ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

আমার এক খালু বিমানের ইঞ্জিনিয়ার ঢাকায় কাজ করেন । বেশ কিছুদিন আগে জেদ্দা এয়ারপোর্টে বিমানের একটা এয়ারক্রাফট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খালুকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয় । উনি ১/২ দিন কাজ করে বিমানকে সচল করেন এবং উড়াতে সক্ষম হন । আমার আজকে অভিজ্ঞতা যেটা বলব তা এটা নয় । মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে একটু ভূমিকা দরকার ছিল বলে এগুলি লিখলাম । যাহোক, উনি কাজ শেষ করে হোটেলে গিয়েছিলেন বিশ্রাম নেওয়ার জন্য । রাত্রে আমি উনাকে আমার বাসায় নিয়ে আসি একসাথে ডিনার করার জন্য ।

কথা প্রসঙ্গে উনাকে জিজ্ঞাস করলাম জেদ্দা কেমন লাগল ? উনি যা বললেন তা হল, “জেদ্দা খুবই সুন্দর শহর । মানুষগুলিও খুব ভাল ”। আমি জিজ্ঞেস করলাম উনি কিভাবে বুঝলেন যে মানুষগুলি ভাল ? উনি যা বললেন তা হল — “আমি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে একটা ট্যাক্সি নিলাম হোটেলে যাওয়ার জন্য । ট্যাক্সি ড্রাইভারটি একটা আরব বালক । সে হোটেলটি চিনেনা, এমনকি যাওয়ার রাস্তা ও চিনেনা । কিন্তু সারা পথে মোবাইলে তার মাকে ফোন করে করে গাড়ি চালাল এবং ওর মার নির্দেশ মতই আমাকে ঠিকই হোটেলে পৌঁছে দিল”। আমার কাছে খটকা লাগল কারণ এখানে মহিলারা এভাবে নির্দেশ দিয়ে গাড়ি হোটেলে নিয়ে যাবে তা হয় না । তাছাড়া যেহেতু মহিলাদের ড্রাইভিং এখানে নিষেধ আছে ওর মা রাস্তা ঘাট সম্পর্কে এত ওয়াকিবহাল থাকার কোন কারণ থাকতে পারেনা । উনাকে আমি জিজ্ঞাস করলাম ঐ ড্রাইভার কিভাবে ফোনে কথা বলেছিল ? উনি বললেন, “সে তার মাকে আম্মি আম্মি বলে কথা বলেছিল” । ঠিক তখনই ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হল । আমাদের দেশে আমরা বয়স্ক কোন লোককে যেমন চাচা বলি এখানেও বয়স্ক লোককে সবাই আম্মি বলে সম্বোধন করে (আরবিতে আম্মি মানে হচ্ছে চাচা)। আনেকে আবার আরও আদর করে চাচাকে আম্মু ও বলে । ঐ বালক ড্রাইভার কিভাবে গাড়ি চালিয়েছিল পাঠকরা এবার অনুমান করতে পারবেন । ধন্যবাদ ।