ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

মাধবকুন্ডু জলপ্রপাত

মাধবকুন্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য। মাধবকুণ্ডু তেমনি সৌন্দর্য পিপাসু ও ভ্রমণ বিলাসীদের কাছে হয়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় স্থান। দেশের উত্তর পূর্বের জেলা মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডু। এবার পূজোর ছুটিতে হঠাৎই পরিবার নিয়ে ঘুরে এলাম মাধবকুণ্ডে। আগেরবার যখন (২০০৮ সালে) সেখানে গিয়েছিলাম তখন ইকোপার্কটির ব্যবস্থাপনায় বেশ দুর্বলতা ছিল, পার্কের রাস্তাটি তখন ভাঙ্গা ছিল, প্রপাত এলাকার নিরাপত্তাও তেমন ভাল ছিল না। এখন রাস্তাটি বেশ সুন্দর করে টাইলস দিয়ে বাঁধাই করা হয়েছে, পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাও বেশ ভাল, আর সব থেকে ভাল করেছে প্রপাত এলাকার নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য দর্শন ব্যবস্থা। প্রপাতের একদিকে দর্শনার্থীদের বসার জন্য শেড আছে। একটি কৃত্রিম ঝর্ণার ব্যবস্থা আছে, যার কারণে ঝর্ণার নীচে বেশ খানিকটা এলাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জল সবসময় জমা থাকে, চাইলে সেই বিস্তৃত জলাধারের ঝর্ণার শীতল জলে স্নানও করে নিতে পারেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ আটোসাঁটো করেছে। নিরাপত্তা বেড়িকেড আছে, সার্বক্ষণিক পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মজুদ আছে। এখানে সেখানে নিরাপত্তার বার্তাসমেত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো আছে একটু খেয়াল করে পড়ে নেবেন। তারপরও খেয়াল রাখবেন আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতে। গেটের বাইরে ও পার্কের ভিতরে পাবলিক টয়লেট ও পোশাক পাল্টানোর ব্যবস্থা আছে, যদিও প্রতিবার যাওয়ার জন্যে আপনাকে পাঁচ-দশ টাকা করে গুনতে হবে। তবুও দিতে কার্পণ্য করবেন না কারণ জীবনের তাগিদে কয়েকটি কিশোর ছেলে টয়লেটটির দেখাশুনা করে। এছাড়াও আদিবাসীদের হস্তশিল্পের বেশ কিছু জিনিসপত্র পাবেন, চাইলেই কিনে নিতে পারেন। পর্যটন কর্পোরেশনের একটি রেস্টুরেন্ট আছে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খেতে পারবেন (মূল্য একটু বেশীই গুনতে হবে আরকি), সাথে পিকনিক কর্নারও আছে প্রতিদিনের ভাড়া ১০০০ টাকা। পার্কের ভিতরে শ্রী মাধবেশ্বর শিব মন্দির অবস্থিত, ভক্তরা চাইলে অঞ্জলী দিয়ে আসতে পারেন। সব মিলিয়ে একটি দিন ভালোভাবেই উপভোগ করতে পারবেন। সড়ক ও রেল উভয় পথেই ভ্রমণ করতে পারবেন।