ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত কিছুদিন ধরে একটা বিষয় বুঝতে পারছিলাম না, শফিক রেহমান হঠাৎ করে এত বেশী ক্রেজি হয়ে গেল কেন? ইদানিং তিনি খুব বেশী জ্বালাময়ী বক্তব্য দিচ্ছেন। তার জ্বালাময়ী বক্তব্যের কারনে বর্তমানে ফকরুল সাহেব ফ্লপ খেয়ে দিশাহারা অবস্থায়। এই শফিক রেহমানের কারনে দিশাহারা হয়ে গতকাল ফকরুল সাহেব সরকারের দেয়া ধন্যবাদ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

আমরা জানি শফিক রেহমান একজন বিএনপি পন্থি সাংবাদিক। বিগত বেশ কিছু বছর যাবত তিনি খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ড্রাফট লেখেন এবং উপদেশ দেন। এটা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। শেখ হাসিনা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের এমন উপদেষ্টা থাকেন। তারা নেপথ্যে থেকে তাদের স্ব-স্ব আদর্শের রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু তারা কখনও জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে দেশ কাপান না। শফিক রেহমানও জ্বালাময়ী বক্তব্য দিতেন না তিনিও নেপথ্যেই ছিলেন। তিনি একজন রোমান্টিক মানুষ। বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশে ভ্যালেন্টাইন ডে আমদানীকারক তিনিই। টেলিভিশনে লাল-গোলাপ নামক রোমান্টিক এবং কিছুটা পলিটিক্যাল অনুষ্ঠান করতেন।

এই রোমান্টিক মানুষটাই হঠাৎ করে পরিবর্তন হয়ে গেলেন। গতকাল তিনি অগ্নিগর্ভ বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভারতে ও আমেরিকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। গত ২৭ মার্চ তিনি সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেল, “এভাবে চললে বর্তমান সরকারের পরিণতিও ‘স্বৈরাচার এরশাদ সরকার ও ১৯৭৫ পূর্ববর্তী সরকারের মতো’ হবে।” তিনি গতকাল কয়েকটা বই লিখেছেন, তার মধ্যে ২টা বইয়ের নাম ‘নেড়িকুকুরের কাণ্ড’, ‘নেড়িকুকুরের কীর্তি’। বইয়ের নাম করনে কি অসাধারন ভাষার ব্যবহার! কিছুতেই মাথায় আসছিল না শফিক রেহমান হঠাৎ এত উত্তেজিত কেন !

বাংলায় একটা কথা আছে, এক বালতি দুধের মধ্যে যদি এক ফোটা গরুর চোনা(মুত্র) পড়ে তাহলে পুরা বালতি দুধ নষ্ট হয়ে যায়। ‘লাল-গোলাপ’ যখন টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে দেশের জনগনকে দিতেন ততদিন পর্যন্ত তাকে রোমান্টিক মানুষ বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু যখনই ‘লাল-গোলাপ’ টা তিনি একজন নেত্রীর হাতে দিলেন তখনই তার কথায় রোমান্টিকতা উধাও এখন তিনি একজন হিংস্র রাজনৈতিক নেতা। বাংলায় আরেকটি কথা আছে, “সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।”

নাকি এখন ‘লাল-গোলাপ রোমান্টিকতা’ সফলতায় রূপ নিয়েছে আর তাই রোমান্টিকতা শুধুই একজনের জন্য। তাহলে আমরা আশা করতে পারি লাল-গোলাপ টা একজনকে দিয়ে অচিরেই তিনি আমাদের মাঝে রাজনৈতিক নেতা হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছেন।