ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

যারা কথায় কথায় পেট্রোল বোমা আর চাপাতি দেখিয়ে বেড়ায় তাদের ফাজলামির প্রতিবাদ করা তো বিরাট অপরাধ! এদিক থেকে সরকারের ব্যর্থতার কথা বললে আরো বড় বিপদ। দেখা গেলাে খানিক বাদে প্রতিবাদীর ঘাড়ের ওপর মাথা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! তথাপি কিছু কথা বলতেই হয়।

আমাদের বগুড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নামে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ফাজলামি চলছে। বগুড়ার শহীদ খোকন পার্কে কারুশিল্পী প্রয়াত আমিনুল করিম দুলালের ‘অ আ ক খ’ এবং নানা ভাস্কর্য খচিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৫ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ ভেঙে ফেলে। তারপর সেখানে অদ্ভূদ আকৃতির নতুন শহীদ মিনার ‘ব এ প  ঢ’ অক্ষরে সাজিয়ে তোলেন, যেটাকে উনারা বলেছেন আধুনিকীকরণ। আগের শহীদ মিনারটি ভেঙে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তারেক জিয়ার নির্দেশে স্টিলের পাইপ দিয়ে তেলাপোকার মাথার ওপরের এন্টিনার মতো বানিয়ে সেখানে ‘ব এ প ন ঢ’ এর অক্ষর বিন্যাসে তৈরি করা হয় নতুন শহীদ মিনার।

শহীদ মিনারের এই হাস্যকর অক্ষরবিন্যাস দেখে ক্ষুব্ধ অনেক বগুড়াবাসী এটাকে ‘বিএনপির ঢং’ নামে আখ্যায়িত করেন। 

 

 

পুরনো শহীদ মিনার ভেঙে অদ্ভূদ আকৃতির নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করায় বগুড়ার মানুষ তাদের স্বাধিকারের অনুভূতিতে আঘাত পেয়েছে। কিন্তু বাধ্য হয়ে বিএনপির এই ঢং-কে শহীদ মিনার মনে করে বগুড়াবাসী এখনো পুষ্পস্তবক অর্পন করে দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে।

 

আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ২০০৫ সালে শহীদ খোকন পার্ক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আধুনিকীকরণের নামে ঢং করেছেন বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক জনাব তারেক রহমান!

 

‘বিএনপির ঢং’- অদ্ভূদ আকৃতির নতুন এ শহীদ মিনার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না বগুড়াবাসী

 

বগুড়ার প্রাণের শহীদ মিনার ভেঙে এটাই তারেক জিয়ার আধুনিক শহীদ মিনার!

 

 

আগের শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণের দাবিতে বগুড়ার বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্র হয়ে নানা রকম প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করছে, তবুও শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই।

 

একুশে ফেব্রুয়ারি ২০১৮, খোকন পার্কে আগের শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণের দাবিতে অনুষ্ঠিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম।

 

আমিনুল করিম দুলালের গড়া শহীদ মিনারটি যে হাত দিয়ে বিএনপি ভেঙে দিয়েছে, বিএনপির সেই কালো হাত ভেঙে দিয়ে জাদুঘরে পাঠানো হলো না কেন? সেসব কথা থাক…। বর্তমান এমপি মহোদয় কথা দিয়েছেন, ২০১৯ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেই বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণ করা হবে। এই কথাটা কতটুকু সঠিক জানিনা। কারণ তাদের মুখ তো আবার বিশেষায়িত, যখন তখন যেকোনো কিছু বলে ফেলেন। ১৩ বছরেও কিছু করতে পারেননি, তাদের থেকে আমরা কী-বা আশা করতে পারি? জানিনা শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণ হবে কি না!

শহীদ মিনার চাই, শহীদ মিনার চাই, বলতে বলতে অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। ১৩ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এখন যতো দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে দাও প্রাণের বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। না হয় জনগণ বুঝবে, বরং এতো দিনেও শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণ না হওয়ায় জনগণ কিছুটা বুঝেও গেছে, বিএনপির ঢং গুড়িয়ে দিতে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতার কথা।

শহীদ মিনার আমাদের দাবি নয়, অধিকার। শহীদ মিনার শুধু বগুড়ার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাণ। দেশপ্রেমিক অগণিত মানুষের প্রাণে মিশে আছে এই শহীদ মিনার। বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নামে বিএনপির ঢং বর্জন করে পুনঃনির্মাণ করা হোক আমাদের প্রাণের শহীদ মিনার। জয় হোক দেশপ্রেমিক নাগরিকের, জয় হোক বাংলার, জয় হোক বাংলাদেশের।