ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এবারের মেয়াদে মহাজোটের তিন বছর পুর্তি উপলক্ষে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু অন্যবারের মতো তার এবারকার ভাষণ নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ লক্ষ্য করিনি। পরে ভাষণটা যখন শুনছিলাম, তখন বুঝলাম, ‘পাবলিক আমার চাইতে অনেক চালাক।’ কারণ সেই গতানুগতিক একই কথা। নিজের দলের সাফল্য। আর যত ব্যর্থতা সব বিরোধীদলের ঘাড়ে। সে কারণে তার ভাষণ শোনার গরজ অনেকের মধ্যেই ছিল না।

কাল যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন কিন্তু দেশের মানুষ আরেকটি বিষয় নিয়ে খুবই ব্যস্ত ছিল। কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ চলাকালেই এটা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, মেয়র পদে সাক্কু জিততে চলেছেন। অর্থাৎ সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী আফজল হারতে চলেছেন। শেষ পর্যন্ত ফলাফল সেইদিকেই এগিয়েছে। সাক্কু জিতে গেছেন।
মহাজোট সরকারের মেয়াদে তিনটি আলোচিত নির্বাচন ছিল তিনটি সিটি মেয়রের নির্বাচন। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা। বিরোধীদলের প্রার্থী জিতেছে, না আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত প্রার্থী জিতেছে, তার চাইতে বড় কথা, সরকারি দল আওয়ামী লীগ যাদেরকে সমর্থন দিয়েছে তারাই হেরেছে।

কদিন আগে দেখা একটি মুভিতে একটি দৃশ্য ছিল এমন, সন্ত্রাসীরা পুলিশ অফিসারের ১ মাস বয়সী বাচ্চাকে কোলে তুলে নেয় মেরে ফেলার জন্য। তখন ওই শিশু সন্ত্রাসীর কোলে হিসু করে দেয়। এদেখে একজন মন্তব্য করেছিল, ওর যা সাধ্য সে তাই করেছে।

আমাদের জনগণের সাধ্যও কিন্তু তাই। এখন সরকারের কাছে চেয়ে কিছু পাওয়া যায় না। উল্টো সরকার যখন ইচ্ছা মূল্যবৃদ্ধির খড়গ চাপিয়ে দিচ্ছে যে কারো মাথায়। বিচার-পুলিশ এগুলোর ওপর তো বিশ্বাস উঠে গেছে সেই কবেই। কিন্তু ওই যে, জনগণের যতটুকু সাধ্য, তাই দেখিয়ে দিচ্ছে তারা বারবার। তিনবছর পুর্তির দিনে সরকারি দলের এ ধরনের বড় হারের অঙ্কটাও তিনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও যদি কেউ কিছু না দেখে, কিছু না শিখে, তাহলে তার দায়ভার কিন্তু জনগণ নেবে না, এ বার্তা দিচ্ছে তারা গত বিশ বছর ধরেই। হয়তোবা সেটাই দেখা যাবে আগামীর নির্বাচনে।