ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

সকল বাবা মা তার সন্তানকে ভালবাসেন, এটা ব্যাতিক্রম কিছু না। কিন্তু কোন বাবা মা তার সন্তানের জন্য যখন সব সুখ দুঃখই স্বেচ্ছায় মেনে নিয়ে সে সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে তখন তা হয় সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের এই দেশে গ্রামে অশিক্ষিত বাবা মায়ের সংখ্যা কম নয়। তারা সকলেই দারিদ্রের সাথে লড়াই করেন। তাই অনেকে মনে করেন তার মেয়ে সন্তানটির লেখা পড়া করার দরকার নেই। কিছু দিন পরে বাল্য বিবাহ দেয়ার মাধ্যমে তাদের দায়িত্বের ইতি ঘটান দারিদ্রে জর্জরিত বাবারা। তবে আমি যে বাবার কথা বলব তিনি প্রচলিত গ্রামীণ সমাজে বসবাস করলেও তার চিন্তায় সে সমাজ প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কলাপাড়ার পৌর-এলাকায় তাকে ছোট বেলা থেকে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখেছি। তখন সে তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার বড় ছেলের নাম মস্তফা তাই এলাকায় তিনি
`মোস্তাফার বাপ’ নামেই পরিচিত । তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে সংসারে তেমন অভাব হয়নি সুখেই দিন কাটতে ছিল। কিন্তু তার সুখের সংসারে আর বেশিদিন সুখ থাকেনি। তার ছোট মেয়ের বয়স যখন ৮ মাস তখন তার স্ত্রী মারা যায়। তার অল্প আয়ের সংসারে হঠাৎ ঝড় এসে যেন সব ভেঙ্গে চুরমার করে। তাকে এক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করায়। তার ছোট মেয়ের বয়স যখন দেড় বছর তখন মেয়ের কষ্ট অনুভব করে দ্বিতীয় বার বিবাহ করে। যাতে তার সন্তান টি দুধে ভাতে থাকে। কিন্তু তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে সন্তানদের আলাদা করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। ফলে সে যেন আরো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। সে সাত-পাঁচ না ভেবে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়। মেয়েকে লালন পালন করার দায়িত্ব নিজের ঘাড়েই নিয়ে নেয়। এদিকে তার বাকি ছেলেরাও একে একে বিবাহ করে আলাদা হয়ে যায়। অবশেষে মেয়েকে নিয়েই সংসারে দিনাতিপাত করতে হলো মস্তফার বাপের

সকালে মেয়েকে খাবার খাইয়ে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন যা উপার্যন হয় তা দিয়ে বাজার করে দুপুরের রান্না করেন। মেয়ে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে কোচিং করতে চলে যায়। তিনি ও রিক্সা নিয়ে বের হন উপার্যনের তাগিদে এভাবেই তার দিন চলে যায়। তার মেয়ে এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। মেয়ে যেন ভাল লেখাপড়া করে দারিদ্র্যমুক্ত জীবন যাপন করতে পারে। সমাজে যেন কারো বোঝা হতে না হয় এটাই তার স্বপ্ন।

মস্তফার বাপ বাকি জীবনটাও মেয়েকে সাথে নিয়ে কাটাতে চান ।এ সমাজ একজন মস্তফার বাপের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারে।