ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গতকাল হতে বাংলাদেশের অনেক স্থানেই জমাত-শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সংবাদ প্রতিটি মিডিয়ার কল্যানেই আমরা জানি। আর এই সংঘর্ষগুলিকে জমাত-শিবিরে পুলিশের উপর আতর্কিত হামলা বললে ভুল হবে। কারন সরকারের শেষ সময়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্য বাধাগ্রস্থ করতে তারা মরন কামড় দিবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আজকের একটি পত্রিকায় “একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই নাশকতা চালাবে জামাত” এ রকম একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। আর এই প্রতিবেদনটিকে জামাতের স্বাভাবিক কর্মসুচী বলেই মনে করছি।

কিন্তু আজকে বেশ কিছু যায়গায় জামাত পুলিশ সংঘর্ষ এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক যায়গায় বিক্ষুদ্ধ জনতা তাদের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়াটি জামাত শিবিরের কাছে ছিল অস্বাভাবিক।কারন বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী জামাত শিবির এতটাই কনফিডেন্ট যে তাদের ৭১’র অপরাধ ভুলে গিয়ে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে ওঠেছে। তারা ভাবতে শুরু করেছে আমরা এখন দেশের প্রায় অর্ধাংশ জনমতের সাথেই আছি কারন বিএনপির সমর্থনটা যেহেতু সাথে আছে। আর বিএনপিতো চাইছেই জমাত দেশে অস্থীতিশীল পরিবেশ তৈরি করুক,কারন তাতে তাদের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সহায়ক নিয়ামক হিসাবে ইস্যু তৈরিতে সুবিধা হবে।

কিন্তু আজকের মেসেজটি বিএনপি, জামাত-শিবিরের জন্য অত্যান্ত বেদনাদায়ক। “মহানগর জামায়াতের আমীর মাহবুবুর রহমান বেলাল দাবি করেন, পুলিশের ইন্ধনেই জনতা তাদের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।”এখন তাদের উপলদ্ধীর বিষয় হল পুলিশের ইন্ধনেই হোক আর স্ব-প্রনোদীতভাবেই হোক জমাত কিন্তু দাবী করেছে জনতা তাদের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে-আ’লীগ সমর্থক বা তাদের কর্মীরা পুলিশের সহয়তায় এই কাজ করেনি। এখন যদি একটু পিছনে ফিরে তাকানো যায় সেই ৭১’র মুক্তি যুদ্ধে আমাদের বীর সেনানী মুক্তি যোদ্ধাদের সহয়তায় আমাদের সহজ সরল জনতাই সেই পাকিস্থানি বর্বর বাহিনির বিরোদ্ধে এমনই গেড়িলা আক্রমন চালিয়েছিল। আর এরই ধারাবহিকতায় আমাদের দেশটি হয়েছিল স্বাধীন।

আজকের এই স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশে জমাতের সেই ভয়াল চান্ডাল আর হায়নার আসল রুপ যখন আবার বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময় জনতার এই প্রতিরোধ যেন সেই ৭১’র পটভুমিটাকেই আমাদের সামনে নিয়ে আসছে। এখন এই প্রতিরোধ আরো বিস্তৃত হয়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরবে যদি জামাতের এই ধরাবাহিক তান্ডব চলতে থাকে। জনতা হলুদ বাতি জ্বালিয়ে সিগন্যল দিয়েছে আর বেশী এগুলে জমাত-শিবির ও এর আশ্যয় প্রশ্রয়দাতাদের লাল বাতি জ্বালিয়ে দেয় হবে সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অতএব সাবধান,জনতা জাগলে পালানোর পথ পাবে না জামাত-শিবির আর এই উপলদ্ধিটা যদি বিএনপির মাথামোটা নেতা-নেত্রীদের মগজে ঠুকে তা হলেই ভাল। নয়ত জামাত-শিবিরের সাথে তাদেরও দিতে হবে শক্ত মাশুল।