ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থানের তো বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কি কোন বিকল্প আছে? যখন এটা প্রায় নিশ্চিত যে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তাহলে কেন এই প্রকল্প? রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্তমান লোকেশন পরিবর্তন করে প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে নির্মাণ করা কি একেবারেই অসম্ভব? চল্লিশ হাজার মেগাওয়াটের টার্গেট পূরণ করতে কেন এই আত্মঘাতী প্রকল্প?

বায়ুদূষণ, নদীর পানি দূষণ, মাটি দূষণ, মানুষের স্বাস্থ্যহানি, সর্বোপরি ,বন্য প্রাণীকুলের সর্বনাশ সাধন তো অনিবার্য। এছাড়াও রয়েছে শব্দ দূষণ, রাতে আলোর দূষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করে এসব দূষণ কেবল আংশিক কমানো যায়। কিন্তু অতি সংবেদনশীল সুন্দরবনের সর্বনাশের জন্য এই আংশিক দূষণই যথেষ্ট। এছাড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো আছেই যার নমুনা ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি। এসব ছাড়াও এই প্রকল্প ঘিরে এক বিরাট কর্মযজ্ঞের সূচনা হবে। আশেপাশে মানুষের আনাগোনা এখন থেকে বহুগুণ বেড়ে যাবে। ভূমি দস্যু আর নদী দখলকারীদের কি ঠেকানো যাবে? রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের যে মৃত্যু ঘণ্টা বাজাবে তাতে কি কোনো সন্দেহ আছে?

যারা সুন্দরবন পুরটা দেখেছেন তারা অনুভব করতে পারবেন এই বনটা কত নাজুক, কত সংবেদনশীল, কত সুন্দর। আমি এযাবৎ পাঁচ-ছয়বার গিয়েছি এবং এর অনেকাংশই দেখার সুযোগ হয়েছে। সুন্দর বন এমনি এক যায়গা যেখানে বার বার যেতে মন চায়। এর অপরূপ সৌন্দর্যের তুলনা করা কঠিন। তাই সুন্দরবনের গা ঘেঁসে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন যখন কল্পনা করি তখন ভেবে রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে যাই।

উন্নয়নের প্রয়োজনে যদি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শেষে হয়েই যায়, তাহলে আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের দায়ী করবে এই কান্ডজ্ঞ্যানহীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্যে। তারা বলবে’ বিদ্যুতের তো বিকল্প ছিল, কিন্তু সুন্দরবনের তো কোন বিকল্প ছিলনা’? পারবো কি আমরা এ দায় থেকে মুক্তি পেতে ? তাই এই প্রকল্পটি অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হোক এটাই আমাদের জোর দাবী। আর তর্ক বিতর্ক নয়, এটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে।