ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে মহা বিপাকে এখন সরকারি দল। একদিকে শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী প্রার্থী, অন্যদিকে সমানতালে এগুনো আইভী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নজির না থাকলে হয়তোবা সরকারি দল এত কিছু বিবেচনা না করেই জেলাটির অঘোষিত জমিদার ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের বলে বলিয়ান (!) শামীম ওসমানকেই দিয়ে দিত সমর্থন। কিন্তু মনজুরের মতো আইভীকে নিয়েও যদি খেলে বিএনপি? চিন্তায় পুরো আ’লীগের বয়সই বেড়ে যাচ্ছে। ফলাফল: এখনো পর্যন্ত কাউকেই সমর্থন দিতে পারেনি দলটি।

কিন্তু দুয়েকদিন আগে তাদের পক্ষ থেকে শামীম ওসমানের জন্য যে অফারটি দেয়া হলো তাতে দেশের সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমি হতভম্ব। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তাকে প্রতিমন্ত্রী বানানো হবে। সাথে জেলা আ’লীগের সভাপতির পদও দেয়া হবে তাকে। দলীয় পদ নিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন তারা। কিন্তু প্রতিমন্ত্রিত্বের পুরস্কারটাও কি তারা যখন যাকে ইচ্ছা, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনেই দিয়ে দিতে পারেন! দেশের মন্ত্রীসভার এখন যে অবস্থা তাতে অন্তত কোন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সঙ্কটে ভুগছে বলে মনে হয় না। আর যারা আছেন তাদেরও সরানোর তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, কারণ যদি সরাতেই হয় তাহলে প্রায় পুরো মন্ত্রীসভাই পাল্টানো দরকার।

এর আগেও যাদেরকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী বা উপদেষ্টা বানানো হয়েছে তাদেরও প্রয়োজনীয়তা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। দুর্মুখেরা বলেন, নির্বাচনের আগে বিপক্ষ দলকে নিয়ে ছড়া লিখে বিখ্যাত (!) হয়ে যাওয়া এক মহাশয় ডিজিটার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে চেয়ার পেয়েছেন, নির্বাচনে ঠেলাঠেলি না করায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে গেছেন শরীক দলের একজন। এমন উদাহরণের অভাব নেই। কিন্তু তাদের দেশের কী লাভ হচ্ছে? তাদের দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার সাধারণ মানুষের মাথায় চাপিয়ে দেয়া হবে কেন? এদেশে জন্মানোটাই কি তাহলে পাপ? আগামী দিনে তাহলে কেউ যদি এদেশে তাদের সন্তানদের জন্ম দিত না চায় তাহলে এর জন্য কাকে দায়ী করা যাবে? উত্তরটি আমার জানা নেই। যদি কারো জানা থাকে একটু জানিয়ে দেবেন।