ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

মাঝে মাঝে খুব আফসোস হয় কেন যে প্রবাসে এলাম, শাহবাগের গণজাগরণ দেখে আবারও আফসোসটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। দেশে এক অভূতপূর্ব মহাকাব্যিক আন্দোলন চলছে আর আমরা কত দূরে বসে আছি। জাতি আজ একাত্তরের হায়েনাদের বিচারে একাত্ন, একীভূত। গুটিকতক হায়েনা ও তাদের দোসর ছাড়া আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, সকল মতের, সকল ধর্মের,সব মতাদর্শের মানুষের একীভূত কন্ঠ হয়ে উঠেছে আজকের শাহবাগ। ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন রাজিব হায়দার নামে এক ব্লগার, যিনি ধর্মকারী ডট নেট নামে এক ব্লগে লিখতেন। অবশ্য ধর্মকারী ডট নেট নামের পর্ণো সাইটটির সস্তা চটি গল্পগুলোকে ব্লগের মর্যাদা দিলে রাস্তার চটি গল্পকাররা বাংলা একাডেমীর বই মেলায় স্টল বরাদ্দ চাইবে। ধর্মকারীর প্রথম পৃষ্টায় বলা হয়েছে, রাজীবকে হত্যার আগে সোনার বাংলা নামে জামায়াতী ব্লগটিতে ‘শাহবাগ আন্দোলনের পিছনের মানুষদের চিনে নিন’শিরোনামে রাজিবের বিভিন্ন নাস্তিকীয় লেখা তুলে ধরা হয়। এরপর হত্যা করা হয় রাজিবকে। সোনার বাংলা ব্লগের লেখা এবং রাজিব হত্যা দু’টির মাঝে কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। রাজিবের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানা ছিল জামায়াতের,তাই কি রাজীবকে বেছে নেওয়া হয়? যাতে জামায়াতের চিরাচরিত নিয়মে একটি ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে শাহবাগের আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন বলে প্রপাগান্ডা চালানো যায়। তবে যথাসময়ে সাহসী উচ্চারণ এসেছে শাহবাগ থেকে ‘এই আন্দোলন কোন ধর্মের বিরদ্ধে নয়, গণজাগরণ মঞ্চে কেবল ইসলাম ধর্মই নয়,অন্য কোন ধর্ম কিংবা মতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কিংবা ঘৃণা উচ্চারিত হয়নি, হচ্ছেনা, হওয়ার কোন কারণ নেই’। আশা করা যায়, জামায়াতের এ চক্রান্তও অনেকটাই ব্যর্থ।
সকলের মনে রাখতে হবে রাজীব ব্যক্তিগতভাবে কি ছিলেন সেটা শাহবাগ আন্দোলনের মুখ্য বিষয় নয়,শাহবাগে যারা সমবেত হয়েছেন, সারাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন সকলের একীভূত কন্ঠের দাবী যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি।