ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের এলাকায় একটি পাগল পুরো সারা বছর ধরেই এলাকায় ঘুরা ফেরা করত। স্বভাবে ছিল একেবারেই শান্ত কিন্তু কেউ যদি কাছে গিয়ে অথবা দুর হতে তাকে শুনিয়ে “মনা পাগলা” বলত অমনিতেই সে এতই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠতো যে হাতের কাছে যা আছে তা নিয়েই তেড়িয়ে আসত। আমরা স্কুলের যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তাকে দেখতাম কিন্তু পাশকেটে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগত নিজেরা ওকে নাই পাগল বলি কিন্তু অন্য কেউ বলে ফেললে বিপদে পড়তে হবে আশংকায়।

বেশ কিছুদিন আমাদের দেশে একটি মুখরোচক কথা প্রায়ই শুনতাম আর তা হল “খাম্বা তারেক”। আমি তখন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম এতো এতো সুন্দর নাম থাকতে এই খাম্বা বিশেষনটি উনার মত একজন সাবেক রাষ্ট্রতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলের জুটল কেন। পরে খাম্বা বানিজ্যের আদি আন্ত জেনে বুঝতে পারলাম এই বিশেষনটি আসলে উনার ব্যবসায়িক সম্পর্কে সম্পর্কিত।থাম্বা বিষয়ক একটি মজার কাহিনি মনে পরে গেল না বলে পারছি না।

এক এলাকার চারদলীয় এমপি পদপ্রার্থী নির্বাচনি জনসভায় এক এলাকার জনগনের চাহিদা জানতে চাইলে সমস্বরে সবাই বিদ্যুতের আবেদন জানাল এবং সেই এমপি প্রার্থী এই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারনের অঙ্গীকার করিলেন এবং জয়লাভ করিয়া মসনদে আহোরন করিলেন সাথে ঐ নির্বাচনি ওয়াদা বেমালুম ভুলিয়া গেলেন।ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ঐ এলাকার একজন এমপি সাহেবের চামচা জানাইল লিডার আপনি আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন কিন্তু এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয় নাই আর এ নিয়ে এলাকায় নানা কথা হচ্ছে।তাৎক্ষনিক এমপি সাহেব স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে ডেকে আনলেন এবং বলিলেন ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জবাবে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা জানাইল বিদ্যুতের এই আকাল সময়ে বিদ্যুৎ প্রদান অসম্ভব। শুনে এমপি সাহেব রাগান্বিত হয়ে ওঠলেন এবং বললেন আমি তোমাকে বিদ্যুৎ প্রদান করতে বলেছি নাকি লাইন টানার জন্য বলেছি। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি নাই কিন্তু আমাদের নেতা (তারেক জিয়া) কি থাম্বার কোন ঘাটতি রেখেছেন,যাও প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করুন। ঐ এলাকায় সারি সারি খাম্বা বসল এবং তার টানা হল কিন্তু গ্রামে আর বিদ্যুৎ আসে না এরই মধ্যে জোট সরকারের ক্ষমতা শেষ এবং তত্বাবধায়ক সরকারের শেষ পর্যায়ে আবারও ঐ নেতা এমপি প্রার্থী হয়ে ঐ এলাকায় নির্বচনি জনসভা করতে আসলেন এবং বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্মরন করিয়ে দিলেন এই এলাকায় তিনিই বিদ্যুতের লাইন সম্প্রাসারন করে দিয়েছেন। ঠিক তখনই এলাকার এক চেংড়া যুবক চিৎকার করে বলে ওঠল “নেতা আপনার বিদ্যুৎ লাইনে জনগনের কোন উপকার না হলেও এলাকার কুকুর গুলির মহা উপকার হয়েছে,কারন আগে কুকুর গুলি পা উচিয়ে প্রস্রাব করার জন্য গাছ থুজতে হত এখন এই খাম্বা গুলিই যথেষ্ট।

যাই হোক চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে পেয়াজ থেকে শুরু করে তথাকথিত পরিবেশ বান্ধব ফোর ষ্ট্রোক সিএনজি অটোরিস্কা আমদানী হতে হাওয়া ভবনের চেয়ার পার্সন তারেক জিয়াকে কমিশন প্রদানের বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট।আর দেশ বিদেশে কত টাকা পাচার হয়েছে তারও কিয়াদ কিঞ্চিত মিডিয়ার বদলৌতে আমরা অনেকাটাই জানি। আর সেই চোরদের আজ চোর বলা হলে ক্ষমা চাওয়ার জন্য যখন উকিল নোটিশ দেওয়া হয় তখন যথার্থই বলতে হয় “পাগলকে পাগল বলিলে যেমন চটিয়া যায় তেমনি চোরকে চোর বলিলেও চোর ক্ষেপিয়া যাওয়টাই স্বাভাবিক! চোর হোক আর যাই হোক তারওতো একটা মানসম্মান! আছে কি বলেন?

সুত্র….