ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মা, এক সময় তুমি ছিলে গণতন্ত্রের প্রতীক, দীর্ঘ ১৫টা বছর গৃহবন্দী ছিলে তুমি, তুমি দীর্ঘদিন ধরে সার্বজনীন মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার দেখিয়ে এসেছো। সারা বিশ্ব অবাক হয়েছিলো তোমার শান্তির ছায়ায়! পেয়েছো শান্তিতে নোবেল। আজ তোমার এ’কেমন হিস্র রূপ দেখি! তোমার প্রকাণ্ড হৃদয় হতে কোথায় হারিয়ে গেল শান্তি, ভালোবাসা?

মা… তুমি শুনতে পাচ্ছো? তোমার ভয়ে রাখাইনে ১৭৬ রোহিঙ্গা গ্রাম আজ জনশূন্য। মা গো, তুমি ছিলে শান্তির ছায়া, তোমার ভালোবাসার ছায়ায় ছিলো জনগন, আজ তোমরাই ভয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহে তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ওরা বলছে তুমি না’কি পুড়িয়ে দিয়েছো ওদের ঘর বাড়ি, তুমি নাকি ক্ষত বিক্ষত করে হত্যা করছো ওদের, তুমি না’কি প্রতিনিয়ত’ই ঝরাচ্ছো তাজা রক্ত! ওদের এ’কথা আমি কেমনে বিশ্বাস করি! যে তুমি ছিলে শান্তির দূত, সেই তুমি আজ এমন কেন হলে? ওদের প্রতি এতো ঘৃণা কেন তোমার? ওরা কি তোমার সন্তান নয়? কে চুষে খেলো তোমার হৃদয় নিংড়ানো সকল ভালাবাসা। তোমার ওই টকটকে লাল হৃদয়ের প্রতিটি কম্পনে মিশে ছিলো ভালোবাসা, জনগনের শান্তি। আজ কেন তোমার সেই শান্তির হৃদপিণ্ডে লাশের গন্ধ?

মা… শুনতে পাচ্ছো? ওদের কান্না, ওরা সর্বহারা, ওরা অনাহারী, ওদের বুকে গভীর ক্ষত, ওরা হারিয়েছে স্বজন, ওদের শরীরে প্রাণ নেই, শুধূ গহীন বেদনায় ওদের সারা শরীর অবশ। তুমি কি আজো শোনোনি, ওদের কান্না? তোমার চোখে একটুও অশ্রু ঝরেনি হয়নি ওদের রক্তের বন্যায়? স্নেহময়ী মা, আজ তুমি এমন হয়ে গেলে কেন?

মা… তুমি কান পেতে শোনো… তোমার খুব কাছ থেকেই ভেসে আসছে রোহিঙ্গার আর্তনাদ! মা… তুমি চোখ মেলে দ্যাখো…. তোমার হাত তোমারই সন্তানের নিসংশ হত্যার রক্তে মাখা।