ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যর সাথে সবার জীবনে যে বিষয়টি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, তাহলো বন্ধু ও বান্ধবী সেই মিছে মিছি পুতলা বউ আর খেলা ঘরের রান্না বান্না থেকে শুরু করে, জীবনের আনন্দঘন পরিবেশ বন্ধুর উপস্থিতি ছিল মামূলি ব্যাপার। স্বার্থহীন সম্পর্ক বাঁধ মানত না ধনী-গরীব, সাদা কালো। তবে গ্রাম বাংলাতে বন্ধুকে বন্ধু না বলে দোস্ত শব্দটি অধিক ব্যবহৃত ছিল। আবার তেমনি ভাবে বান্ধবীর পরিবর্তে বলা হত সই এবং দোস্ত ও সই বানাতে আয়োজন করা হত অনেক জমকালো আয়োজন। গ্রাম বাংলায় এ চিত্র অহরহ দেখা যেত। কিন্তু যান্ত্রিক শহরে বন্ধুর ধরণ পাল্টে গেছে এখানে স্বার্থের মিলে বন্ধু তৈরি হয় মনের মিলে নয়। ফলে যখন কোন স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটে সেই বন্ধুত্ব আর বেশিদিন টিকে থাকেনা।

স্বার্থের আঘাতে বন্ধু বন্ধুকে ঘরে থেকে ডেকে নিয়ে খুন করে এটা এখন আমাদের সমাজের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে বর্তমানে বন্ধুর উপর বন্ধুর যেমন আস্থার সঙ্কট বাড়ছে তেমনি অসৎ বন্ধুদের পাল্লায় পরে বিভিন্ন অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ছে নতুন প্রজন্ম। পূর্বের মতো বর্তমানের অভিভাবকরা সন্তান কার সাথে বন্ধুত্ব করল তা পরখ করে দেখেন না ফলে তার খেসারত দিতে হয়। একজন ভালো বন্ধু সমাজকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় তাইতো আমরা দেখি বিভিন্ন জায়গায় বন্ধুরা মিলে মিশে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজকে বদলে দেয়। আবার ভিন্ন চিত্র ইদানিং আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে তা হল বন্ধু বন্ধুকে ডেকে নিয়ে স্বার্থের টানে হত্যা করে ফলে আমাদের সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যাদের সাথে বন্ধুত্ব করিনা কেন আগে যেন ভেবে নেই এ বন্ধু কি আমাকে তার মনের ভালো লাগা থেকে বন্ধুত্ব করেছে না তার স্বার্থের কারনে আমার সাথে বন্ধুত্ব করেছে যদি উত্তর পরেরটি হয় তবে এ বন্ধূত্ব যে পরবর্তীতে কোন বিপর্যায় ডেকে নিয়ে আসবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ফলে বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।