ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে খুন বেশ কিছুদিন ধরে একটি নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল খুললেই এ ধরণের কিছু খবর থাকবেই। মিছিল, মিটিং, মানব্বন্ধন, মোমবাতি মিছিল কোন কিছুই এই রোগের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না।

ছোটবেলায় স্কুলের কবিতার বইয়ে সফদার ডাক্তার নামে একজন ডাক্তারের কথা পড়েছি। তিনি আমাশয় রোগিদের আমাশয়ের ভুত কিলিয়ে তাড়াতেন,

“আমাশয় হলে পরে দুই হাতে কান ধরে,

পেটটারে ঠিক করে কিলিয়ে।”

কথাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাটা খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করবি, উলটাপালটা খাবি তো আমাশয় হবে না তো ডিসেন্ট্রি হবে? দ্যাখ উলটাপালটা খাওয়ার কি মজা। আমার মনে হয় ফলশ্রুতিতে রোগি ডাক্তারের মারের ভয়ে উলটাপালটা খাওয়া বন্ধ করে দিত আর তাই রোগও কমে আসত।

তেমনি বর্তমান বিশ্বে ‘এনকাউন্টার’ বা ‘ক্রস ফায়ার’ নামে একটা বিশেষ প্রযুক্তি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোতে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেখানে কিছু ‘বিপথগামী’ মানুষের জঙ্গীপনা বিশেষতঃ আগ্নেয় অস্ত্রের সন্ত্রাস বেড়ে যাচ্ছে সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এই প্রযুক্তি বেশ সাফল্যের সাথে ব্যবহার করছে এবং ভাল ফল পাচ্ছে। যদিও আমাদের দেশ এই প্রযুক্তির ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য অনেক দুর্ণাম কুড়িয়েছে, এবং বলা হয়ে থাকে সরকার এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তবে সেই ভয়ংকর আগুন সন্ত্রাসের দিনগুলির কথা মনে হলে প্রযুক্তিটি যে কাজে দিয়েছে সেটা আমরা সবাই অনুভব করি।

আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তো আগ্নেয় সন্ত্রাসীদের ভালোভাবেই ঠান্ডা করেছে, কিন্তু ঠান্ডা করতে পারছে না এই ধর্ষণ সন্ত্রাসীদের। একসময় আমাদের দেশেই ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে আর একটি প্রযুক্তি চালু হয়েছিল, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে চিহ্নিত অপরাধীরা আটক হলে জেলের মধ্যেই তাদের ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়ে যেত? অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ‘এনকাউন্টার’ এ দেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর যুক্তি হলো, “অপরাধীকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ এর মধ্যে পড়ে অমুক নিহত হয়েছে” এবং প্রতিটি বন্দুকযুদ্ধই এই একই রীতিতে চলে আসছে।

তাহলে ধর্ষণ সন্ত্রাসীদের ঠান্ডা করতে নিরাপত্তা বাহিনী কি এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারে? আমার মনে হয় না। কারণ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পক্ষে একটা যুক্তি থাকে তাদের অস্ত্রধারী আরো সাঙ্গপাঙ্গ আছে, কাজেই একটা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হতেই পারে। কিন্তু ধর্ষণ সন্ত্রাসীদের অনেক ক্ষেত্রে সাঙ্গপাঙ্গ থাকার প্রমাণ মিললেও আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে খুন করার নজীর কম তাই তাদের ‘ক্রসফায়ার’ এ দিতে সমস্যা আছে। তাহলে উপায় কি? আমি আগেই বলেছি, আমাদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীই ‘ক্লিন হার্ট’ চালু করেছিল। সেটাই হতে পারে এই রোগের মহৌষধ! হয়ত আমাদের কথিত ‘মানব অধিকার’ বাদীগণ এর সাথে একমত হবেন না, কিন্তু এই জঘন্য অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে এর চেয়ে আর মোক্ষম ওষুধ আর হতে পারে না। কেন এ কথা বলছি? আমরা ভালো করেই জানি ধর্ষণের ক্ষেত্রে সুবিচার পাওয়া একটি কঠিন কাজ, কারণ বিচার প্রক্রিয়ায় এমন কিছু প্রামাণিক দলিল ও এভিডেন্স উপস্থাপন করতে হয় যা সংগ্রহ করে দীর্ঘ মেয়াদী বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সাধারণভাবে আক্রান্তের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাছাড়াও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয় তো আছেই। আর বিষয়টা যেহেতু দেশের আইন-শৃংখলার ইস্যু কাজেই মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও দায়ভার থাকছেই। কাজেই অস্ত্র সন্ত্রাসীদের তারা যেভাবে সামাল দিচ্ছেন এই ধর্ষণ সন্ত্রাসীদেরও সেভাবে সামাল দিলে দেশের ক্ষতির চেয়ে মঙ্গলই বেশি হবে।

এখন কথা হলো নিরাপত্তা বাহিনী ধর্ষণ সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছে না কেন? আমার মনে হয় এখানে তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। কারণ গবেষণা বলে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো ৯০% পরিচিত মহলেই ঘটে থাকে, কাজেই আক্রান্তের পরিচিত মহলে ভালো করে চিরুনী তল্লাশী চালালেই অপরাধীকে ধরা কোন বিষয়ই না। ধর্ষণ সন্ত্রাস ধীরে ধীরে আমার সমাজে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, কাজেই পুরো সমাজকে এই মারণরোগের হাত থেকে বাঁচাতে উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগে থেকেই নিতে হবে।