ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আর সবাইকে মুখ দেখাতে দ্বিধা না করলেও ভাশুরের সামনেই কেবল দেড়হাত ঘোমটার অতলে আচমকা মুখ লুকায় নতুন বৌঠান । নতুন বৌঠানের ভাবসাব দেখে ভাশুর মনে মনে বলেন, বটে ! ভাশুরকে পাশ কাটিয়ে জামাইর ভাত খাওয়া গেলেও যে শ্বশুরালয় যাপন মুশকিল, নতুন বৌঠান শীঘ্রই তা টের পেলো পুকুর ঘাটে একদিন স্নান করতে গিয়ে। ভাশুর স্নান সেরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলো আর বৌঠান নামছিলো নীচে। আচমকা মুখোমুখী দু’জন। ভাশুর যথারীতি নির্বিকার। নতুন বৌঠান কেবল স্ত্রস্তহাতে সহসা ঘোমটা টানতে গিয়ে আঁচল আর খুঁজে পেলোনা হাতে। যা পেলো তা দিয়ে মুখ ঢাকলো ঠিকই, কিন্তু ভাশুরের চোখের সামনে পূর্ণচন্দ্রকলার মতো জেগে রইলো উরুসন্ধির সিঁথি।

অস্ফুটে ভাশুর কেবল বললেন, এই তাহলে মুখ না দেখানোর মাজেজা ! এইটাতো আরো ‘বেশী চিনি’ ভাইডি ! ইজ্জত ধর্ম দুইটাই থাকতোনা কি ’কম চিনি’ টা দেখাইলে !

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আচমকা ভাশুরের সামনে নিজেদের উরুসন্ধির ’কোর’ সিঁথিটাই দেখিয়ে দিলো আওয়ামী লীগ বিএনপি’র তথাকথিত রাজনীতি। ওরা মনে করে জনগণ ওদের ’কম চিনি’টাই বেশী চেনে, ’বেশী চিনি’টা একদমই চেনেনা। রাজনীতিবিদরা খোলা ময়দানে হাগতে বসে লজ্জা না পেলেও, সেটা দেখে যে কেউই লজ্জা পাবেনা –এতো বেশী নষ্ট তো হয়ে যায়নি এখনো বাংলাদেশের জনগণ ! জনগণ ’বেশী চিনি’টা আরো বেশী চেনে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দিব্যি হাতে ধরিয়ে দিয়ে ’নারায়ণগঞ্জ হারিকেন’, নিমিষেই নিঃস্ব করে দিতে পারে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র যতোসব হাতি ঘোড়া দর্শণ।

নারায়ণগঞ্জবাসীকে ‘টাক পড়া মাথায় চুল গজানো ল্যাবরেটরীর গিনিপিগ ‘ বানাতে চেয়েছিলো আওয়ামী লীগ বিএনপি । পেশীশক্তিনির্ভর, অগণতান্ত্রিক ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শামীম তৈমুর সিলেকশন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির আইভি প্রত্যাখান, কবুল বলতে উদ্যত পাত্রকে বিয়ের আসর থেকে প্রত্যাহার সহ পরস্পর পরস্পরের প্রতিপক্ষে জাতীয় রাজনীতির বার্তা আদান প্রদান সংক্রান্ত জুয়ার গুটি চালাচালি করছিলো নূন্যতম তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্তর্নিহিত অন্তরাত্মার মূল সুরটির। জবাবে নারায়ণগঞ্জবাসী জানিয়ে দিয়েছে আমরা কারো বাপ জামাইর জায়গীর না ।

আইভিকে ধন্যবাদ এই কারনে যে, উনি কোনো পক্ষে ছিনতাই না হয়ে জনমেজাজের প্রকৃত রূপটি চিহ্নিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে। জনগণও ভোট দিয়েছে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে। কেবল আওয়ামী লীগ বিএনপি’র নিজের জায়গাটুকু আমরা চিনতে পারছিনা। বিএনপি বলছে বিএনপি’র ভোটে নাকি আইভি মেয়র হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ বলছে আইভি ওদের ঘরের মেয়ে। অথচ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশী দরকার ছিলো যখন আইভির, আওয়ামী লীগ তখন মত্ত ছিলো শামীমে। আর টয়লেটে বদনা হারিয়ে বিএনপি খূঁজছিলো চট্রগ্রাম যাপনের আলম টিস্যূ পেপার। হা মোর দূর্ভাগা রাজনীতি !

পরস্পর পরস্পরকে ঠেকাতে পরীক্ষিত, কর্মঠ ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি সমানে রাজনীতির সামনের সারিতে নিয়ে এসে জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে যতোসব ষন্ডাগুন্ডা, কালো টাকার মালিক ও অসৎ ব্যাবসায়ীদের। জনগণ এ বোঝা আর বইতে চায়না।

তবুও, চট্রগ্রাম ও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত এই বার্তা রাজনৈতিক দলগুলি আমলে নেবেনা এই কারনে যে, জনমেজাজের প্রকৃত রূপ যা-ই হোক, তারা তো আর ভোটাধিকার প্রয়োগ না করে ঘরে বসে থাকেনি কখনো ! তারা বেছে নেবেই একটা- বিএনপির লাথি ভালো না লাগলে আওয়ামী লীগের কিল । ব্যস, এই পর্যন্তই তো জনগণ ! আকাম কুকাম যে যা-ই করিনা কেনো , শাস্তিতো ঐ এক টার্ম দিগম্বর-ই, ক্ষমতার বাইরের শীতকাল। দ্যাটস অল !

অর্থাৎ জনগণের হাতে কারোরই দিগম্বর না হয়ে উপায় নেই অন্তত একবার হলেও। গনতন্ত্রে এইটুকুই কেবল জনগণের হাতে। কেবল এইটুকুই মাত্র জনগণের শাখ। আর সব চিচিং ফাঁক !!কয়দিন নাগাদ তা, সে নির্ধারণ জনগণ করতে আছে বোধহয়। ওয়েট এন্ড সি পলিটিশিয়ানস…..। আরব বসন্ত আজি জাগ্রত দ্বারে !