ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

হজরত শাহ জালাল বিমান বন্দরের নিরাপত্তা যথাযথ নয়, এই অজুহাতে যুক্তরাজ্য এখান থেকে কার্গো বিমানের সেদেশে গমন নিষেধ করে দিয়েছে। এর পর পরই খবর হল সরকার একটি বিলেতি কোম্পানিকে আমাদের এই বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ঠিকাদারি দিয়েছে ।

প্রথমত, বিমান বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কি লোকের এবং দক্ষতার অভাব? তাহলে আমরা এত বছর কি মানব সম্পদ তৈরি করলাম? নাকি অভাব সুশাসনের? আমাদের সেনারা অন্য বহু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অপরদিকে, বেলজিয়ামের বিমান বন্দর কি বিলেতের বিমান বন্দরের চেয়ে অনিরাপদ ছিল? বিদেশী বিশেষজ্ঞরা দেশীয় বিশেষজ্ঞদের চেয়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কি বেশী বুঝতে পারবে? তবে হাঁ নিরাপত্তার নামে অনেক যন্ত্রপাতি আসবে আর সেগুলো চালাতে তাদের প্রশিক্ষণ লাগবে। ব্যবসা ভালই চলবে।

দ্বিতীয়ত, টিভিতে খবরে দেখলাম , মাননীয় বিমান মন্ত্রী সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলছেন; জাতীয় জরুরি ক্ষেত্রে সরকার বিনা টেণ্ডারে ক্রয় করতে পারে। বিলেতি কোম্পানিকে ঐ বিধান মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে, কারণ সরকার এটা জরুরী বলে বিবেচনা করেছে। প্রশ্ন হল, কিসের ভিত্তিতে জরুরী অবস্থা বিবেচনা করা হল। যখন মানুষের বা প্রাণীর জীবন কিংবা দেশের ব্যাপক সম্পদহানীর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তেমন পরিস্থিতিকে জরুরী বিবেচনা করা হয়।

বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং নিরাপত্তার মত স্বাভাবিক বিষয়গুলোর গুণগত মান উন্নয়ন এবং বিলেতে মালামাল পরিবহন কি সরকার জরুরী বলে মনে করেছে? দেশে যোগ্য লোকের কি এতই অভাব? যদি তাই হয় তাহলে আসলেই জরুরী অবস্থা। তাই সরকারি ক্রয় নীতিমালার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন রয়েই গেল। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে একটি অণুরোধ, আমাদের প্রবাসী ভাইদের বিমান বন্দরের নিত্যদিনের না না রকম হয়রানী বন্ধ কি জরুরী হিসেবে গণ্য করা যায়না?