ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ঢাকায় পাতাল রেলের চিন্তা আজকের না। হচ্ছে, হবে, হবেনা, ইত্যাদি আলচনায় এটা চাপা পড়ে গিয়েছিলো বলেই আমার মনে হয়। এ সপ্তাহে হঠাৎ বিশ্বব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকার রাস্তায় চলতে গিয়ে আবিস্কার করলেন ঢাকার তীব্র যানযট, আর তাৎক্ষনিক সমাধান দিয়ে দিলেন পাতাল রেলের। আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা তখনই বুঝতে পারলেন যানযটের তীব্রতা। একনেকেও প্রধান মন্ত্রির নির্দেশনা পাওয়া গেল। বিশ্বব্যাঙ্ক টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দিলো। কত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো। কিন্তু ভাবছি, এই পাতাল রেল আমি হয়তো দেখে যেতে পারবনা।

আমার মনে আছে ১৯৭৮ এর দিকে ঢাকায় একটি বিদেশি টিম এসেছিল জরিপের জন্য অর্থাৎ ’গ্রেটার ঢাকা মাস্টার প্লান’ সম্পর্কিত। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক নজরুল স্যার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর গবেষনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা) আমাকে সেই টিমের সাথে ট্যাগ করেদিলেন ঢাকার আশ পাশটা ঘুরিয়ে দেখাবার জন্য। ভুগলে এম এস সি পরিক্ষা শেষ হবার পর পর ই নজ্রুল স্যার আমাকে তার কেন্দ্রে নিয়ে নিলেন। অর্থাৎ নগর গবেষনা কেন্দ্রতেই আমার কর্ম জীবনের শুরু। যা হোক, আমি তাদের টঙ্গি, কালিয়াকৈর, সাভার সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলাম। মনে আছে, বিকেলে ঢাকায় ফিরে মহাখালির কাছে বর্তমান ডি ও এইচ এস সংলগ্ন একটি চাইনিজ রেস্তোরায় দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। সেই চাইনিজ রেস্তরাটি এখন আর সেখানে নেই। স্যার বলেছিলেন ঢাকার জন্য মহা পরিকল্পনা হচ্ছে। শুনে খুব ভাল লেগেছিলো।

তারপর বুড়িগঙ্গার অনেক জল গড়িয়েছে, জলের রঙ ও গন্ধ পরিবর্তন হয়েছে, ঢাকা ও বড় হয়েছে, কিন্তু সেই মহাপরিকল্পনাটাকে আজো আমি খুঁজছি। গত প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ শুনে আসছি যে আমরা পরিকল্পনা ছাড়া ঢাকাকে বাড়িয়ে চলেছি, পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনা হয়েছে আর তা বাস্তবায়ন ও হচ্ছে ঢাকা ও বড় হয়ে চলেছে। কিন্তু সবই যেন তাৎক্ষনিক অর্থাৎ বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের মত কোনো প্রভাবশালী যখন যেটা ভেবেছেন বা তার চোখে পড়েছে সেটাই করেছেন বিচ্ছিন্ন ভাবে। এরশাদের আমলে কিছু হয়েছে, বি এন পির আমলে তেমন কিছু চোখে পড়ছেনা আর বর্তমান আওয়ামি লীগ আমলে ত অনেক কিছুই হচ্ছে কিন্তু দুঃখ এই যে, আমি হয়ত সেই মহা প্রকল্পগুলোর শেষ দেখে যেতে পারব না। তাই ভাবছি বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেন ১০ বছর আগে ঢাকা এলেন না!