ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বিভাগের পাঁচ শিক্ষকের পর এবার মার্কেটিং বিভাগের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জুলফিকার নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ ও হুমকির লিখিত অভিযোগ তুলেছে একই বিভাগের এমবিএ শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমবিএ’র ইন্টার্নশিপ করছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জুলফিকারের তত্ত্বাবধানে। বেশ কিছুদিন পর হঠাৎ তার সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেন শিক্ষক জুলফিকার। ওই ছাত্রী ইন্টার্নশিপের বিভিন্ন পরামর্শ নেয়ার জন্য ওই শিক্ষকের চেম্বারে গেলে তিনি বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। তাকে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে ওই ছাত্রী রাজি না হলে তাকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করে দেয়াসহ নানা ভাবে হুমকি দেন শিক্ষক জুলফিকার।

ছাত্রীটি বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তুলে বিভাগীয় সভাপতিকে কোর্স তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের আবেদন করে। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্স তত্ত্বাবধায়ক থেকে তাকে বাদ দিয়ে শুভ্রা রানী চন্দ নামে অপর শিক্ষককে ওই ছাত্রীর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন।” মানবজমিন রিপোর্ট(০৫.১০.১১)।

প্রায় প্রতিনিয়তই এই ঘটনাগুলি সংবাদপত্রে আসে এবং অচিরেই তা আর্কাইভ বন্দিও হয়ে যায়।স্থান কাল পাত্র ব্যাতিরেকে ঘটনাগুলির চরিত্র প্রায় একই রকম।পদ, পদবী ও পজিশন ইস্তেমাল করে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর পাঁয়তারা মেয়েদেরকে। কর্মক্ষেত্র,ধর্মক্ষেত্র,শিক্ষাক্ষেত্র,রাস্তাঘাট,গণ-পরিবহন,পার্ক-রেঁস্তোরাসহ সর্বত্র নৈমিত্তিক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যৌন হয়রানি।

খাদ্য সংগ্রহের পর পুরুষের প্রথম প্রচেষ্টাই ছিলো কোনো না কোনোভাবে নারীকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার সংগ্রাম। নারীকে তুষ্ট না করে যেনতেনভাবে পেতে চাওয়ার অপতৎপরতাই হচ্ছে যৌন হয়রানি। যা অসভ্য আদিম পূরুষেরা নির্দ্ধিধায় সংগঠিত করতো আদিম মানবীর সাথে। অসভ্য আদিম পূরুষ জৈবিক প্রেষণায় তাড়িত হলেই ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের মতো ঝাপিয়ে পড়তো গিয়ে ’আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ নারীর উপর। আপাতঃ শক্তিধর পূরুষের এই আকস্মিক অপৌরুষ তৎপরতায় যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে বাধ্য হতো আপাতঃ দূর্বল হতভম্ব নারী।

কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মিথস্ক্রিয়াটা ছিলো অনেকটা যান্ত্রিক ক্রিয়ার অনুরুপ । গাড়ী গতিতে যেতে ইচ্ছুক কিন্তু অনিচ্ছুক অয়েল পিচ্ছিল ছাড়েনা পিষ্টনে । ফলে নিরন্তর একটা নিরানন্দ এপিসোড থেকে বের হয়ে আসার পথ খূঁজতে গিয়ে অসভ্য আদিম পূরুষ ও আপাতঃ দূর্বল নারী ক্রমে ক্রমে একটা কালোত্তীর্ণ বোধে এসে উপনীত হয়। আর সেটা হচ্ছে পরস্পরের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা । দেখা গেলো যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মিথস্ক্রিয়াটা সম্পন্ন হতে পারলে, জলীয় ওমে নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ ও প্রশান্তির নিঃশ্বাস পোহাতে পারে, ঘাসের ডগায় উদ্ভিন্ন টলটলে শিশির ।

আদিম মানব মানবীর পারস্পরিক সন্মতি আদায়ের চেষ্টা থেকেই মর্যাদা পাওয়া শুরু করলো মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ(sense of privacy) । ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের বিকাশ থেকেই প্রেম, ভালোবাসা, রোমান্টিকতার উৎপত্তি। ঝিরিঝিরি বাতাসের প্রেক্ষাপটে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা চাঁদকে প্রথম প্রেয়সীর মুখ বলে কল্পনা করা শুরু করলো মানুষ। অনুষঙ্গ হিসেবে চলে এলো সুর গীত কাব্য কবিতা…মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশ।ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখা। সভ্য ও আধুনিক মানুষের আর্থ-সামাজিক প্রকাশ।

যৌন হয়রানি হচ্ছে মানুষের সকল প্রকার বিকাশের প্রতিপক্ষে একটি চরম অবমাননাকর ক্লীবতা,ব্যক্তিকে কোনো না কোনোভাবে তুষ্ট না করে যেনতেনভাবে পেতে চাওয়ার অপতৎপরতা, অসভ্য আদিম সমাজে অপৌরুষোচিত লজ্জাজনক প্রত্যাবর্তন।এটি নিছক একটি যৌনতা বিষয়ক অপরাধই নয়, বরং মূখ্যতঃ; মানুষের ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ বিনষ্টকারী একটি মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী অপরাধ। ডেমি মুরের ব্যাতিক্রমী ‘ডিসক্লোজার’(ব্যারি লেভিনসনের হলউড মুভি, সাল ১৯৯৪) বাদ দিলে তথাকথিত পূরুষরাই হচ্ছে যৌন হয়রানির গ্রধান নিয়ামক অপশক্তি ।

জগতে এমন কে আছে পূরুষ, যে পেতে চায়না নারী ! অথবা এমন কে আছে নারী, যে পেতে চায়না পূরুষের সান্নিধ্য! খেতে চায়না আনকোরা নিপাট গন্ধম, মূহুর্তের প্রতিটি পলে ! ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের পোশাক গায়ে না চেপে বসলে তার, ভাদ্রের জঠরে ভরে নিতে ঠেসে গলিত সীসার রুপালী আগুন, শশব্যস্ত কুকুর কুকুরীই থেকে যেতো আধুনিক মানুষ ।কারন গন্ধমের কেনো আধুনিক রূপ নেই। আদিম ও অকৃত্রিম সে সর্বকালে সর্বত্র।ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের পোশাক গায়ে চাপার ফলে মনের কলায় গন্ধম খেয়ে হলেও বনের হরিণ পরিশুদ্ধ রাখে মানুষ।অন্তর্গত ইচ্ছা আকাঙ্খা পরিশীলিত না হওয়া সত্বেও নিরন্তর পরিশীলনের মধ্যে দিয়ে জগত, সংসার ও সভ্যতা নির্বাহের স্বপ্ন দেখতে পারে মানুষ ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের শক্তিতেই কেবল।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের জাড্যতা পশুত্বকেই পর্যবসিত করে রাখে তথাকথিত আধুনিক মানুষের মধ্যে।পাবলিক বাসে ভীড়ের চাপে দগ্ধ হতে থাকা নারীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত বসিয়ে দেয়া মামুলী লোকটির সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অথবা কর্পোরেট বসদেরও তফাৎ থাকেনা সেক্ষেত্রে।

পুরুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আজন্ম লালিত মা বাবাকে পর্যন্ত ত্যাগ করতে দ্বিধা করেনা নারী । প্রতিষ্ঠিত স্বামীর বিত্তবৈভবও যদি ত্যাগ করে, সেও অন্য আরেক পুরুষের ভালোবাসাতেই। সেই নারীকে নিরন্তর যৌন হয়রানির ফাঁদে ফেলে শিকার করতে গিয়ে, নিজেই ফাঁদে জড়িয়ে শিকার হয়ে যায় যে শিকারী- নিশ্চিতভাবেই সে অপুরুষ নিঃসন্দেহে। নারী কখনো অপুরুষ পাত্তা দেয়না।কেরী কুত্তার ছোঁ ছোঁ’য়ে আপ্লুত না হয়ে চিতার থাবায় আহত হতে পছন্দ করে নারী।পরিপূর্ণ পূরুষ ছাড়া নারী অধিকারের কলা আর কে জানে ভালো ! পুরুষ কখনো হয়রানি করেনা নারীকে । হয়রান বানায়।

নারী পুরুষের পারস্পরিক সন্মতির ভিত্তিতে ঘাউরা মাছের পেটে ইলশে গুঁড়ি পয়দালেও সে খবর কোনো সংবাদপত্রে আসেনা। সে খবর কেউ রাখেও না।আদতে সে খবর কেউ জানেও না।
অপুরুষোচিত হাফ-বয়েল চর্চাগুলিই কেবল অস্থিতিশীল করে রাখে সমাজ ও সভ্যতা।