ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

আমরা কী এভাবেই পথ চলতে থাকবো ? এমন বন্ধুর – কন্টকাকীর্ণ পথে চলা হয়তো যায় – এগুনো সম্ভব নয়। রাজনীতি নিয়ে বর্তমানে আমার কোন আগ্রহ নেই। আমি কেন – আমার মতো অনেক সাধারন নাগরিক রয়েছেন – যারা এ’দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদগনের প্রতি আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। যদিও এই অনাগ্রহ কোন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য হীতকর নয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের আশা – হতাশার প্রতিফলন রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতর থাকবে – এটাই স্বাভাবিক। অথচ আমরা দেখছি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রূপ। এখানে জনগণের চাওয়া – পাওয়া, আশা – আকাঙ্খার সাথে দলগুলোর চাওয়া – পাওয়া, আশা – আকাঙ্খার বিস্তর ফারাক খুব সহজেই ইন্দ্রীয় গোচর হয়। পঞ্চন্দ্রীয় – চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা ও ত্বক। চক্ষু দিয়ে প্রতিনিয়ত দেখছি – গুম, হত্যা, নাশকতা ইত্যাদি। কর্ণ দিয়ে শুনছি – অশ্রাব্য গালাগালি, নির্লজ্জ মিথ্যাচার। জিহ্বায় স্বাদ নিচ্ছি প্রতিনিয়ত – ফরমালিন, কার্বাইড, কার্বনেট ইত্যাদি।নাসিকা যন্ত্রে গাড়ি – মানুষ পোড়ানোর গন্ধ আসছে প্রতিটি দিন আর ত্বক, সে তো নিজেই ঝলসে যাবার আতঙ্কে আতঙ্কিত। বর্ণিত সমস্ত যেন জন সাধারনের পাওনা, রাজনীতিবিদগণের নয়। বাস্তবতা হলো, কেউ এই বীভৎসতা থেকে নিস্তার পায় নাই। ইতিহাসের ইতিহাসে এমন অজস্র ইতিহাস রয়েছে।

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইজাক নিউটনের একটি অতি প্রচলিত তত্ব রয়েছে, “প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।“ এই তত্বটি যে শুধুমাত্র বস্তু জগতের জন্য সত্য তা নয়, মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি জীব ও জড়ের জন্যও তা’ প্রযোজ্য। “ইটটি মারলে পাটকেলটিও খেতে হয়”। বুমেরাং মারলে তা মারনেওয়ালার কাছে ফিরে আসবেই। আমাদের রাজনীতিবিদগণ সকলেই বৈচিত্রময় শিক্ষায় শিক্ষিত। উনারা সকলেই ইতিহাস জানেন, নিউটনের তত্ব সন্মন্ধেও বিষদ জ্ঞান রাখেন। তবুও উনাদের কর্মকান্ডে দূরদর্শীতার মারাত্মক অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এ’ কী স্বেচ্ছায় না অনিচ্ছায় – তা বোঝা বড়ই দুস্কর।

তারপরেও আমরা আশাবাদী। আমরা এমন চমৎকার একটি জাতি – শত নির্যাতন নিপীড়নের মাঝেও হাসতে জানি – সুন্দর স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসী। আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি, আমাদের দেখা স্বপ্ন সমূহ বাস্তবতার মুখ দেখবেই। সুন্দর একটি পঙক্তি দিয়ে শেষ করছি –

“অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
সেই তো তোমার আলো !
সকল দ্বন্ধবিরোধ – মাঝে জাগ্রত যে ভালো
সেই তো তোমার ভালো।।“