ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

বগুড়ার ২০ নং ওয়ার্ডের এই এলাকার নাম ধাওয়াপাড়া। শুনেছি এক কালে কৈবর্ত লোকজনের বসবাস ছিল বলে লোকমুখে ‘কৈ-পাড়া’ বলে এই এলাকা বেশি পরিচিত।

আমার ভবঘুরে স্বভাবের জন্য বাসায় ফিরতে তেমন রাত না হলেও রাত ৮-৯টা তো  বাজে। কিন্তু কৈ-পাড়া যেতে রিকশা চালকের হাতে-পায়ে ধরে রাজি করাতে হয়। রিকশা চালকে কথা একটাই, “ওই আস্তা ভাংগা, উটি যামু না। উটি গেলে  সকআপ আলা রিসকা লাগবি। ভাঙ্গা আস্তা, বাংলা রিসকাত উটি গেলে নাট বলটু খুলে দৌউম মারবি।”

গতকাল বিকেলে ফুরফুরে বাতাস ছিল, আমি মনে মনে ‘ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান’ গুন গুন করতে করতে রিকশায় চড়ে জলেশ্বরীতলা যাচ্ছিলাম। এমন সময় রাস্তার উপর একটা গর্তে রিকশার চাকা পড়ে পুরো রিকশা ঝাঁকি খেলো। আমি অল্পের জন্য ছিটকে পড়া থেকে রক্ষা পেলাম।

এই সড়কটি কোনো অজপাড়া গ্রামের নয়। চন্দনবাইশা সড়ক বগুড়া সদরের সাথে জেলার পূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি গুরত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে এভাবেই।

মাঝে মাঝে রাস্তার গর্তগুলোতে দুই-এক কোদাল মাটি দিয়ে একটা ‘বুঝ’ দেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়; সংস্কার বলতে এটুকুই এখন পর্যন্ত।

বর্ষকালে সড়কটি পুকুর হয়ে যায়। কিছুদিন আগে আমার এক আত্নীয় প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাকে নিয়ে রিকশায় উঠে এই সড়ক দিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়। এই অচল রাস্তা দিয়ে রিকশায় করে একজন রোগী নিয়ে যাওয়ার যে কী কষ্টকর তা সেদিন বুঝেছি।

জনগণের সেবার জন্য স্থাপিত সরকারি অফিসগুলোর দারোয়ান থেকে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি গড়ে তুলেছে যে কোনো সাধারণ জনগণের সাধ্যি নেই তাদের নাগরিক জীবনের সমস্যার কথা পৌঁছাবে সেখানে। তবু আশা নিয়ে এই নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরা।

এলাকাবাসীর সবার একই অভিযোগ, “এতো বছর ধরেও এই রাস্তার কোনো সংস্কার হচ্ছে না কেন? জননেতারা কি এইসব দেখতে পান না?”