ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে লিখছি। সত্যিই আমি খুব হতাশ এবং যথেষ্ট বিরক্ত। বগুড়ার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার থেকে আমার বাড়ি মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্ব। আমার জন্মনিবন্ধনে এই এলাকার নাম ধাওয়াপাড়া, বসুন্ধরা, বগুড়া, ওয়ার্ড নং- ২০। তবে  যতদুর জানি, পুরনো সময়ে কৈবর্ত লোকজনের বসবাস ছিলো বলে লোকমুখে ‘কৈ-পাড়া’ বলে এই এলাকা বেশি পরিচিত। আমার ভবঘুরে স্বভাবের জন্য বাসায় ফিরতে তেমন রাত না হলেও রাত ৮-৯টা  বাজে। রাতের বেলা কৈ-পাড়া আসতে রিক্সাওয়ালার হাতে পায়ে ধরে রাজি করাতে হয়, রিক্সাওয়ালার কথা একটাই ‘ওই আস্তা ভাংগা, উটি যামু না। উটি গেলে  সকআপ আলা রিসকা লাগবি। ভাঙ্গা আস্তা, বাংলা রিসকাত উটি গেলে নাট বলটু খুলে দৌউম (দৌড়) মারবি’

রিক্সায় বাড়ি ফেরার সময়  ভাঙ্গাচূড়া এই রাস্তায় চলতে এমন ঝাঁকি ওঠে! মানে, তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। গতকাল বিকেলে ফুরফুরে বাতাস ছিল, আমি মনে মনে ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান’ গুন গুন করতে করতে রিক্সায় চড়ে জলেশ্বরীতলা যাচ্ছিলাম। এমন সময় রাস্তার উপর গ্রান্ড ক্যানিয়নের সমান একটা গর্তে রিক্সার চাকা ধুপ করে পড়ে এমন ঝাঁকি উঠলো অল্পের জন্য ছিটকে পড়ে যাইনি, এই রাস্তায় পড়লে জীবন নিয়ে টানাটানি উঠে যেতো। দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। অথচ আমরা নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছি! এই রাস্তার এ অবস্থা কেন? এতো বছর ধরেও এই রাস্তার কোনো সংস্কার হচ্ছে না কেন? জননেতারা কি এইসব দেখতে পান না?

এই সড়কটি কোনো অজপাড়া গ্রামের নয়। এটি বগুড়া সদরের, ২০ নং ওয়ার্ডের কৈ-পাড়া নামক এলাকার ভিতর দিয়ে গেছে; মূলত চন্দনবাইশা সড়ক। বগুড়া সদরের সাথে জেলার পূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি গুরত্বপূর্ণ সড়ক। বছরের পর বছর ধরে অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে এভাবেই। ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। ভাঙা সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ঝাঁকুনিতে প্রচণ্ড সমস্যার সৃষ্টি হয়। তথাপি কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন সুকৌশলে। এখানে কর্তৃপক্ষের কৌশল হচ্ছে, ওরা রাস্তার গর্তগুলোর ওপর মাঝে মধ্যে দুই এক কোদাল মাটি দিয়ে কোনোরকমে একটা ‘বুঝ’ দেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। বছরের পর বছর ধরে ভাঙা সড়কের জন্য জনদুর্ভোগ চরমে। বর্ষকালে সড়কটি যেন জীবন্ত পুকুর হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত এটা আমার বাড়ি ফেরার সড়ক। কিছুদিন আগে আমার এক আত্নীয় প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাকে নিয়ে রিক্সায় উঠে আর কোনো সড়ক না থাকায় এই সড়ক দিয়ে যেতেই বাধ্য হতে হয়। হায়! ভাঙ্গাচুরা এই অচল রাস্তা দিয়ে রিক্সায় করে একজন রোগী নিয়ে যাওয়ার যে কী কষ্ট; সেদিন বুঝেছি। শুধুমাত্র সড়কের এই বেহাল অবস্থার জন্য যে বিপদে পড়েছিলাম, সেই কষ্টের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা দেওয়ার সাধ্য আমার নেই।

এই রাস্তা সংস্কার করা সম্ভবত মেয়র মহোদয়ের দায়িত্ব, যদিও একজনের দায় আরেকজনের ওপর চাপানো আমাদের কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের পুরনো স্বভাব।  এই সকল জনদুর্ভোগ নিরসনে জনগণের সেবার জন্য স্থাপিত সরকারি অফিসগুলোর দারোয়ান টু অফিসারি এমন পরিস্থিতি গড়ে তুলেছে যে কোনো সাধারণ জনগণের সাধ্যি নেই তাদের নাগরিক জীবনের সমস্যার কথা জানাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,  সাধারণ জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতি নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। রাস্তাটা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির নয়, এটি জণগণের।

দোহাই আপনাদের, বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি; যতো দ্রুত সম্ভব এই সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নিন।