানা। শেষ ঠিকানা কোথায় হবে তা সৃষ্টিকর্তা ব্যতিত আর কেউ জানেনা। এত কিছুর অভাব থাকলেও এ দেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি কিংবা দেশপ্রেমের কোন ঘাটতি আছে বলে মনে হয়না। আর এই প্রচন্ড আবেগ, অনুভূতির সঠিক চর্চাই হয়ত একদিন দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলায় রূপদান করবে।

দেশকে নিয়ে যুগে যুগে অজস্র কবিতা, গান, উপন্যাস রচিত হয়েছে। এতটা আবেগী দেশের গান পৃথীবির অন্য কোন দেশে আছে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ। গানগুলো যত শুনি তত শোনার আগ্রহ তৈরি হয়। বেশিরভাগ গানেরই কথা ও সুর হৃদয় ছুয়ে যায়। “ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা; তোমাতেই বিশ্বময়ীর তোমাতেই বিশ্বমায়ের আচল পাতা—–” এ গানটিতে কি এমন মধূ মাখা আছে জানিনা, দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধের মত মোহাছন্ন করে বলে আমার বিশ্বাস। ” জন্ম আমার ধন্য হল মাগো এমন করে আকূল হয়ে আমায় তুমি ডাকে—–া” এ গানটি শুনলে মনে হয় সত্যি এ দেশে জন্ম নিয়ে আমি ধন্য। এ দেেেশর মাটি, পাহাড় -পর্বত, নদ-নদী সবই আমাকে ধন্য করেছে। ” একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল আমাকে তুই বাউল করে সঙ্গে নিয়ে চলৃ—–” গানটি প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক মানুষকে কল্পনার জগতে ভাসিয়ে দেয়। এরকম অসংখ্য হৃদয় ছোয়া গান যতদিন বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে ততদিন বেঁচে থাকবে। কিন্তু এসব কিছুরও উর্দ্ধে হচ্ছে আমাদের জাতীয় সংগীত। জাতীয় সংগীতের সাথে দেশপ্রেমের পাশাপাশি শ্রদ্ধার বিষয়টি ও জড়িত। পরম শ্রদ্ধায় আমরা এই গানটি গেয়ে থাকি।

২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহীর সহযোগিতায় “লাখো কন্ঠে সোনার বাংলা” পরিবেশনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হয়। প্রায় তিন লক্ষাধিক লোক ঐদিন জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গিনেচ বুক অব ওয়াল্ডে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দেশের মানুষকে এক সুতোয় বাধার এবং মানুষের দেশত্ববোধকে শানিত করার এটি একটি মহান প্রয়াস বলে আমার মনে হয়। আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষ প্রকৃত দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হলে সব ধরনের অন্যায়, অত্যাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক হবে তখন দেশ কিছুতেই পিছিয়ে থাকবে না। আসুন আমরা সবাই দেশপ্রেমে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে কাংখিত লক্ষ্যে পৌছে দেয়ার অগ্রযাত্রায় নিজেকে শামিল করি।