ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

প্রতিদিনের ন্যায় আজো হাবিবের ঘুমোতে যাওয়াটা একটু দেরি হয়ে গেল। এই দেরিতে ঘুমে যাওয়া এখন আস্তে আস্তে যেন নিয়মেই পরিনত হয়ে যাচ্ছে। যাক সকাল ৮টায় ঘুম ভাঙ্গলো,অবশ্য তাতে আজ তেমন সমস্যা নেই কারন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অতএব হরতাল আছে তাই আস্তে ধীরে বুঝে শুনে বের হওয়া যাবে। দাঁত ব্রাশ করে মুখটা ধুয়ে গায়ে শার্ট জড়িয়ে একটি মিগেরেট ফুঁকতে ফুঁকতে বাসার অদুরের মোড়ের দিকে হাটতে লাগলো। মোড়ে সব মিলিয়ে চারটি দোকান,একটি সেলুন দুইটি চায়ের দোকান আর একটি লন্ড্রি। মোড়ে পৌছে যে চায়ের দোকানটিতে মাঝে মাঝে চা খায় হাবিব সেখানে বসার যায়গা নেই তাই সেলুনে বসেই চা খাবে ভেবে একটি চায়ের কথা বলে সেলুনের চেয়ারটিতে বসে।

সেলুনে কোন কাষ্টমার না থাকায় সেলুনের ছোকরাটি টুলের উপর পা তুলে বসে মোবাইলে গান শুনতেছিল,হাবিবকে দেখে পা নামিয়ে ওঠে দাড়াল এবং সালাম দিয়ে জানতে চাইল ভাইজান শেভ হবেন নাকি? যদিও হাবিব বাসায় নিজেই শেভ হয় তবুও কেন জানি বলল হ্যা। চা চলে আসায় সেলুনের ছোকরা মিন্টু একটু অপেক্ষা করতে লাগলো। চা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেভ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নিতে হাবিকে খুব শান্ত ভাষায় জিঞ্জেস করল-
মিন্টুঃ ভাইজান কালকে রাতে নাকি সাঈদি সাহেবকে আকাশের চাঁদে দেখা গেছে ?
হাবিবঃ তাই নাকি?
মিন্টুঃ হ্যা ভাইজান অনেকেই নাকি দেখেছে।
হাবিবঃ তুমি দেখেছ?
মিন্টুঃ কি যে বলেন ভাইজান আমি হলাম হিন্দু আমি কেমনে দেখমু।
এমন সময়ে এলাকার এক মুরব্বি এসে বসল সেলুনে,হাবিব সালাম দিল কিন্তু মুরব্বি কোন জবাব না দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করল কথাটাকি আসলেই সত্যি নাকি?
প্রশন্টা কাকে করা হয়েছে বুঝতে না পেরে হাবিব এবং মিন্টু দুজনেই চুপ করে রইল। মুরব্বি এবার হাবিবকে উদ্দেশ্য করেই বলল সাঈদি সাহেবকে নাকি চাঁদে দেখা গেছেেআমার এক ভাই দেশ থেকে ফোনে আমাকে জানিয়েছে সেও নাকি নিজ চোখে দেখেছে।
হাবিব কি বলবে বুঝে ওঠতে পারছে না। তবুও বলল আপনি নিজ চোখে না দেথলেতো আর হলনা,অন্যর শুনা কথায় কতটা বিশ্বাস করা যায় বলুন ?
মুরব্বি এবার একটু শক্ত ভাষায় বলল তোমাদের মত পোলাপাইনেরিএই হল একটি দোষ সব কথাতেই যুক্তি খোজার চেষ্টা কর।
এমন সময় পাড়ার বড়ভাই খ্যাত রহমান ভাই এসে ঢুকল এবং কোন কথা না বলে টেবিলের উপর হতে চিরুনি নিয়ে মাথা আচড়াতে লাগলো এবং আনমনে সেন্টুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো-
সাঈদিকে নাকি অনেকেই চাঁদে দেথতে পেয়েছেন,তাতে কোন সমস্যা নাই তবে সমস্যা হল যুদ্ধে নাকি অনেক নারিকে তিনি ধর্ষন করেছে এবং এরই জন্য বর্তমানে সরকার তাকে সাজাও দিছেন,কারন এখানে সরকার আছে.জনগন আছে,কিন্তু চাঁদেতো চাঁদের বুড় একা……..তার নিরাপত্তা কে দেবে?
মুরব্বি বড়ধরনের একটা নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ওঠে চলে গেলেন এবং মিন্টু মুচকি হাসতে হাসতে বলল যা বললেননা রহমান ভাই…..হাবিবের শেভ করা শেষ তাই বাসার দিকে হাটতে লাগলো এবং মনে মনে ভাবলো আজ আর বাসা হতে বের হব না।