ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

যে ক’টি ইসলামী পরিভাষার এখন খুব বেশী অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ হচ্ছে, তন্মধ্যে বিদআত, তাসাউফ ও জিহাদ অগ্রগন্য বলে আমি মনে করি।
আমি এ বিষয়গুলোর শাস্ত্রীক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে যাচ্ছিনা, শুধু প্রায়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করব।
প্রথমতঃ বিদআত
এ শব্দটি খুব বেশী ব্যবহৃত হয় পরস্পরের সাথে মতানৈক্যে রত দুই বিবদমান গ্রুপের মধ্যে। এটি সাধারণ, এরপরে শুরু হয় কুফরী ও শির্কের প্রয়োগ। হাদীস শরীফের ভাষ্যানুযায়ী, ‘প্রত্যেক নতুন আবিস্কার বিদআত, প্রত্যেক বিদআত ভ্রান্তি এবং এর ঠিকানা জাহান্নাম’। বর্তমান আধুনিক যুগে হাজারো আবিস্কারের ভীড়ে এসব আবিস্কার এড়িয়ে চলা কি সম্ভব? অবশ্যই না। রাসূলুল্লাহ(দ.)এর বাণী ‘কুল্লূ বিদআতিন দালালাহ’ এর ব্যাখ্যায় আল্লামা নবুবি (র.) বলেন,এটি আ’মে মাখচুচ বা সীমিত ব্যাপক। এ হাদীসে উল্লেখিত বিদআত হচ্ছে-সেসব নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি যার শুদ্ধতার পক্ষে শরিয়তে কোন প্রমাণ মেলেনা.(সুনানে নাসাঈ এর টিকা )।
( যারা কুল্লূ শব্দটির দলিলসমেত বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চান পড়ুন-ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত ড, আল্লামা ইউসুফ আল রেফায়ী রচিত,ড,আব্দুল্লাহ আল মারুফ অনুদিত ”মহানবী (সা.) এর মর্যাদা” বইটি। এখানে স্বল্প পরিসরে এর বিশদ ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়)।
সুতরাং বলা যায়,কুল্লূ শব্দটির মধ্যে সব বিদআত অন্তর্ভূক্ত নয়। যা স্বয়ং রাসূলে আকরাম (দ.) অপর এক হাদীসে বিশ্লেষণ করেছেন। যে হাদিসকে ওলামায়ে কেরাম বিদআত এর প্রকরণের দলিল হসেবে পেশ করেন। এটাকে বলা হয় তফসিরুল হাদীস বিলহাদিস। আসুন সে হাদিসখানা দেখে নিই:
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন,রাসূল (দ.)বলেছেন -ইসলামে কেউ সুন্নতে হাসানাহ বা উত্তম রীতি চালু করে, তারপরে ওই রীতির উপর আমল করা হলে এর জন্য আমলকারির সমপরিমাণ সাওয়াব প্রবর্তনকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে,এতে আমলকারির সাওয়াব কম হবেনা.আর যে ইসলামে সুন্নতে সাইয়ীআহ বা খারাপ রীতির প্রবর্তন করে,পরে তার উপর আমল করা হয়,তবে প্রবর্তনকারীর আমলনামায় আমলকারির সমপরিমাণ গুনাহ লিপিবদ্ধ হবে,এতে আমলকারীদের গুনাহ কম করা হবেনা। (মুসলিম শরীফ)
উপস্থাপিত হাদীসে যে মুহদাসাতুল উমূর বা নতুন রীতির আলোচনা হয়েছে তা এই হাদীসে রাসূল (দ.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভাল-মন্দ দু’ভাগে ভাগ করে দিয়ে। যে বিদআত দালালাহ বলা হয়েছে , তা ওই মন্দ আবিষ্কার। এ থেকেই ওলামায়ে কেরাম বিদআত কে দু’ভাগে ভাগ করেছেন-হাসানাহ ও সাইয়ীআহ।
অন্য এক হাদীসে এটাকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে-
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন-রাসূলে আকরাম (দ.) ফরমান-”মান আহদাসা ফি আমরিনা হাজা ফালাইসা মিনহু ফাহুয়া রদদুন অর্থাত্ যে লোক আমার এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে ,যা মূলত এর অন্তর্ভুক্ত নয়-তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
এই হাদীস প্রমাণ করে -এমন কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবন হতে পারে,যা দ্বীনের প্রয়োজনে ব্যবহার হবার অধিকার রাখে এবং তা পরিত্যাজ্য নয়। পরিত্যাজ্য তাহাই যা দ্বীনে অন্তর্ভুক্ত হবার অধিকার রাখেনা। প্রকরণ কী স্পষ্ট হল?
ইমাম শাফেঈ (রা) ও বিদআত কে মাহমূদাহ,মাজমূমাহ (নন্দনীয় ও নিন্দনীয়) দু’ভাগে ভাগ করেছেন।
সুতরাং বলা যায়,রাসূল (দ.)এর পরে ইসলামে নতুনভাবে হালাল-হারাম এবং ফরজ -ওয়াজিবের বিধান সংযোজন করা ,হালালকে হারাম ও হারাম কে হালাল বানানো,কুরান-সুন্নাহ বিরুধি কোনও রীতি-নীতি ও পদ্বতির প্রচলন বিদআতে সাইয়ীআহ বা সুন্নতে সাইয়ীআহ বা দালালাহ বা গুমরাহি এবং তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
পাশাপাশি সুন্নতে হাসানাহ প্রচলনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর জন্য সওয়াবের ঘোষণা দিয়ে একে উৎসাহিতও করা হয়েছে। এজন্যে মুহাদ্দিসিনে কেরাম,আইম্মায়ে মুজতাহিদীন বিদআত সম্পর্কিত ওই হাদিসকে একতরফা ও ঢালাওভাবে ব্যবহার করেননি।
আরও দু’য়েকটি দলিল দেয়া যাক:
রমজানে তারাবীহ’র নামায জামাতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা প্রচলন করার সময় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) বললেন-নে’মাল বিদাতু হা-জিহী অর্থাত্ এটা কত ভাল বিদআত। কী জবাব দেবেন হযরত ওমর (রা.)এর এই ঘোষণা দিয়ে বিদআত প্রচলন করাকে ? যে ওমর (রা.) কে স্বয়ং রাসূলে আকরাম (দ.)ইসলাম ও ফিতনার মদ্যকার পর্দা বলেছেন। আর সব বিদআত যদি দালালাহ হয়, তবে কী সিদ্ধান্ত হবে এই বিদআত এর ব্যাপারে ?
অন্য একটি হাদীস বুখারী শরীফে বাবুল উমরাহ’য় মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন -আমি এবং উরওয়া ইবনে জুবায়ের মসজিদে নববীতে প্রবেশ করি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কে হযরত আয়েশার (রা.) হুজরার সামনে বসা দেখি এবং দেখতে পাই- কিছু লোক মসজিদে সালাতুদ দুহা বা চাসতের নামায পড়ছে। আমি তার নিকট এভাবে নামায পড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন বিদআত।
চাসতের নামায তো সুন্নাত যা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তিনি নামাজীদের মসজিদে প্রকাশ্যে চাসতের নামায আদায় করতে দেখে বিদআত বলেছেন কেননা রাসূলে পাক (দ.) দু’য়েকবার চাসতের নামায মসজিদে আদায় করলে ও সাধারনত ঘরেই আদায় করতেন। এ থেকে বুঝা যায়, সাহাবায়ে কেরামের জমানায় ও বিদআত শব্দটির এভাবে আপত্তিকর ব্যবহার ছিলনা। এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিবর্গ বিদআত কে ঢালাওভাবে দালালাহ বা গুমরাহী অর্থে ব্যবহার করতেননা। যদি তা পরিত্যাজ্য হতো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) নিশ্চয়ই তাদের বাঁধা দিতেন।
একটু যুক্তির বিচারেও বিষয়টি ভাবতে পারেন। যেমন ধরুন, যারা এ মুহুর্তে আমার এ লেখা পড়ছেন তারা – কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, যা রাসুলে আকরাম (দঃ) এর সময়ে তো কেউ কল্পনাও করেনি এবং তা নিঃসন্দেহে বিদআত। ঐসব কাঠমোল্লাদের ভাষ্যানুযায়ী সব বিদআত যদি ভ্রান্তি হয়, তাহলে আমরা সবাই কি এই কম্পিউটার- ইন্টারনেট ব্যবহার করে জাহান্নামকে নিজেদের বাসস্থান বানিয়ে নিচ্ছি। কোরান মজীদে হরকত (যের, জবর, পেশ ইত্যাদি) যোগ করা হয়েছে খলিফা ওয়ালিদের সময়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পৃষ্টপোষকতায়, যা নিঃসন্দেহে বিদআত। তাহলে আমরা কী হরকতযুক্ত কোরান মজীদ তিলাওয়াত করে বিদাতে রত থেকে নিজেদের জাহান্নামী বানাচ্ছি।
তাই বিদআতের ঐ প্রকরণই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। আধুনিক আবিস্কার ও অনুষ্টানের, যা ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তা গ্রহণযোগ্য হতে বাঁধা নেই। আর যা ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
যারা ঢালাওভাবে ইসলামের বিভিন্ন মর্মবাহী অনুষ্টান যেমনঃ শবে বরাত, মিলাদুন্নবী (দঃ) কে বিদআত সাব্যস্থ করতে চান, তাদের মনে রাখা উচিৎ – যে টেলিভিশনের টক শোতে বসে তিনি বিদআতের ফতোয়া দিচ্ছেন, এই অনুষ্টান সেই টেলিভিশন আবিষ্কারেরও অনেক আগের। মিলাদুন্নবী (দঃ) পালন করা যদি বিদআত হয়, তবে টেলিভিশনের টক শো, কম্পিউটার ইন্টারনেট, ফেসবুকের রঙচঙ্গা পোস্টার- এগুলো কী?
এদের কাছে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে র‍্যালী করা বিদআত, কিন্তু ক্ষমতার লোভে মিছিল-মিটিং-ভাংচুর চালানো বিদআত নয়। সম্মিলিতভাবে জিকির করা বিদআত, শবে বরাতের ইবাদাত করা বিদআত, কিন্তু বিশ্ব ইজতেমা বিদআত নয়। কি হাস্যকর যুক্তি।
প্রকৃতই বর্তমান সময়ে আমরা কেউ বিদআতমুক্ত নই, তাই বিদআত শব্দের যথেচ্ছ উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার অবশ্যই মুসলমানদের মধ্যে ফেতনা ছড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা যারা বিদআত শব্দের প্রকরণ মানি- বিদআতে হাসানাহ কে স্বাগত জানাই, বিদআতে সাইয়্যেয়াহ কে এড়িয়ে চলি। আর যারা বিদআতের প্রকরণ মানেননা, তারা কী সব বিদআত এড়িয়ে চলছেন? না চললে নিজেদের ফতোয়ায় তারা নিজেরাই সবচেয়ে বড় গোমরাহ।
দ্বিতীয়তঃ তাসাউফ
ইলমে তাসাউফ বা ইলমে মারেফাত বা সুফীবাদ কিংবা আধ্যাত্নবাদ। অনেকে বলেন, রাসুলে পাক (দঃ) এর কাছে অবস্থানকারী সংসার বিরাগি আহলে সুফফা থেকে সুফীবাদের উৎপত্তি। সংসার বৈরাগ্য যদিওবা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নয় তথাপিও আল্লাহ্‌র রাহে জীবন উৎসর্গকারী সুফীদের অবদান ইসলামের প্রসারে অনেক। মূলত আরব বিশ্বের বাইরে ইসলামের প্রসারে এই সুফী সাধকরাই রেখেছেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা। এই পাক-ভারত উপমহাদেশে আমরা ইসলাম পেয়েছি হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রঃ), শাহজালাল ইয়ামানী (রঃ), কুতুবুদ্দীন বখতেয়ার কাকী (রঃ), নুর কুতুবুল আলম (রঃ), শাহ আমানত (রঃ), শাহচাঁন্দ আউলিয়া (রঃ) সহ অসংখ্য সুফী সাধকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। আধ্যাত্নিকতা বা আত্নশুদ্ধি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা এবং এর চর্চা ও অনুশীলনই সুফীবাদের মূলমন্ত্র।
তবে একথা অস্বীকার করার জো নেই, স্পেনের আলহামরা যেমন হারিয়েছে তার মূল মালিক তেমনি আজ সুফীবাদও হারিয়েছে তার মূল ধারকদের। হাতে গোনা কিছু লোক ছাড়া আজ অন্যান্যদের কাছে আধ্যাত্নিকতাও একটি শব্দ মাত্র। এ প্রসঙ্গে ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা’র সভাপতি শায়খ হিশাম কাব্বানী’র একটি উক্তি উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছেন- “রাসূলে পাক (দ:)-এর সময় তাসাউফ ছিল একটি বাস্তবতা যার কোনো নাম ছিল না। আজকে তাসাউফ হলো একটি নাম, কিন্তু এর বাস্তবতা সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন”।
তাই দেখা যায়, সুফী ও আউলিয়ায়ে কেরাম যে শিক্ষা আমাদের দিয়েছিলেন, সে শিক্ষা থেকে আমরা দূরে সরে গিয়ে নিছক কিছু অনুষ্টানাদির মাঝেই তাসাউফ খুঁজছি। তাসাউফের নামে ভন্ডামি ও অনৈসলামিক কর্মকান্ডে আজ চারদিক সয়লাব।
তাই আল্লামা ইকবালের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করে-
“ রছম আছে আজানের, নেই সেই বেলালী সুর,
দর্শন আছে তবে গাজ্জালীর শিক্ষা তো আজ বহুদূর”।
তাসাউফের মূল শিক্ষা থেকে আমরা বিচ্যুত হয়েছি বলেই আজ মাজার সমুহে নারী-পুরুষের অবাধ সম্মিলন ও সিজদার মত হারাম কাজগুলো সংঘঠিত হচ্ছে। আর তাসাউফ বিরোধীরা এটাকে কাজে লাগিয়ে মাজার ও আউলিয়ায়ে কেরামের বিরুদ্ধে কুৎসায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বোধ করছি, তা হলঃ মাজারে যারা সিজদা করছে তারা একটি হারাম কাজ করছে এবং কবীরা গুনাহ করছে, শির্ক নয়। কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটাকে শির্ক সাব্যস্থ করে ঢালাওভাবে সব মাজার জিয়ারাতকারীদের কবরপূজারী, মুশরিক বলছেন, যেটা অবশ্যই নিন্দনীয়। কোরআন মজীদে আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্য ও ইবাদাতের সিজদা ছাড়াও আরেক প্রকার সিজদার উল্লেখ আছে, তা হলঃ সম্মানার্থে সিজদা যেমনঃ ফিরিশতা কর্তৃক আদম (আঃ) কে সিজদা, পিতা ও ভাইদের কর্তৃক ইউসুফ (আঃ) কে সিজদা। এই তাজিমী সিজদা শরীয়তে মুহাম্মদীতে হারাম বা নিষিদ্ধ। সুতরাং যারা এই সিজদা করে বা করতে দেয় তারা হারাম কাজে রত। তাদের মুশরিক আখ্যা দিয়ে দূরে ঠেলে দেয়া কোন মুসলমানের কাজ হতে পারেনা। আর এসবই হচ্ছে তাসাউফ সম্বন্ধে আমাদের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে। এখানে ইমাম মালিক (রঃ) এর একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন।“ যে ব্যক্তি ফিকহ শিক্ষা ছাড়া তাসাউফ অর্জন করে সে জিন্দিক বা অবিশ্বাসী। আর যে ব্যক্তি তাসাউফ ছাড়া ফিকহ অর্জন করল, সে ফাসিক তথা সত্যত্যাগী। আর যে ফিকহ ও তাসাউফ উভয় প্রকার ইলম শিখল, সে মুহাক্কিক তথা প্রকৃত ইলম শিখল”। আল্লাহ পাক আমাদের ঈমান ও আক্বীদা রক্ষা করুন।
তৃতীয়তঃ জিহাদ
সুন্নীদের মধ্যে একটি অংশ যেমন তাফাউফের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ভন্ডামীতে রত, তেমনি ওয়াহাবীদের একটি অংশ জিহাদের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ভন্ডামী ও স্বার্থসিদ্ধিতে রত। এরাই বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ছড়িয়েছে। এই জঙ্গীদের কারণে আজ পাকিস্থানে মসজিদে যেতে পর্যন্ত মানুষ ভয় পায়। আফগানিস্তানের তালেবান, পাকিস্তানসহ বিশ্বব্যাপী আল কায়েদা, বাংলাদেশের হরকতুল জিহাদ, জমিয়তুল মুজাহিদীন, লিবিয়া ও সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সবই একই ঘড়ানার। এরা সবাই ওয়াহাবী মতাদর্শের ধারক। মুখে ইসলামের বুলি আওড়ালেও ইমামত ও খিলাফত বিরোধী সৌদী রাজতন্ত্রের প্রতিই এদের আনুগত্য। জিহাদ শব্দটি আজ তাদের স্বার্থসিদ্ধির প্রধান হাতিয়ার। বোমা মেরে নিরপরাধ মানুষ খুনের সময়ও তাদের মুখে জিহাদ শব্দ শোনা যায়। এই তথাকথিত জিহাদীদের সাম্প্রতিক আবিস্কার সিরিয়ান বিদ্রোহীদের যৌন জিহাদ।
ফেতনার এই যুগে সবচেয়ে বেশী যেটি দরকার তা হল আত্নশুদ্ধি, যেটি তাদের মাঝে সমূলে অনুপস্থিত।
মুসলিম মিল্লাতের এ চরম দুঃসময়ে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলঃ আত্নশুদ্ধি ও ঐক্য। ইসলামের নাম দিয়ে ভন্ডামি, শির্ক- বিদআতের অপবাদ দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে হানাহানি-ফিতনা ছড়ানো, সহীহ হাদীসের দোহাই দিয়ে মাজহাব বিমুখ করার অপচেষ্টা করা- এগুলো ইহুদী-নাসারাদের ইসলাম বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ছাড়া আর কিছুই নয় । যত তাড়াতাড়ি আমরা এটা বুঝতে পারব ততই মঙ্গল, আমাদের ও মুসলিম মিল্লাতের।