ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

নারী, তোমাকেই এগুতে হবে তোমার অধীকার আদায়ে। শংকিত পদযাত্রা

কখনো ধর্মের লেবাস তোমায় করবে বিভ্রান্ত,আধুনিকতার নামে নিয়ে যাবে অন্ধকারের গহিনে কিংবা কখোনো একটু সাহস যোগোতে তোমার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে সামনে আসা সমাজ ও সমাজপতিদের দ্বারা হতে হবে সর্বহারা।

ছোট্র বেলায় একটু একটু যখন বুঝতে শিখেছি ঠিক তখন থেকেই মাথার ভিতর প্রথম মা-বাবা এবং আশেপাশের মানুষগুলি একটি জিনিষ ঠুকিয়ে দিতে শুরু করল তুমি নারী,তুমি অবলা,তুমি প্রতিটি মুহুর্তেই শিকার হতে পার পুরুষতান্ত্রীক সমাজ ব্যাবস্থায় এই একপেশে নারকীয়তার।

আর এর প্রথম শিক্ষাটি পেলাম বাড়িতে গৃহশিক্ষক (লজিং মাষ্টার) এর কাছ হতে। আমরা দুই ভোন,আমার চেয়ে তিন বছরের বড় আমার বড় ভোনটি ছিল একটু কেমন জানি সহজ সরল এবং সব কিছুই খুব সহজে মেনে নেয়ার মানষিকতা সম্পন্ন। কিন্তু আমি এর পুরোপুরি উল্টো। যাই হোক আমাদের সুপ্রিয়! গৃহ শিক্ষক আমাদরে বাসার অদুরে আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্র। আমার মা আবার ধর্ম ভিরু নরম মনের মানুষ,আর ধুর্ত গৃহশিক্ষক প্রথম দিন থেকেই আমার মাকে আম্মা সম্বোধনের চতুরতা দিয়ে তাকে করেছিল মুগ্ধ। তো সকালে আরবি এবং বিকালে স্কুলের পড়া পড়ানো ছিল তার দায়ীত্ব। একদিন কি কারনে যেন আমি সকালে আরবী পড়তে যেতে পারি নাই আপা একাই পড়তে গেলো। আপা ক্লাস সেভেনের ছাত্রী হলেও স্বাস্থ্য বরাবরের মত খুব ভালো। আর এ কারনে ১২-১৩ বছর বয়সে দেখতে একবোরেই যুবতি মেয়ের মত। আপার স্কুলের ক্লাসে কিংবা বান্ধবীদের সাথে যা যা ঘটত/কথা হত সব আমাকে বাসায় এসে বলত। সে দিন পড়া শেষ করে আসার পর আপার দিকে তাকিয়েই কেন জানি মনে হল কিছু একটা হয়েছে। হাসিখুশিতে থাকা আপু সবসময়ই উচ্ছল আর বাসার সবার কাছে মায়ের পরে ভাইয়া কিংবা অন্য সবার বাবার কাছ হতে কিছু আদায়ের প্রধান মাধ্যম সে। বাবা সব সময় আপুকে “মা” আর আমাকে নাম ধরে ডাকতো আর সে কারনে আপুর উপর একটু হিংসে যে হত না তা বলব না। সেই আপুর সুন্দর মুখ লজ্জায় লাল হয়ে আছে আর চোখের কোনে কান্নার স্পষ্ট চিহ্ন আমাকে কেমন জানি কষ্ট দিতে থাকলো। অনকে জোরাজুরি আর তার কষ্টের ভাগিদার আমিও এবং আপনার উপর কিছু ঘটে থাকলে কালকে তা আমাকেও সইতে হবে বুঝনোর ফলে আপু আমাকে সব খুলে বলল। শুনেতো আমি একেবারেই আকাশ থেকে পড়লাম আপু কি বলছে,রাগে নিজের গায়ের মাংস নিজেই কামড়ে ছিরে ফেলতে মন চাইল। আমি তাতক্ষনিক বিষয়টি মাকে জানাব বললে আপু আমার বড় হওয়া সত্বেও পায়ে ধরে বলতে লাগলো এ কথা কাউকে বললে আমি মরে যাব কাউকে মুখ দেখাতে পারবো না তার চেয়ে তুই তো খুব বুদ্ধিমান কিছু একটা কর যাতে আমাকে আর তার সামনে যেতে না হয়।

আমাকে বাড়িতে বড় ভাইয়া হতে কাজের মেয়ে আর আমার মা-তো আছেই সবাই বলত আমি নাকি একই সাথে দশটা শয়তানকে পরিচালিত করতে পারি। আসল কথা হল বাড়িতে যত দুষ্টমি হত ছোট ভাই করলেও কি ভাবে যেন সেটা আমার উপর এসে বর্তাতো। যাই হোক এবার সেই হুজুরের আমল নামা থেকে কিছু বলি,স্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসার আলীম পরিক্ষার্থী, চেহারা মাশাআল্লাহ নুরানী শুভ্র কালো দাড়ীতে যেন যত পুন্য শুধু বেয়েই পড়ছেনা সাথে সাদা পাঞ্জাবী পায়জামায় ১০০% পুন্যবান ব্যাক্তি। এই হুজুরকে আমার এক চাচাতো ভাই (যিনি একটি ইসলামিক রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট ছাত্র নেতা এবং এই হুজুর তার দলের কর্মি)আমার মায়ের কাছে এনে বলল ছেলেটি খুব ভাল এবং গরীব আপনি বলেছিলেন একজন মাষ্টার দরকার তাই নিয়ে এসেছি। মার ব্যাপারে আগেই বলেছি তার নরম মন আবার আমার চাচাতো ভাইয়ের সাপোর্ট ব্যাস হুজুর হয়ে গেলেন আমাদের গৃহ শিক্ষক। এই গৃহ শিক্ষককে প্রথম দিন দেখার পর থেকেই কেনো জানি আমার ভাল লাগছিলনা। আমার দুষ্টমির মাথা যতই ভাল হোক না কেনো পড়ার মাথা কিন্তু গোবরে ভরা আর তাই হুজুরের বেতের আঘাত প্রতিদিনই কিছু না কিছু আমার পিঠে ছিল অবতারিত। আপুর কথা শুনে মনের ভিতর আমাকে মারের এবং আপুর উপর কৃতকর্মের প্রতিশোধ দুই মিলিয়ে আমি হয়ে ওঠলাম অগ্নি কন্যা।

প্রথম অপারেশন: আপুকে শুধু বললাম তুমি শুধু বাবাকে ম্যানেজ করবা যদি কোন বিপদে পড়ি। এখানে সাথে আরএকজনের সহযোগীতা দরকার তাই আমাদের বাসার কাজের মেয়ে হলেও আমরা সবাই তাকে আলেয়াপু (আলেয়া আপুর সংমিশ্রন) বলে ডাকতাম। সব কিছু খুলে না বললেও হুজুরের উপর কিছু একটা করব বলাতে সে ও খুব আগ্রহী হয়ে বলল লুচ্চা হুজুরটা ঘর ঝারু দিতে গেলে শুধু আমার বুকের দিকে তাকিয়ে থাকে,অত এব আরো একজন সৈনিক পাওয়া গেলো আমার দলে। প্রথম দিনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে কোন একটা কারন দেখিয়ে হুজুরের নিকট পড়তে যাবোনা এটার দায়িত্ব আপুর এবং আপু যেভাবেই হোক ঐ দিনের পড়তে যাওয়া বন্ধ করল আমাদের। সকালে গুটি গুটি পায়ে ভাইয়ার রুমে গিয়ে পকেট থেকে দশটাকার একটি নোট সরানোর কাজটি খুব নিপুন ভাবে করে দিল বড় আপু। আর দশটাকার মধ্যে একটি ছোট কাঁচি ও মিনা রং (পিঠায় ব্যাবহার করার লাল রং) এনে দেওয়ার কাজটি করে দিল আলেয়াপু। এবার সুতিক্ষè দৃষ্টি কখন হুজুর রুম থেকে বাহির হয়,বের হওয়ার সাথে সাথে রুমে ঢুকে হুজুরের প্রতিটি পায়জামাতে দুই পায়ের মাঝামাঝি ছয়/সাত ইঞ্চি করে কেটে দিলাম,সাথে সব পাঞ্জাবরি পকেট গুলি কেটে নিলাম এবং আলেয়াপুকে বললাম হুজুর ঘরে ঠুকার সাথে সাথে কাছে থাকবা যাতে হুজুর মাকে বা অন্য কাউকে বলার আগেই তমি জানাবা যে এই কাজ আমি করেছি। যথাসময়ে হুজুর ঘরে আসলো এবং এই অবস্থা দেখে তো টাশকি খাওয়ার অবস্থা। আলেয়াপু ঘর ঝারুর নাটক করে হুজুরের রুমে ঠুকল,আলেয়পুকে জিজ্ঞেস করলো এই রুমে কে ঠুকেছিল যেন মেঘ না চাইতে যেন বৃষ্টি-আলেয়াপু সাথে সাথে বলল ছোট আপাকে দেখেছি এই রুম থেকে বের হতে। সাথে সাথে ডাক পড়ল হুজুরের রুমে আর আমিও এই অপেক্ষাতেই ছিলাম। হুজুরের সামনে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষিপ্ত কন্ঠে জানতে চাইল এই কাজ কে করেছে। আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম আমি করেছি। হুজুর যেন আমাকে কাচা গিলে খায় অবস্থা এমন এবং ফোসতে ফোসতে বললেন এর বিচার আমি করব না আম্মাকে বলছি তিনিই করবেন,অতিরিক্ত বেয়দব হয়ে গেছ বেয়দবির একট সিমা থাকা উচিৎ আরো নানা কথা বলতে বলতে সবগুলি পাঞ্জাবি পায়জামা একসাথে করতে লাগলো। আমি একটু আস্তে করে বললাম ভালই হবে,আপুর শরীরের কোথায় নাকি আপনি হাত দিয়েছেন এটাও এই সুযোগে মাকে বলা হয়ে যাবে। চলুন হুজুর, মায়ের ঘরে যাই। আমার আজও সেই কথা মনে পড়লে হাসিতে বুক ফেটে যায় এই কথা বলার সাথে সাথে হুজুরের মুখের যে অবস্থা হযেছিল তা ভাবলে। হুজুরের মুখের যে অবস্থা তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আপনারাই ভেবে নিন।

অপরেশন ২: ঐ দিন রাত্রে হুজুরের রুমে যথা নিয়মে আলেয়াপু খাবার নিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি তরকারিতে অতিরিক্ত দুই চামচ মরিচের গুড়া মিশিয়ে দেওয়া হল এবং এর কারনে ঐ রাত্রে তিনি না খেয়েই ঘুমাতে হল। এবং তা ধারাবহিক ভাবেই চলতে থাকলো। এর পর হুজুরের অনুপস্থিতিতে পাঞ্জাবির পকেটে,পায়জামার চিপিতে,জুতার ভেতর এমনকি টুপির ভিতর গুড়া লাল রং(মিনা রং) দিয়ে রাখা হল। পাঞ্জাবী পায়জামা ধুতে গিয়ে হুজুর আবিস্কার করলেন সাদা পাঞ্জাবী/পায়জামা হঠাৎ লাল হয়ে যাচ্ছে এবং এই রং যতই ধোয়া হচ্ছে রং আর ওঠছে না। জুতা পা দিয়ে ঘুরে এসে ওজু করতে গিয়ে দেখেন মাথা আর পা লালে লাল হয়ে গেছে। হজুর হুংকার দিয়ে আমাকে শাসাতে যাবেন ওমনি আমি ডেকে ওঠলাম মা-মা- একটু গলা নামিয়ে বললাম এখোনো মা ভাইয়া এবং আব্বু কিছু জানেন না আগামী কাল সকালে আপনাকে এ বাসায় আর দেখতে চাইনা, নয়ত আরো ভয়ংকর কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

পরদিন মাদ্রাসা থেকে এসেই হুজুর সরাসরি মায়ের রুমে ঢুকল এবং মাকে জানালো তার পরীক্ষা সামনে তাই এই সময়টা সে মাদ্রাসার বোডিংয়ে থেকে পরবে অতএব আজই চলে যাচ্ছেন তিনি। ঐ দিন বিকালে রিকসা ডেকে সব কিছু নিয়ে চলে যাওয়ার মুহুর্তে আমাদের দেখে একটু স্মিত হাস্য দিয়ে রিকসায় চরে বিদায় নিলেন।

ঐ সময় হুজুরের ঐ স্মিত হাসি আমাকে কী বুঝাতে চেয়েছে তা বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারি,আর এর অর্থ হচ্ছে তোমাদের এই পুরুষতান্ত্রীক সমাজে এ ভাবেই প্রতি মুহুর্ত যুদ্ধ আর কৌশল করেই বাঁচতে হবে কারন তোমরা যে নারী!

চলবে……….