ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

 

সাম্প্রতিক এক সেমিনারে ড. জামিলুর রেজা বলেন, “ভূমিকম্পে কোথায়ও আশ্রয় নেয়ার কথাটা শুধু সান্ত্বনা। আসলে ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব হয় সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড। এই ৩০ সেকেন্ডে আপনি কোথায় লুকাবেন, আর কি-ই বা করবেন। তাছাড়া ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাষও কেউ দিতে পারে না। তাই এই অল্প সময়ে কোথায়ও লুকানোটা বেশি বিপজ্জনক”। তিনি বলেন, “তার চাইতে কেউ যদি দেয়ালের কোণায় গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে তাহলে হয়তো বা ছাদের কারণে ওখানে ট্রায়াঙ্গেল সৃষ্টি হবে। যাতে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরকম বেঁচে যাওয়ার উদাহরণ অনেক দেশেই আছে”।

ড. জামিলুর রেজার এই পরামর্শ বৈজ্ঞানিক এবং গবেষণা ভিত্তিক। আমি বিষয়টাকে একটু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
উপর থেকে ছাদ বা এই জাতীয় কিছু ভেঙ্গে পড়লে যেখানে সেটা পতিত হয় সেখানে কোনো শক্ত বাধা থাকলে সেটা কৌণিক ভাবে পরে এবং সাধারণত পার্শে বা কোনায় একটা ত্রিভুজাকৃতির ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে। এটাকে বলে “ট্রায়াঙ্গেল অফ লাইফ”। ভূমিকম্পের ফলে বিধ্বস্ত ভবনে ঠিক এইরকম ত্রিভুজ আকৃতির ফাঁকা জায়গায় যারা থাকে তাদের প্রাণ রক্ষার সম্ভাবনা বেশি। অতীতের বহু ভূমিকম্পের ধংসস্তূপের গবেষণায় এর প্রমাণ মিলেছে। এমনকি ফ্লাই ওভারের নিচে গাড়ির উপর ভেঙ্গে পরা কংক্রিটের নিচে গাড়িতে যারা ছিল সবাই প্রাণ হারিয়েছে কিন্তু গাড়ির ঠিক পাশে ছোটো একটা ফাঁকা ত্রিভুজে যে ছিল সে প্রাণে বেচে গেছে। যাহোক, এটা শুধু গবেষণার ফাইন্ডিং, আসলে মৃত্যু অবশ্যই আল্লাহ্র হাতে।