ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি ঘোষণা অনুমোদন করা হয়। যেটি সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) বা মানবাধিকার সনদ নামে পরিচিত। এ সনদের ১৩ নং অনুচ্ছেদ বলা অাছে নিজ রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে৷  এছাড়াও অন্যান্য অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত, রাষ্ট্রীয়,  সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে উপযুক্ত কথা বলা হয়েছে। সবই ঠিক,  সমস্যা হলো অামার যদি রাষ্ট্রই না থাকে, নাগরিকত্বই না থাকে তবে অামার কিসের অধিকার। অামি রাষ্ট্র চাই, নাগরিকত্ব চাই। মিয়ানমারের ওদের কথা বলছি। পৌরনীতিতে পড়েছি – নাগরিক হলো তারা, যারা রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে। রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করে। রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। বিশ্বের সব মানুষ কোনো না কোনো দেশের নাগরিক। আমাদের জন্ম বাংলাদেশে। তাই আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এসব জানাশুনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার, বিশ্বের নেতাসহ জাতিসংঘ সঠিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে।

ভাসমান রোহিঙ্গা

ইতিহাস বলছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে। সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যীয় মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানীদের সংমিশ্রণে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব। পরবর্তীতে চাঁটগাইয়া, রাখাইন, আরাকানি, বার্মিজ, বাঙালী, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষদের মিশ্রণে উদ্ভুত এই সংকর জাতি ত্রয়োদশ-চর্তুদশ শতাব্দীতে পূর্ণাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পঞ্চদশ শতাব্দী হতে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত আরাকানে রোহিঙ্গাদের নিজেদের রাজ্য ছিল। অন্যদিকে মিযানমার সরকার বলছে এরা হল ভারতীয়, বাঙালী ও চাঁটগাইয়া সেটলার যাদেরকে ব্রিটিশরা আরাকানে এনেছে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠত যে, ব্রিটিশরা বার্মায় শাসক হিসেবে আসার কয়েক শতাব্দী আগে হতেই রোহিঙ্গারা আরাকানে পরিষ্কার জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত  হয়েছিল।

নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অসহনীয়  নির্যাতনের শিকল থেকে মুক্তি পেতে ঢুঁ মারছে বাংলাদেশে, পাড়ি দিচ্ছে সাগর যাবে ইন্দোনেশিয়া। সীমান্তে থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে, সাগরে ডুবে মরছে। শুধু কি তাই, মিয়ানমারে নির্যাতনকারীদের বর্বরতা পরিসংখ্যান শরীর শিহরিত হওয়ার মত। শিশুদের যেমন হত্যা করছে তেমনি রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে।

একথা সত্য যে, সামরিক জান্তা থেকে মুক্তি পাওয়া একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমাকে অান্তর্জাতিক ভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটিও ভেবে দেখা দরকার মিয়ানমার সরকারকে। ইতিমধ্যে সুচির নোবেল তুলে নেয়ার জন্য কথা তুলছে বিভিন্ন মহল থেকে।

রোহিঙ্গা সমস্যা এখন শুধু  মিয়ানমারেরই সমস্যা নয় এ সমস্যা বর্তমান বিশ্বের তাই বিশ্ব নেতাদেরকে নজর দিতে হবে। কারণ রোহিঙ্গারা একসময় নির্যাতনে প্রতিবাদী হয়ে প্রতিবাদের অবৈধ পন্থা গ্রহণ করবে, ইতিমধ্যে কিছু সংগঠনের নাম শুনা যাচ্ছে। এবং মধ্যপ্রাচ্যের দম্ভভরে চলাচলকারী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি অাইএস মিয়ানমারকে নিয়ে কি ভাবছে তাও চিন্তার বিষয়। এভাবে চলতে থাকলে  সমাধানের পথে না এগুলে  মিয়ানমারের যেমন পরিণাম খারাফ হবে তেমনি সারা বিশ্ব  ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সব শেষে  বিশ্বের সকল সংগঠন, সংস্থা, জোট, লীগসহ  নেতা-নেত্রী, কর্ণধার, পরিচালকদের বাংলা লালনের ভাষায় বলতে চাই ’সময় গেলে সাধন হবে না’।