ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

বাংলা সাহিত্যের তথাকথিত জনপ্রিয় লেখক হুমায়ন আহমেদ সম্প্রতি লেখা দেয়াল উপন্যাস আদালত নিষিদ্ধ করেছে। “সংশোধন’ না করে হুমায়ূনের দেয়াল ‘প্রকাশ’ নয়” বলে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে। আমি তথাকথিত জনপ্রিয় বলেছি এই কারনে যে আমাদের দেশে সাহিত্য গুন বিচার করে বই পড়ার বা বোধের জায়গা থেকে বই পড়ার চেয়ে সস্তা গল্পের বই পড়ার পাঠক বেশী। কারন বুঝে বই পড়তে হলে অনেক সময় লাগে, অত সময় আমাদের দেমের পাঠকদের নাই অথবা আমাদের দেশের পাঠকরা সামান্য বিনোদন অথবা ফ্যান্টাসির জন্য বই পড়ে। আমার মনে হয় শুধু এই কারনে বাংলাদেশের জনগন সাহিত্যগুন বিচার না করেই হুজুগে হুমায়ন আহমেদের বই পড়তে থাকে। ঠিক যেমনটি ঘটে গানের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে মমতাজ-আসিফ, হাল আমলের হৃদয় খানদের গানের ক্যাসেট বেশী বিক্রি হয়। তারাই আমাদের দেশের তথাকথিত জনপ্রিয় শিল্পী। তারা জনপ্রিয় শিল্পী হতে পারে তবে তাদেরকে আমরা যেমন ভালো শিল্পী বলবো না তেমনি হুমায়ন আহমেদকেও আমি ভালো লেখক মানতে পারবোনা। তার লেখায় সবসময় সস্তা বাজার ধরার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। এবং হুমায়ন আহমেদ তার লক্ষ্যে শতভাগ সফল। বই লেখা, বাজারজাত করন, বিক্রি এবং মুনাফা জিনিসটা তিনি খুব ভালো বোঝেন। (আগুনের পরশমনি ও নন্দিত নরকের মত উপন্যাস বাদে)।

তিনি সম্প্রতি দেয়াল নামক একটি ইতিহাসধর্মী বই লিখেছেন। যথারীতি বইটি আলোচনার শীর্ষে। আলোচনার বিষয়বস্তু ইতিহাস বিকৃতি। ইতিহাসভিত্তিক গল্প লিখতে গিয়ে তিনি নিজের মত করে গল্প লিখেছেন। ইতিহাস বদলে দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত যে ইতিহাস মানুষ জানতে পারেনি বা যা ইতিহাসে কখনও ঘটেনি তিনি আজ তাই জাতিকে ইতিহাস হিসাবে গলাধঃকরণ করনের চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তার তথাকথিত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।

তিনি তার উপন্যাসে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুককে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যদিও ফারুক সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতি সহনুভুতি তৈরি এবং মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি এটা করতে পারেন। তিনি বইটিতে মেজর ফারুক ও সুবেদার মেজর ইশতিয়াকের কথোপকথনের এক পর্যায়ে লিখেছেন,

তিনি সুবেদার মেজর ইশতিয়াককে ডেকে বললেন, আজকের মতো ফায়ারিং বন্ধ। ইশতিয়াক বলল, স্যারের কি শরীর খারাপ করেছে? ফারুক বললেন, আই অ্যাম ফাইন। গেট মি এ গ্লাস অব ওয়াটার। তাঁর জন্য তৎক্ষণাৎ পানি আনা হলো। পানির গ্লাসে বরফের কুচি ভাসছে। ফারুক গ্লাস হাতে নিয়েও ফেরত পাঠালেন। ইশতিয়াক বলল, স্যার, পানি খাবেন না? ফারুক বললেন, না। একজন সৈনিক সর্ব অবস্থার জন্য তৈরি থাকবে। সামান্য গরমে কাতর হয়ে বরফ দেওয়া পানি খাবে না। বরফ ছাড়া পানি নেই? না। মুক্তিযুদ্ধের সময় একনাগাড়ে দুই দিন পানি না খেয়ে ছিলাম। ইশতিয়াক বলল, পানি ছাড়া কেন ছিলেন, স্যার? বাংলাদেশে তো পানির অভাব নেই। যেখানে ছিলাম, সেখানে সুপেয় পানির অভাব ছিল। সবই পাট পচা নোংরা পানি। ভাগ্যিস, পানি খাইনি।

তিনি এখানে

একজন সৈনিক সর্ব অবস্থার জন্য তৈরি থাকবে। সামান্য গরমে কাতর হয়ে বরফ দেওয়া পানি খাবে না। বরফ ছাড়া পানি নেই?

বলে ফারুককে উন্নত চরিত্রের হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের এমন কোন এলাকা আছে যেখানে সুপেয় পানি নাই? তার এই লেখার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে তিনি ইচ্ছাকৃত এই কাজ করেছেন।

তিনি বইটিতে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়ার গ্রামবাসী তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমন ইতিহাস এর আগে কেউ শুনেছে বলে মনে হয় না। হঠাৎ করে তিনি কেন এই ইতিহাস লিখতে গেলেন?

এর আগে তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু নাকি ৭ মার্চের ভাষনের শেষে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেছিলেন। নতুন নতুন ইতিহাস আজ তার কাছ থেকে শুনতে হচ্ছে।

তিনি এই ইতিহাস বিকৃতি মুলত শুরু করেছেন তিনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে। আমরা জানি তার এই অসুস্থতার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় তার অনেক অর্থ খরচ হয়েছে। তার এই খরচের সমুদয় অর্থ উঠানোর জন্য এই প্রচেষ্টা। তিনি জানেন বইয়ের কাটতি কিভাবে বাড়াতে হয়। বইয়ের কাটতি বাড়ানোর জন্যই তিনি ইচ্ছাকৃত এই বিতর্কের জন্ম দিলেন। তার এই পরিকল্পনায়ও তিনি ইতোমধ্যে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন। এখন তার এই বইও পাঠকদের কাছে সুপার হিট হবে। ব্যবসা সফল হবে। আশাকরি তার চিকিৎসা ব্যায়ের সমুদয় অর্থ ফেরত পেয়েও অনেক অর্থ উদ্বৃত্ত থাকবে। শুধুমাত্র ইতিহাস বিকৃতি কারীদের কাছে কিছু ইস্যু তুলে দিয়ে গেলেন। টাকার জন্য মানুষ কি না করতে পারে, ইতিহাস গোল্লায় যাক !!!

কিন্তু সত্য কখনও চাপা থাকে না। ইতিহাস তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবে। হুমায়ুন আহমেদরা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।