ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে ফের শুরু হয়েছে সংখ্যালগু রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিধনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। রাখাইন সন্ত্রাসীদের সাথে একই কাতারে নাসাকা বাহিনীও। রাষ্ট্র যেখানে সন্ত্রাসী ভূমিকায় সেখানে ফলাফল সহজেই অনুমেয়। বাস্তুহারা হয়েছে শতশত রোহিঙ্গা, আহত নিহতের প্রকৃত চিত্র না এলেও সেটা যে ব্যাপক তা স্বয়ং মায়ানমার সরকারও স্বীকার করেছে। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানোর যেন কেউ নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের টেন্ডারওয়ালারা যেন দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে। এ গণহত্যা বন্ধে তেমন কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছেনা। যে মুহুর্তে নিজ দেশে দাউ দাউ করে জ্বলছে অশান্তির আগুন সে সময় অং সান সুচির হাতে উঠছে নোবেল শান্তি পুরস্কার। এথেকেই মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমাদের মনোভাব বুঝা যায়।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের উপরই চাপটা বেশী। কিন্তু আমাদের সে সামর্থ নেই যে এ বৃহৎ জনগোষ্টী কে স্থায়ী আশ্রয় দেয়ার, রসদ যোগানোর। এর উপর আগে থেকেই বৃহৎ একটি অংশ আমাদের উপর বোঝা হয়ে চেপে আছে। কিন্তু আমরা তাদের প্রতি সমর্থন, সহানুভূতি তো দেখাতে পারি, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারি আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষনে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয়দের নির্লিপ্ততা, যেন বাংলাদেশের উপর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নাদেয়ার দায় চাপিয়ে দিয়েই এদের দায়িত্ব খালাস। ও আই সি মায়ানমারে কার্যালয় খুলতে চেয়েছিল, মায়ানমার সরকার অনুমতি দেয়নি। এরপর তাদের আর কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। মুসলিম বিশ্বের নখদন্তহীন এ সংস্থাটির ভূমিকা যেন ওহ্‌ আই সি (Oh I see) তেই সীমাবদ্ধ। মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয়রা এখন পশ্চিমাদের পা চাটা দালালে পরিণত হয়েছে। তাদের পশ্চিমা প্রভুরা নাখোশ হতে পারে বলেই হয়তো প্রতিবাদী কোন কন্ঠ তাদের থেকে বের হচ্ছেনা। নইলে এক সৌদিআরবই পারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে। ও আই সি কি কিছু করবে, মুসলিম বিশ্ব কি কোন উদ্যোগ নেবে? নাকি এভাবে পুড়বে রোহিঙ্গারা ?
জরুরীভিত্তিতে কোন উদ্যোগ না এলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। স্বভূমে যাদের নিরাপত্তা নেই, পার্শবর্তী কোথাও যাদের আশ্রয় নেই, ক্ষুধা- দারিদ্র-নির্যাতনে জরাজীর্ণ এ মানুষগুলোকে উত্তাল সাগরে ছোট ছোট নৌকাগুলো কতক্ষণ ধরে রাখবে?