ক্যাটেগরিঃ জনজীবন, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। অনিক রহমান মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া একটি ছেলে। ছোটবেলা থেকে অনিকের পছন্দ-অপছন্দ, চলাফেরা, চিন্তাধারা একটু ভিন্ন রকম। পরিবার ও সমাজ যেমনটি আশা করে ঠিক তেমন নয়, বরং উল্টো। অনিকের কণ্ঠ আর হাঁটাচলা একটু মেয়েলি। মায়ের সাথে রান্না ঘরে কাজ করতে পছন্দ করে। লুকিয়ে লুকিয়ে বড় বোনের লিপস্টিক, কাজল, মেকআপ ব্যবহার করে। মাঝে মাঝে দরজায় খিল দিয়ে মায়ের শাড়ি পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। একদিন বোন দেখে ফেলেছিলো অনিকের নারীসাজ এবং দিয়েছিলো প্রচণ্ড মার।

স্কুলে অনিক মেয়েদের সাথে খেলতে পছন্দ করে। ক্লাসের বন্ধুরা ‘হাফ লেডিস’ সহ বিভিন্ন উপনামে ডেকে খেপানোর চেষ্টা করে ওকে। অনিকের ভালো লাগে ছেলেদের সঙ্গ। মাঝে মাঝে ক্লাসমেট আসিফকে জড়িয়ে ধরতে ভালো লাগে। সকলের তুচ্ছতাচ্ছিল্যে অনিক চেষ্টা করে নিজেকে পরিবর্তন করতে, মানিয়ে নিতে। পরিবার ও সমাজের অন্য সব ছেলেদের মত হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু পারে কই?

একটু বড় হবার পর অনিকের মনে হতে থাকে, ভুল একটা শরীরে তার বসবাস। মনটা পুরোপুরি মেয়েদের মনের মতো। চাওয়াগুলো মেয়েদের চাওয়ার মতো। কিন্তু বিধাতা শরীরটা দিয়েছে ছেলেদের। শরীর ও মনের এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যায় অনিক। সকলের অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকবার চেষ্টা করেছে আত্মহত্যা করতে। কিন্তু পেরে উঠেনি।

অনিক পালিয়ে যেতে চায় এই অসহ্য জীবন থেকে। অনিক ভাবে, এই শরীর বা মন ওর নিজের তৈরি নয়। তাহলে চারপাশের মানুষ কেনো তাদের প্রেসক্রাইব করা আচার-আচরণ প্রত্যাশা করে ওর কাছে।

প্রতিদিনের যুদ্ধ থেকে নিস্তার পেতে আনিক একটা উপায় খুঁজে পায়। স্কুল ছেড়েছে আগেই। এবার পরিবার-পরিজন, বাবা-মা-বোন ছেড়ে অনিক যুক্ত হয় তৃতীয় লিঙ্গের একটা দলের সাথে। হিজড়া গুরুর শিষ্য হয়ে ওদের ডেরাতেই থাকা শুরু করে। যদিও বাসস্থান খুবই মানবেতর, কিন্তু এখানে সবাই অনিকের মতো। অনিক মনের মতো করে নিয়মিত শাড়ি পড়তে পারে এখানে। সাজতে পারে নিজের মতো। নাচ-গান করতে পারে। গুরুর নির্দেশ অনুসারে দোকানে দোকানে টাকা তোলে। দিনশেষে গুরুকে টাকা-পয়সা বুঝিয়ে দিয়ে সামান্য কিছু নিয়ে নিজের ডেরায় ফিরে আসে অনিক।

অনিক ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু এখন মানুষের কাতারেই দাঁড়াতে পারে না। রাত হলেই বাবা-মা-বোনকে খুব মনে পড়ে। ওকে কি একটুও মনে পড়ে না তাদের? প্রতি রাতে ভীষণ কান্না পায় অনিকের। অনিকের নাম পরিবর্তন করে এখন অনিকা রাখা হয়েছে। অনিক রহমান এখন অনিকা হিজড়া।

এ গল্পের শেষ নেই। এই গল্প একজনের নয়। ভিন্ন দেহে আটকে থাকা অচিন মনের মানুষ অসংখ্য। কেউ সাহস করে নিজের লৈঙ্গিক অতৃপ্তিকে (Gender Dysphoria) কিছুটা হলেও ঘুচাতে যোগ দেয় তৃতীয় লিঙ্গের দলে। কেউ কেউ চালিয়ে যায় দেহ-মনের এই অসম যুদ্ধ। আর কেউ কেউ রণে ভঙ্গ দিয়ে পাড়ি দেয় পরপারে।

লিঙ্গ ও যৌন বিশেষজ্ঞরা বলেন এ হলো হরমোনের প্রভাব। সাধারণত পুরুষ দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন এবং নারী দেহে এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের আধিক্য থাকে। কিন্তু একজন পুরুষের দেহে যখন নারীদের হরমোন বেশি থাকে তখনই দেখা দেয় আচরণ ও পছন্দের বৈপরীত্য। হরমোন ছাড়াও আরো অনেক অজানা কারণে লৈঙ্গিক বৈপরীত্য দেখা যায়।

তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে কিছু মিথ চালু আছে আমাদের সমাজে। যার সবকটিই ভ্রান্ত ধারণা।

যেমন, আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের ধারণা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা আসলে বিকলাঙ্গ জননাঙ্গ নিয়ে জন্মায়, তাদের যৌন চাহিদা নেই ইত্যাদি। এই ভ্রান্ত ধারণাগুলোর বয়স শত শত বছর। কিন্তু এই মিথ্যে ধারণাগুলো দূর করতে, এই মানুষদের নিয়ে কথা বলতে, গবেষণা করতে, একটু ভাবতে কেউ কি এগিয়ে এসেছে সত্যিকার অর্থে?

দুয়েকটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন চমৎকার মনের একজন মানুষ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা  গওহর রিজভী

আমাদের বৃহত্তর সমাজের গড়ে তোলা অপ-বিশ্বাসকে ভাঙতে সাহসী হয়নি নিয়ত নিগৃহীত ও অবহেলিত হিজড়া জনগোষ্ঠীও। ইন্টারসেক্স বা উভয়লিঙ্গ ও তৃতীয় লিঙ্গের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ফারাক তা নিয়ে কেউ কখনো চিন্তাই করেনি। খুব সুখের কথা যে, ২০১৩ সালে সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে

কিন্তু ভাবনার কথা হলো, ওরা তৃতীয় লিঙ্গ হলে প্রথম কারা এবং দ্বিতীয় কারা? আমি এই প্রশ্ন অনেককে করেছি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে পিতৃতান্ত্রিকতা ঢুকে যাওয়া মানুষগুলো আমায় বলেছে নিশ্চয়ই পুরুষরা প্রথম, নারীরা দ্বিতীয় এবং তালিকার তৃতীয় অবস্থানে হিজড়া জনগোষ্ঠী।

এমন ঘটনাও আছে, হিজড়াদের কাজের সুযোগ দেওয়া উপলক্ষে ‘আসল’  হিজড়া প্রমাণ করার জন্য শারীরিক পরীক্ষার নামে কাপড় খুলে দুই পায়ের মাঝে দেখা হয়েছে। আর সেখানে জলজ্যান্ত পুংলিঙ্গের অস্তিত্ব পেয়ে তাদেরকে ‘নকল’ হিজড়া হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

পুরো ব্যাপারটি ঘটেছে হিজড়া সম্পর্কে চালু মিথগুলোর উপর অগাধ (অপ) বিশ্বাসের কারণে। আসল হিজড়া ও নকল হিজড়া বলতে কোনো কথা নেই। এও আমাদের ভ্রান্ত ধারণার ফসল।

আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদেরকে মেয়েলি সাজের উপকরণ যেমন লিপস্টিক, নেইলপলিশ, কাজল, টিপ ইত্যাদি দিয়ে বলেছি কিছু সময়ের জন্য এগুলো ব্যবহার করতে। কিন্তু দুয়েকজন ছাড়া কেউই ব্যবহার করতে রাজি হয়নি। তখন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন ছিলো, “প্রশিক্ষণের বন্ধ ঘরে কিছু সময়ের জন্য এগুলো ব্যবহার করতে যখন পুরুষত্বে লাগছে, তখন কী করে আমরা ভাবি যে, হিজড়াদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু টাকার জন্য ভং ধরে পথে নামছে? পরিবার, সমাজ সব ছেড়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে কী লাভে? তারা কী করে নকল হয়?”

উত্তর আসেনি।

উভয় লিঙ্গ নিয়ে একটু খোলসা করা যাক। উভয় লিঙ্গ নিয়ে জন্মানো বা ইন্টারসেক্স মানুষের অস্তিত্ব কি তাহলে নেই? অবশ্যই আছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে তাদের সংখ্যা ১.৭ শতাংশ। সেই হিসেব করলে আমাদের দেশেও অসংখ্য উভয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন।

কিন্তু তাদেরকে প্রচলিত ভাষায় হিজড়া বলা হয় না। অর্থাৎ আমাদের বিনির্মিত হিজড়া ধারণার সাথে এই মানুষগুলোর কোনোই সাযুজ্য নেই। এরা কেউই হিজড়া দলে থাকে না। বাবা-মায়ের ঘরে এদের কেউ ছেলের পরিচয়ে, কেউ মেয়ের পরিচয়ে থাকে। পরিবারে থাকলেও পরিচয় সংকটের কারণে তাদের জীবনও ভয়ংকর দুর্বিসহ।

আমাদের ভাবনার সীমাবদ্ধতা ও সুবিধার জন্য মানুষকে আমরা নর ও নারী এই দুই প্রকারে ভাগ করে নিয়েছি। অথচ এর মাঝেও রয়েছে অনেক লৈঙ্গিক পরিচয়। যেমন, ১ এবং ২ মাঝে যে অসীম সংখ্যা রয়েছে তা নিয়ে আমরা মোটেই মাথা ঘামাই না। কিন্তু অসীমের মাঝে একটা ক্ষুদ্র সংখ্যাকে বাদ দিলেও ১ থেকে ২ এ পৌঁছানো যাবে না।

সংখ্যালঘুদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের নির্যাতনের ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসের মতোই পুরানো। লৈঙ্গিক সংখ্যালঘুরাও আমাদের মতো সংখ্যাগুরুদের তাচ্ছিল্য, অবহেলা ও নিপীড়নের শিকার। এটা আদতে চিরাচরিত দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচারের সূত্র।

বিশেষ করে বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাবাবেগ দিয়ে সব কিছু গ্রহণ কিংবা বর্জনের প্রবণতা স্পষ্ট। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে গ্রহণের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই কারণ। অথচ সকল ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলো পড়ে বিশ্লেষণ করে আমি তাদের প্রতি নেতিবাচক বেশি কিছু পাইনি।

পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নূর-এ প্রচ্ছন্নভাবে হলেও লৈঙ্গিক দিক থেকে বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ আছে। ইসলামে ইন্টারসেক্স বা উভয় লিঙ্গের মানুষকে বলা হয় খুনছা। এবং  ট্রান্সওম্যান বা পরিবর্তিত নারীদের বলা হয় মুখান্নাছ। হাদীসে তাদের কথা উল্লেখ আছে। উল্লেখ আছে ফিকাহ শাস্ত্রে।

বিভিন্ন মাহযাবে তাদের অধিকারের কথা বলা আছে। হিন্দু ধর্মের মহাভারত ও রামায়নে তাদের অনেক কাহিনী রয়েছে। মহাবীর অর্জুন বিরাটরাজার দেশে বৃহন্নলার বেশ ধরে ছিলেন। শিখন্ডী, শিব ও পার্বতির মিলিত রূপ অর্ধনারীশ্বর, রামায়ণে ইলা রাজার নারীরূপ ধারণ, স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহিনী রূপ ধারণ, রামায়ণে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের রাম কর্তৃক বর প্রাপ্তি এমন অসংখ্য কাহিনী রয়েছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গুলোর পাতায় পাতায়।

খ্রিষ্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলের পুরাতণ নিয়ম ও নতুন নিয়মে হিজড়াদের এমনকি ব্যাপ্টাইজ হওয়ার বা দীক্ষা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের তিন পিটকের মধ্যে বিনয় পিটকে পারাজিকায় অসংখ্যবার উল্লেখ আছে এই বিশেষ মানুষদের কথা।

বৌদ্ধধর্মে চমৎকার ভাবে মানুষের ভাগ করা হয়েছে। বিনয় পিটকে বলা হয়েছে, লৈঙ্গিক দিক থেকে মানুষ চার ধরণের – নারী, পুরুষ, উভতোব্যঞ্জনকা বা উভয়লিঙ্গ (ইন্টারসেক্স) ও পণ্ডকা বা নপুংসক।

আমি দিনরাত অনেক পরিশ্রম করে সকল ধর্মগ্রন্থ পড়ে গ্রন্থগুলোয় তৃতীয় প্রকৃতির মানুষের উপস্থিতি, গল্প ও অধিকার নিয়ে একটি বই প্রকাশের জন্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছি। সাথে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে তৃতীয় প্রকৃতি নিয়ে প্রচলিত অসাধারণ সংস্কৃতিগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে বইয়ে যুক্ত করেছি।

আমার উদ্দেশ্য খুব সরল। মানুষকে এইটুকু উপলব্ধি করতে সহায়তা করা যে, সৃষ্টিকর্তা এই মানুষদের অন্য সকল সৃষ্টির মতো মর্যাদা দিয়েছেন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে তাদের কথা পর্যাপ্ত ভাবে উল্লেখ আছে।

কিন্তু শুধুমাত্র অজ্ঞতা, মানসিক সংকীর্নতা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার জন্য আমরা এই মানুষগুলোকে ঠকিয়ে যাচ্ছি। তাদের জীবন-যন্ত্রণা বাড়িয়ে তুলছি। কিন্তু আমার আক্ষেপের বিষয় আমি কোনো প্রকাশক পাইনি যিনি এই বই ছাপাতে রাজি। জানি না আমার এই বই কোনোদিন আলোর মুখ দেখবে কি না।

আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন একটি শব্দও বইটিতে নেই। আমি শুধু আমাদের বিবেকবোধের দরজায় একটু টোকা দিতে চেয়েছি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসেরই আলোকে। যাতে করে স্রষ্টার সৃষ্টি এই মানুষগুলোর প্রতি আমরা একটু সহানুভূতিশীল হই। দেখা যাক, আমি আশাবাদী মানুষ। কেউ হয়তো এগিয়ে আসবে।

আমার দু্ই পাশে দুজন তৃতীয় লিঙ্গের সহকর্মী

এই পর্যায়ে এসে কেউ কেউ বলতে পারেন, আজকাল হিজড়ারা যথেষ্ট অত্যাচার করছে পথে ঘাটে, বাসে, রাস্তায়, বিয়ে বাড়িতে, নবজাতকের বাড়িতে। আমি মানছি। কিন্তু কখনো কি আমরা চিন্তা করেছি কেনো তারা এতটা ডেসপারেট হচ্ছে?

এর অন্যতম প্রধান কারণ হিজড়া গুরুরা। তারা ‘ছল্লা’ ও ‘বাধাই’ তোলার জন্য প্রতিটি হিজড়া সদস্যকে পূর্বেই ভাগ করে দেয়া এলাকায় পাঠান। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তুলতে হয় তাদের যেমন করেই হোক। অথচ উঠানো টাকার বলতে গেলে পুরোটাই চলে যায় হিজড়া গুরুর পকেটে।

এই মানুষগুলো অত্যাচারের কারণে ঘর ছেড়েছে। কিন্তু নিস্তার পায় না হিজড়া ডেরায় এসেও। তাদের থাকার জায়গাগুলো দেখে আসবেন একবার দয়া করে। আমি নিশ্চিত, (মাফ করবেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি)  ঘরের পোষা জন্তুগুলোর জন্যও এরচেয়ে অনেক উন্নত থাকার জায়গা রয়েছে।

এই মানুষগুলো পরিবারের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষাদীক্ষা থেকে বঞ্চিত। সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়া তাদের জীবনে ছিলো না। এদের কেউ কাজ দিতে চায় না। থাকার জন্য ঘর ভাড়া দিতে চায় না। সারাটা জীবন আমাদের উপহাস, তাচ্ছিল্য, অবহেলা তাদের ভাগ্যে জুটে। কাছে ডেকে কেউ দুটো কথা পর্যন্ত বলে না। মারা গেলে এদের জানাজা পড়ানোর জন্য মৌলভী পাওয়া যায় না। কবরের জায়গা দেয়া হয় না।

তাদের নেতিবাচক আচরণের জন্য তথাকথিত সভ্য মানুষরা কি দায়ী নই? আমরা কী তাদের জোড় করে খাঁদের ধারে ঠেলে দেই নি। কিসের সভ্যতার বড়াই করি আমরা, যখন ভিন্নতাকে গ্রহণ করার মতো সামান্য সভ্য আমরা হতে পারি না?