ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
07_Road-Accident-Memorial_DU_010914_0032

ইদানিং হাইওয়ে দুর্ঘটনা নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে। কারণ ঈদের সময়টাতে অনেক প্রান ঝরে গেল এই সড়কে। যাদের আপনজন হারিয়েছে তাদের সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। আর কত প্রান গেলে আমাদের টনক নড়বে? খবরে ছবি দেখি, কষ্ট পাই, তারপর ভুলে যাই। আমাদের জনগন জীবনটাকে হাতে নিয়ে হাইওয়েতে ট্রাভেল করে। দেখলে অনেকে বলে এরা ত ক্রেজী। কিন্তু এদের প্রয়োজন তো তারা চিন্তা করেনা। ভালবাসার টানে জীবনের টানেই এরা ছু্টে যায়। ভালবাসার জন্যই জীবন দেয়। আর সরকার বা যাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব তারা শুধু তদন্ত কমিটি করে, আশ্বাস দেয়। এরই পুনরাবৃত্তি চলছে বছরের পর বছর ধরে।

সড়ক দুর্ঘটনা যে কত গভীরে প্রভাব ফেলে তার একটি উদাহারন আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেঃ মাগুরা থেকে কুষ্টিয়ার হাইওয়ের পাশে কোন এক গ্রামে অফিসের কাজে গিয়ে ছিলাম, বেশ আগে। রাস্তার একপাশের গ্রামে দেখলাম কোন শিশু স্কুলে যায়না অথচ কাছেই রাস্তার ওপারে স্কুল আছে। ওপারের গ্রামের সব শিশু স্কুলে যায়। আমার কাছে খটকা লাগলো এই গ্রামে শিক্ষার ব্যাপারে কি কোন কুসংস্কার আছে? কিন্তু না। খোজ নিয়ে দেখলাম ওপারে স্কুল হওয়ার পর গ্রামের সব শিশু স্কুলে ভর্তি হল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কিছু দিনের মধ্যে বেশ কজন বাচ্চা রাস্তা পার হতে গিয়ে মারা গেল। তার পর থেকে এপারের গ্রাম থেকে বাবা, মা এরা শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল। হাইওয়ে যেন একটি গ্রামকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিল।

আমি বলছি না হাইওয়ে খারাপ, যোগাযোগ তো উন্নতির প্রধান একটি সোপান। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখানে প্রাধান্য পায়না এটাই গুরুত্বপুর্ন বিষয় । তাহলে রাস্তা বানানোর সাথে সাথে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে থাকতো। দুর্ঘটনার পর কিছু মানুষের প্রান ঝরে গেলে এই প্রশ্নটি সামনে আসে আর তখন তাকে বলে তথাকথিত ব্লাক স্প্ট, জানিনা কেন কালো রঙ এদের দুশমন। রেড স্পট ও তো হতে পারত। কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান দেয়া হয়, তবে কিছুদিনের মধ্যেই আবার নতুন ব্ল্যাক স্পটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বলে সবার মাঝে সচেনতা বাড়াতে হবে। কথা ঠিক, সচেতনতা তো বাড়াতেই হবে কিন্তু যে মা বাবারা বাচ্ছাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল তারা কি বলবো অসচেতন? আমারতো মনে হয় তারা ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। তা নাহলে আরো কত শিশুর জীবন যেতো? কারন যার যায়, সেই তো বুঝে।

আমার মনে হয় আমাদের দেশের তথাকথিত হাইওয়েগুলোকে হাইওয়ে বলা উচিৎ না যতক্ষন পর্যন্ত তাতে মানুষের শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকে। এসব রাস্তায় গাড়ির গতি বেধে দেয়া উচিত। হাইওয়েতে তো ধীর গতির গাড়ি চলার কথা না। আর দরকার কঠোর আইন প্রয়োগ। কিন্তু তাতেও সমস্যা, কারণ জরিপে দেখা গেছে যে ৯৫% ড্রাইভার মনে করে আইন মানার চেয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করা সহজ। এটা পাল্টাতে হবে এবং পুলিশদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

আরেকটি কথা, আমাদের দেশে বিগত তিন চার দশক ধরে অনেক “এন জি ও” উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে, সফলতাও পেয়েছে। এবার এগিয়ে আসুন দূর পাল্লার সড়কগুলোর পার্শ্ববর্তী সকল স্কুলের শিশুদের এবং গ্রামের জনগনের সচেনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে। এগিয়ে আসুন, সড়ক নিরাপত্তা বিধানে জনগনকে নিয়ে কাজ করতে।

কারণ আমাদের মতন জনবহুল দেশে জনপদহীন হাইওয়ে তৈরি করা যেমন সম্ভব না তেমনই জন সম্পৃক্ততা ছাড়া হাইওয়ে নিরাপত্তা বিধান করাও সম্ভব না। একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারলেও তা সার্থক। কারণ  জীবনের মূল্যকে তো বিনিয়োগের মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না।