ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

‘আমি কেবলই স্বপন করেছি বপন বাতাসে –‘

সুন্দর স্বপ্ন দেখতে কে না ভালোবাসে ! আমিও খুব ভালোবাসি। তবে ঘুমিয়ে দেখার চেয়ে জেগে দেখতে বেশী ভালো লাগে। কারণ হল – জেগে স্বপ্ন দেখার স্টিয়ারিংটির নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেই থাকে। প্রথম দিকে আমার স্বপ্নের কথা কাছের কারো কারো সাথে শেয়ার করতাম। বিপরীতে তারা আমার দিকে এমন অদ্ভুত ভাবে চেয়ে থাকতেন, যেনও ভয়ঙ্কর হিংস্র কোন প্রাণী দেখছেন, এখুনি কামড়ে দিবে। স্বজনদের ভাবনা ছিলও, ‘ও শেষ হয়ে গিয়েছে, কিচ্ছু হবে না একে দিয়ে।’ এর পর থেকে আর করো সাথে এ’ বিষয়ে কোন কথা বলিনি। কিন্তু আমার স্বপ্ন দেখা অব্যাহত রয়েছে। আজ তেমনি একটি স্বপ্ন সবার সাথে শেয়ার করতে খুব ইচ্ছে করছে ——-

পূর্বকার মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ সন্তান জনাব আরাফাত রহমান গত ২৪-১-২০১৫ ইং তারিখে শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় হৃদরোগে আক্রান্ত ইন্তেকাল করেছেন। বর্তমান মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সন্তান হারানো শোকাহত মা কে সমবেদনা জানানোর উদ্দেশ্যে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বি এন পি’র গুলশানের কার্যালয়ের সামনে আসেন। কার্যালয়ের গেইটটি ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রধানমন্ত্রী ভিতরে ঢুকতে পারেননি। ৭/৮ মিনিট অপেক্ষা করে তিনি ফিরে যান। এ’ সংবাদটুকু সংবাদপত্র থেকে পাওয়া। এতে রাজনীতি, কূটনীতি, সংবাদ নীতি কোনটি কিরূপে রয়েছে, আমি জানি না – জানার আগ্রহও নেই। এবার আমার দিবাস্বপ্নটি বলি –

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী মাননীয়া পূর্বকার প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের মৃত্যু সংবাদ পাবার সাথে সাথে পুত্র হারা মায়ের বেদনা নিয়ে ছুটে গিয়েছেন গুলশানের কার্যালয়ে। আগে থেকেই সেখানে হাজার হাজার বি এন পি ‘র নেতা কর্মীরা বিষণ্ণ বদনে জড়ো হয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ফটকে পৌঁছানো মাত্র বি এন পি ‘র শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছুটে আসলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য সহকারে ভিতরে নিয়ে যাবার জন্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পুত্রহারা পূর্বকার প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেন। দু’জনই অঝোরে কাঁদলেন কিছুক্ষণ – স্মৃতিচারণ করলেন। সন্তানের মৃত্যু সংবাদ মা’য়ের নিকট
কতটুকু হৃদয়বিদারক – উপলব্ধি করলেন – সান্ত্বনা দিলেন। বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন। কিয়ৎকাল পরেই একজন আরেকজনকে বললেন, ‘আচ্ছা, দেশে আজ একটি চরম সংকটকাল চলছে। প্রতিদিন নৃশংস ভাবে কত নিরপরাধী মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এদেরও তো মা আছে, বাবা আছে, সন্তান আছে – অনুভূতি আছে। আপনজনের মৃত্যুতে এরাও ব্যথিত হয়, অঝোরে কাঁদে। আসুন আমরা দু’জনাই (দু’টি দল) সিদ্ধান্ত নেই – আজ থেকে দেশে কোন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটতে দেয়া যাবে না। দু’জনাই এ’বিষয়ে একমত হলেন। প্রধানমন্ত্রী উঠে রান্নাঘরে গেলেন। একটি থালায় ডাল-ভাত আর খানিকটা লেবু চিপে ভালো করে মেখে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সামনে আসলেন। খালেদা জিয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মিত হাসলেন। মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী পূর্বকার মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে লোকমা দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছেন। দৃশ্যটি দেশের প্রত্যেকটি টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ টেলি কাস্ট হচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ টিভি’র সামনে বসে এ’ দৃশ্য দেখছে। সবার মুখে স্মিত হাসি – চোখে জল। এ’ জল আনন্দের – এ’ জল ভালোবাসার। নিস্তব্ধ বাংলাদেশ কাঁদছে।

হে বৃহৎ কবি – মহান ঠাকুর। তোমার তুল্য চেতনা-বোধ কার আছে জগতে ! তবুও আজ আমি তোমার বাণীর মাঝে ছোড়া বসাবই। আমি যে স্বপ্ন বিলাসী। এ’ আমার বড্ড সখ-আহ্লাদ।

‘তাই আকাশকুসুম করিনু চয়ন (তরাশে)’

আবু সালেহ্ মোঃ মোর্শেদ
২৫/১/১৫