ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

বিশ্বের মেহনতি মানুষের সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক মহান মে দিবস। দীর্ঘ আন্দোলন, নিপীড়ন, রক্তক্ষয় ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ থেকে প্রায় সোয়া’শ বছর আগে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দিনে আট ঘন্টা কাজের সময়সহ আরো কিছু দাবী মেনে নিয়েছিল। এখন বিশ্বের সকল দেশই শ্রমিকদের সে সকল অধিকারসমূহ আইন করে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বাস্তবে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো কতটুকু মেনে চলা হয় সে বিষয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহের অবকাশ আছে। বিশেষতঃ ইনফরমাল সেক্টর সমূহ যেমন– দোকান, খামার, হোটেল, গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, কৃষি শ্রমিক, গৃহস্থালি শ্রমিক ইত্যাদিতে যারা কাজ করে তাদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত? বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, এ সকল খাতে এখনও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। যাই হোক আমার আজকের প্রবন্ধের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শিশুশ্রমের উপর আলোকপাত করা তাই আলোচনা প্রসঙ্গ শিশুশ্রমের মধ্যেই নিবদ্ধ থাকবে।

আজ ভোর পাঁচটার সময় হাটতে বেড়িয়েছিলাম। রামপুরা টিভি ভবনের পাশে বনশ্রীর মেইন রোডে দেখতে পেলাম নয়-দশ বছরের একটি ছেলে ও সাত-আট বছরের একটি মেয়ে তাদের মায়ের সাথে আবর্জনার স্তূপ থেকে ফেলে দেয়া বোতল-কাগজ ইত্যাদি কুড়াচ্ছে। ছুটির দিন বিধায় হাতিরঝিলে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ সেরে হাটতে হাটতে তেজগাঁওয়ের দিকে গিয়েছিলাম, ক্ষুধা লাগায় হাতিরঝিলের পাশেই গলিতে একটা হোটেলে খেতে বসেছিলাম। সেখানে দেখলাম প্রায় ছয় সাত জন কর্মীর মধ্যে চারজনই ১৮ বছরের নীচে হবে।

সবচেয়ে ছোট ছেলেটিকে ডেকে নাম জিজ্ঞাসা করলে বলল মোঃ সোহাগ মিয়া, বাড়ি হবিগঞ্জে। বয়স দশ এগার বছর। কতদিন হলো জানতে চাইলাম, বলল মাস খানেক। বাড়িতে বাবা-মা আছে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এখানে কিভাবে এসেছে জানতে চাইলে বলল, দোকানের কয়েকজনের বাড়ি তার বাড়ির কাছে, তারাই নিয়ে এসেছে। বেতন এখনও ঠিক হয় নি। আজকে ছুটির দিন জানে কিনা জানতে চাইলে বলল জানে না। ভোর পাঁচটা থেকে প্রায় রাত বারোটা অবধি ডিউটি করতে হয়। তারপর দোকান বন্ধ করে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।

সোহাগের চেয়ে একটু বেশি বয়সী ছেলে ছিল, ষোল কি সতের বছর বয়স, জিজ্ঞাসা করলাম ওর বেতন কত। বলল আড়াই হাজার টাকা। সাপ্তাহিক কোন ছুটি নেই, তিন মাস অন্তর চার দিনের ছুটি পায় বাড়ি যাওয়ার জন্য। ঐ চার দিনের বেতন মালিক তাদের দিয়ে দেয়। এখানে কাজ করার অসুবিধা কি জানতে চাইলে বলল, পরিশ্রম বেশি, তার উপর ঘুমানো যায় না ঠিক মত। যে সকল ছেলেরা বাসন-কোসন ধোয়ার কাজ করে, সারাক্ষণ ময়লা লাগা ও হাত ভিজা থাকার কারণে হাতে ঘা হয়, চুলকানি হয়। সেখানে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম রাস্তা ওপারে অন্য একটি হোটেলেও দুজন শিশু কাজ করছে।

মে দিবসে কর্মজীবি শিশু

হাতিরঝিল থেকে বাসায় ফিরে দুপুর বারোটার দিকে বের হয়ে যাত্রাবাড়ির দিকে গেলাম, গার্মেন্টস কারখানা সহ অনেক দোকান-পাট, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেশির ভাগ দোকান, মোটর সাইকেল গ্যারেজ, মোটর গ্যারেজ, ওয়েলডিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং পাবলিক পরিবহন খোলা ছিল এবং সেখানে শিশুরা যথারীতি কাজ করছে। যেতে যেতে মুগদার কাছাকাছি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে উনিশ কুড়ি বছরের একটি ছেলেকে দেখলাম মাথায় লাল ফিতা বেঁধে আছে।

ওর কাছে জানতে চাইলাম সে মাথায় লাল ফিতা বেঁধেছে কেন।সে বলল আজ শ্রমিক দিবস তাই। জিজ্ঞাসা করলাম মিছিলে সে গেছিল কিনা, বলল না। ছুটির কথা জানতে চাইলে বলল আজ হাফ বেলা ছুটি। মহাজনের জরুরী কাজ আছে তাই সারা দিনের জন্য ছুটি দেয়নি।

কয়েকটা দোকান পরে আর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে তের-চৌদ্দ বছরের একটি ছেলেকে দেখলাম, তারও মাথায় লাল ফিতা বাঁধা। সে আর একজন বড় ছেলের সাথে একটা লেদ মেশিনে কাজ করছে। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কারো নিরাপদ সতর্কতার কোন প্রস্তুতি ছিল না। মালিক দোকানেই ছিল। ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম লাল ফিতা কেন মাথায় বেঁধেছে। সে কোন উত্তর দিতে পারল না। তার পাশের আর একটা ছেলে বলল, সকালে অন্য ছেলেরা পড়ে গেছিল তাই সেও পড়েছে। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, মালিক ও অন্যান্যরা কোন সম্মতি দিল না। মনে হলো মালিক একটু ভরকে গেছে, আমাকে বলল কথা বলে কি হবে। আমি বললাম, ও মাথায় লাল ফিতা বেঁধেছে সে সম্পর্কে কিছু জানে কিনা তাই জিজ্ঞাসা করব। জেনে কি করব তিনি জানতে চাইলে বললাম আজ শ্রমিক দিবসে তাদের নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছি তাই। তখন তিনি মনে হয় আরো ভরকে গিয়ে বললেন, অন্য ছেলেরা তাকে দিয়েছে, ও আসলে কিছু জানে না। যারা আন্দোলন-টান্দোলন করে তারাই এগুলো করে। দেখলাম ছেলেটি মাথা থেকে লাল ফিতা খুলে ফেলল।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের শিশুশ্রম মূলতঃ ইনফরমাল সেক্টর কেন্দ্রিক এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক শিশু শ্রমে নিয়োজিত আছে। বাংলাদেশের ৫-১৪ বছর বয়সী মোট শিশুর ১২.৮ শতাংশ শিশু বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭.৪ মিলিয়ন শিশু কর্মে নিয়োজিত তন্মধ্যে ৪.৭ মিলিয়ন শিশুর বয়স ৫ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। ১.৩ মিলিয়ন শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী কর্মজীবি শিশুদের খাত ভিত্তিক কর্ম বিভাজনের হলোঃ কৃষিখাতে ৪৫.৫ শতাংশ, সেবাখাতে ৩৬ শতাংশ এবং শিল্পখাতে ১৮.৫ শতাংশ। অন্যদিকে শহরের বস্তির ১৯.১ শতাংশ ও ট্রাইবাল জনগোষ্ঠীর ১৭.৬ শতাংশ শিশু অর্থনৈতিক কর্মে নিয়োজিত। কর্মজীবি শিশুদের তিন-চতুর্থাংশই ছেলে শিশু।

বয়স অনুসারে সপ্তাহে কমপক্ষে ১ ঘন্টার বেশি অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থাকা ও প্রকৃতি বিবেচনায় তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সমূহ বিবেচনা করে ILO কর্মজীবি শিশুদের তিনটি ভাগে ভাগ করেছে। প্রথমতঃ ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরা সপ্তাহে ১ ঘন্টার বেশি অর্থনৈতিক কাজে বা ২৮ ঘন্টার বেশি গৃহস্থালী কাজে নিয়োজিত থাকলে; দ্বিতীয়তঃ ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা সপ্তাহে ১৪ ঘন্টার বেশি অর্থনৈতিক কাজে বা ২৮ ঘন্টার বেশি গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত থাকলে এবং তৃতীয়তঃ ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা সপ্তাহে ৪৩ ঘন্টার বেশি অর্থনৈতিক বা গৃহস্থালী কাজে নিয়োজিত থাকলে সে গুলোকে শিশুশ্রম বলা হবে।

বাংলাদেশে শিশুরা সাধারণতঃ যে সকল কাজে নিয়োজিত থাকে তা হলোঃ

১। কৃষিখাতঃ কৃষিকাজ, মধু সংগ্রহ, চা চাষ, পোল্ট্রি ফার্ম, মাছ ধরা এবং মাছ প্রক্রিয়াকরণ (শুটকি)

২। শিল্পখাতঃ লবণ সংগ্রহ, বিড়ি কারখানা, ইটভাটা, জুতা কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, গ্লাস ফ্যাক্টরী, পাটকল, চামড়ার কারখানা, ম্যাচ ফ্যাক্টরী, সাবান ফ্যাক্টরী, স্টিলের আসবাবপত্রের কারখানা, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, ছুতার, ঝালাই শিল্প, নির্মানকাজ, ইত্যাদি।

৩। সেবাখাতঃ গৃহস্থালি কাজ, রিক্সা চালানো, ঠেলা ও ভ্যান চালানো, কুলি, মজুর, রাস্তার কাজ – ময়লা টোকানো, ফেরি, ভিক্ষাবৃত্তি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ির গ্যারেজ ইত্যাদি।

বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় শিশুশ্রমকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নেয়া হয়। সাধারণতঃ দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই শিশু বয়সে কর্মে নিয়োজিত হয়ে থাকে। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে পারিবারিক রুটিরুজির প্রধান অবলম্বন হিসাবে মনে করে থাকে। এ কারণে তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর পরিবর্তে রোজগারের পথে পাঠিয়ে থাকে। অন্যদিকে বয়স্ক শ্রমিকের তুলনায় সস্তা হওয়ার কারণে মালিকরাও শিশুশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের যখন অর্থ উপার্জনের জন্য নিয়োগ করা হয় তখন তাদের লেখাপড়া ও বৃদ্ধি-বিকাশের অন্যান্য পথ গুলো রুদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এমতাবস্থায় শিশুরা শোষণ, বৈষম্য, নির্যাতন ও পাচার সহ বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে থাকে। ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সকল কর্মজীবি শিশুই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। গত কয়েক দশকে দেশের দ্রুত শহরায়নের ফলে মানুষের শহরমুখী অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ কাজের আশায় শহরের বস্তিগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এবং ছেলেমেয়েদের কাজে নিযুক্ত করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুরা বাবা-মা ছাড়াই শহরে এসে আশ্রয় নিয়ে থাকে। সাধারণভাবেই এ সকল শিশুরা নিম্ন মজুরীর ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ২০১১ সালে শিশু নীতিমালায় দেশের সকল পর্যায় থেকে শিশুশ্রম বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় শিশুদের জন্য যথাযথ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি, তাদের সকল প্রকার অসামাজিক, আত্মমর্যাদা হানিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের শিক্ষা, বিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে, তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা বেঁধে দিয়ে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও কোন শিশু অসুস্থতা বোধ করলে তাদের পরিবারের সাথে সত্ত্বর যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে নিয়োগ কর্তাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোন শিশু কোন গৃহস্থালী কাজে নিয়োজিত থাকলে তাদের নিয়োগ কর্তা তাদের জন্য সকল প্রকার শিক্ষা, খাদ্য, বাসস্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখবে, তাদের কোন প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করবে না এবং প্রতি মাসে অন্তত একবার তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, দেশে আইন থাকলেও মানুষের সচেতনতার অভাব এবং যথাযথভাবে আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে দেশে কর্মজীবি শিশুদের জন্য সুস্থ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিশুরা যেমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তেমনি প্রায়ই কর্মজীবি শিশুদের প্রতি বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসছে।

আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। শিশুশ্রম শিশুদের যথোপযুক্ত বুদ্ধি ও দক্ষতা বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যার কারণে দেশের জন্য ভবিষ্যৎ দক্ষ জনবল তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুদুর প্রসারী গতিশীলতা সচল রাখতে হলে দক্ষ জনবল কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই সকল শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যাবশ্যক। একথা ঠিক যে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় শিশুশ্রম সহসাই বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তন আবশ্যক। সেক্ষেত্রে দেশের সকল কর্মজীবি শিশুর সুস্থ বিকাশ ও কর্মে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সকলের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকল প্রকার বৈষম্য, নির্যাতন ও শোষণ থেকে রক্ষা করার ও বিনোদনের সঠিক ব্যবস্থা করা জরুরী এবং সেই সাথে কর্মজীবি শিশুদের জন্য সুস্থ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদের যাতে কোন প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে  নিয়োগ করা না হয় সে লক্ষ্যে আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী।

তথ্যসূত্রঃ

  1. Findings on the Worst Forms of Child labour, 2014. ILO
  2. Child Labour in Bangladesh, Wikipedia
  3. Child Labour in Bangladesh, UNICEF, 2010
  4. National Child Policy 2011