ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

কিছু শিক্ষা আমরা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে আমার মা দিয়েছেন আর এই শিক্ষাটিকে আমরা আমাদের প্রথম শিক্ষা হিসাবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই জ্ঞানত অথবা অজান্তেই প্রয়োগ করে চলেছি। এরই ধারাবাহিকতায় বয়সের পরিক্রমিক ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রায় ধাপে ধাপে শিক্ষা নিয়েই এগিয়ে চলি আমৃত্যু। কিন্তু কিছু শিক্ষা আছে যা আমাদের সমষ্টিগত ভাবে নিতে হয় শুধু মাত্র সময়ের প্রয়োজনে। আর এই শিক্ষার প্রয়োগিক তাৎপর্য বা প্রভাবে লাভ লোকসানের হিসাবটিও কষতে হয় সমষ্টিগত ভাবেই।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই এর পক্ষে বিপক্ষে দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছি আমরা। হয়ত একটি পক্ষ বড় আবার একটি পক্ষ ছোট তাতে কি আসে যায়। এখানে এই যুদ্ধে (বিচার প্রক্রিয়ায়)কোন পক্ষ সবচাইতে বেশী সতর্ক এবং কৌশলী এটাই হয়ে ওঠেছে সবচাইতে বেশী মুখ্য। যদিও একটি দেশের সরকার ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষে কোন ব্যাক্তি বিশেষ বাদে একটি চক্রকে বিচারিক আওতায় নিয়ে আসে তখন এই ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় সরকারের ছোটখাট ভুলভ্রান্তিতে শুধরে দিতে সাধারণ জনগনকে এগিয়ে আসা একটি নাগরিক দায়িত্ব। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা এই লাল-সবুজের বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ব্যার্থ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল তারা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হতে আজ অব্দি এক মুহূর্তও থেমে থাকেনি। আর আজ যখন ৭১’র ঘৃণিত অপকর্মের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়ে ওঠেছে তখন তারা দিশেহারা হয়ে চক্রান্তের বিষবাষ্প ছারবে যে কোন মূল্যে এটাই স্বাভাবিক। মরণাপন্ন ব্যক্তিটির কাছে যেমন খড়কুটুও বাঁচার অবলম্বন হয়ে ওঠে ঠিক তেমনি করে ঐ চক্রান্তকারীদের কাছে যে কোন ছোটখাট ইস্যুও বড় করে দেখিয়ে ফায়দা লোটার অপপ্রয়াস বিনা বাধায় প্রসারিত হয়ে ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিতর্ক।

তাই চক্রান্তকারীদের সকল অপপ্রচারকে সঠিক যুক্তিতর্কের মাধ্যমে যে যার অবস্থান থেকে দাঁত ভাঙা জবাব দিয়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশের সম্মান অটুট রাখতে আমি আপনি এবং আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে আমার মায়ের ইজ্জতের পানে যারা শকুনের চোখে তাকিয়েছিল.আমার ভাইয়ের তাজা রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত হয়েছিল,যাদের ঘৃণিত কর্মজজ্ঞের কারনে শত্রুপক্ষের কাজ হয়েছিল আরও সুনিপুণ তাদের সমুলে উৎপাটনের জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে।

তারা যা করার তাতো করছেই এখন আমি,আপনি এবং আমরা করব আমাদের কাজটি…

ছবি-ইন্টারনেট