ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বাংলাদেশের অন্যান্য সাধারন মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবার থেকে আমার পরিবারটাও আলাদা না। আমি সেই পরিবারেরই একজন সদস্য এবং এই ধর্মটাও পারিবারিক সূত্রে পাওয়া। আমি কখনই খুব বেশি ধার্মিক ছিলাম না। পাচ ওয়াক্ত নামাজও কম পরেছি। কিন্তু এক ঈশ্বরে বিশ্বাস ঠিকই ছিল। নামাজ না পড়ার কথা মনে হলে, কোন ভুল করলে অথবা কোন বিপদে পড়লে আল্লাহকে ঠিকই স্বরন করতাম আর এখনও করি। জানিনা কেন! তবে ছোটবেলা থেকেই আমার পরিবার আমাকে শিখিয়েছে এবং বইতে পড়েছি যে, আল্লাহকে দেখা যাবে না, তাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে তিনি আমাকে দেখছেন। তার অস্তিত্ব নিয়ে কোন কথা বলা বা চিন্তা করাও যাবে না। তাহলে আমার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। অন্ধের মত তাকে বিশ্বাস করতে হবে, তিনি সর্বদা বিরাজমান ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। হয়ত সেই আনন্দ আর অপরাধবোধে আল্লাহকে স্বরন করা আমার অবচেতন মনের। যা আমার চিন্তার ভিতরে ঢুকিয়ে দাওয়া হয়েছে। এই ভাবনাগুলো আমার নিজের। আমি নিজে থেকে এর উত্তরও বের করার চেষ্টা করেছি। উত্তরটা এমন যে, “আমরা যদি ধর্মটাকে একটা সিলেবাস হিসেবে ধরি তাহলে সবই সহজ। আর কোন নিয়ম পালন করতে হলে-তো সেই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা, একনিষ্ঠা প্রয়োজন এবং তার সাথে বিশ্বাস।“ এতে কিন্তু ভাল থাকা যায়। অন্তত আমি ভাল থাকতে পেরেছি।

এখন নাস্তিক্যবাদ নিয়ে অনেক কথা উঠছে। কিছু কিছু মানুষ নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয়ও দিচ্ছে। যারা এক সময় যথেষ্ট ধার্মিক ছিল অথবা তারা নিজেরাই সেটা দাবি করে। আমি প্রথম প্রথম তাদের কথা মন দিয়ে শুনতাম। তারা সব সময় যুক্তি তর্কের সাথে ধর্মের ভুল গুলো তুলে ধরছে। কিন্তু তার সাথে সেই ত্যাগ করা ধর্মকে ব্যঙ্গ করতেও পিছপা হয়নি। আমি ভাবতাম এটা হয়তো ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ব্যঙ্গ করে হয়ত সেই একজন-দুজন মজা পাচ্ছে অথবা তারা এভাবেই কথা বলে। কিন্তু না তারা সবাই সেটা ইচ্ছাকৃ্ত ভাবে বুঝে-শুনে করছে। তারা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে কথা বলছে, পবিত্র কোরআনকে একজন মানুষের কাব্যগ্রন্থ বলছে। সেটাকে তারা যেন-তেন ভাবে ব্যবহার করছে। কিছু কিছু সূরার আয়াতকে বিকৃ্ত ভাবে বলছে। তাদের প্রতিটা কাজে তারা বুঝাতে চায় তারা নাস্তিক। কিন্তু কেন? কেন তারা এরকম ভাবে ধর্মের পিছনে লাগে? যারা এই ধর্মকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না তারা সেটা ত্যাগ করতে পারে। কেন তাদের এই ধর্মের প্রতি আর আস্থা নাই সেটাও তারা ব্যাখা করতে পারে। কিন্তু সেটার মধ্যে কেন ব্যঙ্গ ব্যাপারটা নিয়ে আসতে হবে? কেন সেটার উপর বারবার আঘাত করতে হবে? আমরা সবাই নিজ নিজ ধর্মকে সেরা ভাবি আর সেই সাথে অন্য ধর্মকে তাচ্ছিল্য করি। আমার মতে সেটা আমাদের ভুল এবং এই ভুল শিক্ষাটা পেয়েছি পরিবার আর বই থেকে। আসলে বই আমাদের ভুল শিখায়নি আমরা ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছি অথবা বুঝেছি। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই মানে এই নয় মুসলমান হিন্দু সৎ ভাই। যাকে তাচ্ছিল্য করতে হবে। কিন্তু নাস্তিক যারা তারা-তো ধর্মের উর্ধে(!)। তারা কেন ধর্মকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করে যুক্তি তর্কে যাবে? কারণ এখনো ইসলাম ধর্মের অনেক অনুসারী আছে। তাদের মূল্যবোধে আঘাত লাগতে পারে। এই কথাটা কি তাদের মনে থাকে না? আর আমার জানা মতে, অন্যকে কষ্ট দেওয়া, মিথ্যা বলা অথবা মানব জাতির জন্য যা ক্ষতিকর তা করা সব ধর্মেই নিষেধ করা। আর খারাপ-ভাল ব্যাপারটাতো বিবেগ দিয়ে বুঝার ব্যাপার। তাহলে কেন আস্তিক অথবা নাস্তিক হয়ে বুঝাতে হবে? (তাহলে-তো নাস্তিক নাস্তিক ভাই ভাই!) ঐ একই বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া।