ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

আজ আমি সবার জন্য আমার কিছু মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই । আশা করি পড়ে মজা পাবেন । প্রথমেই শুরু করি একটা মৃত মানুষের কুলখানির অভিজ্ঞতা দিয়ে । জেদ্দা শহরের বুকে একটা কম্পাউন্ড ধরনের বিল্ডিঙে আমরা প্রায় সাত বৎসর ধরে আছি । দুদিন আগে আমাদের পরিচিত একজন লোক মারা গেছেন এবং গত কালকে উনার কুলখানি হল । অফিস থেকে যখন ফিরলাম বিল্ডিং এর ম্যানেজার এসে বললেন যে আজকে মাগরিবের নামাজের পর ঐ মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফেরাতের জন্য অনুষ্ঠান হবে । আমি যেন আসি । আমি ও যথারীতি মাগরিবের নামাজ পড়ে পাঞ্জাবি টুপি পড়ে অনুষ্ঠানে গেলাম যার আয়োজন করা হয়েছিল পার্কিং এরিয়ার এক কোনে (আমি দেখেছি এ অনুষ্ঠান মহল্লার গলিতে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েও অনেকে করে) । উপরে তার টেনে বেশ কয়েকটা বাল্ব ঝুলানো হয়েছে, নিছে সুন্দর কার্পেট বিছানো হয়েছে, কার্পেটের উপর প্রায় ১০০ এর মতো পোল্ডিং চেয়ার দেয়া হয়েছে। ৫/৬ টা চেয়ার আলাদা করে বসানো হয়েছে যেখানে মৃৎ ব্যক্তির আত্মীয়রা বসেছেন। আমি ওখানে পৌছার সাথে সাথেই ঐ ৫/৬ জন ব্যক্তি দাড়িয়ে গেলেন । উনাদের সালাম করে হ্যান্ডসেক করে সামনের রক্ষিত একটা চেয়ারে বসলাম । যখনই কেউ আসেন একইভাবে উনারা দাঁড়ান এবং সালাম নেন এবং কোলাকুলি করে চুমা দেন একে অপরকে (পরস্পরকে চুমা দিয়ে কুশল বিনিময় আরব ঐতিহ্য) । ২/৩ জন লোক ট্রেতে করে পানির বোতল আর লাল চায়ের কাপ নিয়ে বারবার অফার করছেন সবাইকে । প্রায় ৫০/৬০ জন লোক বসে আছেন একেবারে নিশ্চুপ । আমি ঘণ্টা খানিক ওখানে ছিলাম । কারো একটা টু শব্দ ও শুনতে পাই নাই । এমনকি সবার মোবাইলও বন্ধ । আমি মনে মনে কিছু সুরা পড়লাম কিন্তু অন্যান্য সবার মুখের দিকে দেখলাম কারো মুখ নড়ছেনা । হয়তঃ মনে মনে পড়ছেন । অথবা মনে মনে মৃত ব্যক্তিকে স্মরণ করছেন । আবার কেউ ৫/১০ মিনিট পর সালাম দিয়ে চলে যাচ্ছেন । যাওয়ার সময় ও একই নিয়মে ঐ ৫/৬ জন লোককে কোলাকুলি ও চুমা দিয়ে যাচ্ছেন । কেও যাচ্ছেন আবার কেও আসতেছেন । কোন নির্দিষ্ট সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই । কিন্তু সবই হচ্ছে একেবারে নীরবে । যেন সবাই নামাজ পড়ছে । নেই কোন দোয়া দরুদের শব্দ, নেই কোন বিরানির প্যাকেটের ঝামেলা । আমার খুব ভাল লেগেছে । এ অনুষ্ঠান বলে দেয় ইসলাম শান্তির ধর্ম । আমাদের দেশের কুলখানির অনুষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে খুব খারাপ লাগে এই জন্য যে আমরা কোথায় নিয়ে গেছি ইসলামকে । কারণ এখানে যা হচ্ছে তা হল হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর নিকট থেকে চাক্ষুষ দেখা সুন্নাহ আর পদ্ধতি ।

যেহেতু আমার লেখার শিরোনাম অর্থান্তর সেহেতু কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে বলতে চাই এখন । কয়েকটি আরবি শব্দের উচ্চারণ একেবারেই সন্নিকট । একটু তারতম্য হলেই অর্থের বিরাট পার্থক্য হয়ে যায় । যেমন, ‘মাতার’ এর এক অর্থ বৃষ্টি আর এক অর্থ হল এয়ারপোর্ট । উচ্চারণ শুধু একটু ভিন্ন হয় যা আমদের মতো সাধারণ কান ওয়ালারা বুঝতে পারবে না । ‘হারাম’ শব্দের এক অর্থ মক্কার পবিত্র কা’বার মসজিদ এবং মদিনার হযরত (সঃ) এর মসজিদে নব্বীকে বোঝায় । আবার একটু উচ্চারনের তারতম্যের ফলে এটার অর্থ নিষিদ্ধ বস্তু বোঝায় । সত্যি কথা বলতে কি আমি এখনও এই শব্দদ্বয়ের উচ্চারণের পার্থক্য ধরতে পারি নাই । তাই এধরনের আরবি শব্দ গুলি উচ্চারণ করতে ভয় পাই ।

যদি ব্লগার ভাইরা আমার এ লেখা পছন্দ করেন তাহলে ভবিষ্যতে আরও কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আশা রাখি । ধন্যবাদ ।