ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

একই চিত্র বার বার ফিরে আসছে – কোন পরিবর্তন নেই। দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন! কোন এক কুলাঙ্গার একজনের ফেসবুক ওয়ালে আপত্তিকর একটি বিষয় ট্যাগ করল বলে পুরো রামুর সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-উপাসনালয় ভস্মীভূত হলো। ফটোশপে এডিট করে কোন এক কুলাঙ্গার ফেসবুকে আপত্তিকর কিছু পোষ্ট করল বলে পুরো নাসিরনগরের সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-উপাসনালয় ভস্মীভূত হলো এবং এখন সারাদেশে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশে ভোট আসলে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, পার্শ্ববতী দেশে কোন ঘটনা ঘটলে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এ কোন দেশ? এক-দুজনের পাপের প্রায়শ্চিত্ত পুরো একটা সম্প্রদায়কে করতে হবে?

দুঃখজনক বিষয় হলো নাসিরনগরের ঘটনায় দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ঝান্ডাধারী সরকারের একজন মন্ত্রী উল্টা সংখ্যালঘুদের উপরই দায় চাপিয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী সংখ্যালঘুদের ‘মালাউন’ বলে গালি দিয়েছে সেটা কোন বিষয়ই না। কারণ হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলাটা মুসলিমদের হাজার বছরের অভ্যেস। সেই মজ্জাগত অভ্যেস ছেড়ে এত সহজে কেউ বেড়িয়ে আসতে পারা খুবই কঠিন। ভয় হলো মন্ত্রীর বক্তব্যের পরের অংশ নিয়ে। “মালাউনের বাচ্চারা বেশি বাড়াবাড়ি করছে” মন্ত্রীর কথার শেষের এই অংশই মানুষকে আরো উত্তেজিত করেছে এবং তারা এখনও সোৎসাহে হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘর পুড়িয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুকে বিভিন্ন জনের আপডেট দেখে ‘মালাউন’ নামক এই আরবী শব্দের অর্থ জানলাম ‘অভিশপ্ত’। এই দেশে বসবাসকারী হিন্দুরা আসলেই অভিশপ্ত। মোহাম্মদ আলী জিন্নার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের স্বার্থেই হোক আর যে কোন কারণেই হোক না কেন বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ড একদিন মুসলিমদের জন্যই আলাদা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কিছু অভিশপ্ত মানুষ এই দেশ ছেড়ে যেতে পারে নি – তারাই আজ প্রতি মুহুর্তে লাথিগুতা খেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দেশে বসবাস করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’র যে শ্লোগান তোলা হয়েছিল সেটা পুরোপুরি রাজনৈতিক বক্তব্য। সেটা কেউ মনেপ্রাণে বিশ্বাসও করত না, মানতও না। যার কারণে সেই স্বাধীনতার অর্ধশতক পরেও ধর্মীয় পরিচয় দেশের মানুষের সব থেকে বড় বিভেদের দেয়াল হয়ে আছে। আর যখন তখন সাপ্রদায়িকতার আগুনে জ্বলছে অসংখ্য মানুষের বসতবাড়ি, উপাসনালয়, জানমাল। দেশের সংখ্যালঘুরা যেন বলির পাঁঠা। উগ্র জঙ্গীগোষ্ঠী দেশে আতঙ্ক ছড়াতে বেছে নেয় সংখ্যালঘু, রাজনৈতিক দল ভোটে হেরে গেলে বেছে নেয় সংখ্যালঘু, উন্মত্ত জনতা তাদের ক্রোধ মেটাতে বেছে নেয় সংখ্যালঘু। হায় রে কি পরিহাস!

ধর্ম বা রাজনীতি দুটোর কোনটাতেই আমার আগ্রহ নেই কিন্তু আমার আশঙ্কা হলো দেশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে। দেশে কোথাও কোন ঘটনা ঘটলেই পরিবার পরিজন নিয়ে আশংকায় থাকি। এই নিরাপত্তাহীন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পরিসমাপ্তি চাই। দেশের নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের প্রতি অনুরোধ শুধু ফাঁকা বুলি নয় প্রকৃত সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন।