ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

ধর্মীয় উগ্রতা, ইসলাম, খৃস্টিয়ান কিংবা সনাতন যেটাতেই হোক, পৃথীবিকে আজ পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকেই যেন নিয়ে যাচ্ছে? এখন যেখানে আমাদের আরো সহিষ্ণু হবার কথা, আরো কাছে আসার কথা, সেখানে একে অন্যের কাছ থেকে, এক সমাজ অন্য সমাজ থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। বিভাজন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ফলে ইতিমদ্ধে যারা সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় প্রবাসী হয়েছিল বিশেষ করে সবচে আকর্ষনীয় ইউ, এস, এ, তে, তারা ও আজ শঙ্কিত।

খবরে এসেছে আমেরিকার একটি স্কুলে বেচারা খ্রিস্টান শিক্ষক ছাত্রদের ক্যলিগ্রাফী বিষয়ে বাড়ির কাযে আরবী ভাষার “শাহাদা” শব্দটি ব্যবহার করেছিল। এটা স্কুলের হোম ওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্ততিতে খ্রিস্টান অভিবাবকদের কি ব্যপক প্রতিক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত হোম ওয়ার্ক তালিকা থেকে এই শব্দ বাদ দিতে হল। সরকারকেও নিতে হোলো নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা। অন্য দিকে ইরান কে দোষ মুক্ত করতে লেগেছে ১০ বছর। আন্তর্জাতিক পারমানবিক সংস্থা এই সেদিন ঘোষনা দিল ইরান পারমানবিক বোমা বানাচ্ছেনা। একই ধরনের মিথ্যা অভিযোগে ইরাক কে ধংস করে দেয়া হোলো। আরব দুনিয়া চেয়ে চেয়ে দেখল। জাতিসঙ্ঘ পুতুলের ভুমিকা পালন করলো। খবরে আরো দেখলাম সউদি আরাব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনে এক শ্ত্রুকে পরাজিত করে আরো ভয়ঙ্কর শত্রুকে জায়গা করে দিয়েছে। একই প্রক্রিয়া চলছে সিরিয়াতে। এ থেকে ফেরার পথ খুজে খুজে বিশ্বের তাবত নেতারা হয়রান।

ভারতে আমির খান এক কথা বলে কি বিপাকেই না পরলো? ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা তো এখন সবারই জানা। আমেরিকা ইউরোপে প্রায় প্রতিদিন ই ছোটো ছোটো ঘটনা ঘটছে যা ক্রমাগত বিভাজন কে সম্প্রসারিত করছে। আমেরিকা প্রবাসি আমার ছোটো ভাইএর সাথে কথা হচ্ছিল। স্পষ্টতই বোঝা যায় ইদানিং তারা একটু বেশি অনিরাপদ হয়ে গেল। আমেরিকার এবারের নির্বাচন প্রচারনা আমেরিকা কে কত টুকরো করবে তা ভবিষ্যত ই বলে দেবে।

উগ্রবাদীতা কিন্তু সাধারন মানুষের মাঝে ছিলনা। এখন যেন সাধারন মানুষ তাদের অযান্তেই জড়িয়ে পরছে। ফিলিস্তিনীদের বিতারণের মাধ্যমে এর সুত্রপাত। দুর্বল এবং নিপীড়িত পক্ষকে সাধারন মানুষ সবসময় মৌন সমর্থন দেয়। কিন্তু সেই ফিলিস্তিনের আগুন আজ পশ্চিমের অনেক দেশেই জ্বলছে, চলছে ধংসের উন্মাদনা। কোনো পক্ষই একমত হোতে পারছেনা। বাড়ছে জটিলতা, বিভাজন, এবং শত্রুতা। বাড়ছে সধারন মানুশের সর্বনাস। ব্যবসা, তেল ই্ত্যাদি যদি কারন হয়ে থাকে, তাহলেও লাভ টা কি হল?। খবরে দেখা গেল বিগত ১৪ বছরের যুদ্ধ যার লক্ষ্য ছিল শান্তি, ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। পশ্চিমা প্রচার মাধ্য্মই প্রমান সহ পরিসংখান তুলে ধরছে।

মুক্ত বাজার, বিশ্বায়ন ইত্যাদি মিছে হয়ে যাবে যদি এই বিভাজন ঠেকান না যায়। উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সপ্ন বাস্তবের রুপ দেখবেনা। ভোগ বাদিতা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেনা। সংগ্রাম ত্যগ এবং ধংস মানুষকে ঐক্যবধ্য হতে বাধ্য করে। আর তাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ( প্রকারান্তরে এখনই যার কিছু নমুনা চখে পড়ছে,) হয়তবা তারি চুড়ান্ত পরিনতির মাদ্ধমে ফিরে আসার সূচনা হবে।