ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক সাহজাহান কবির আমার নিজ রক্তের ভাইয়ের চেয়েও অনেক বেশি। আমি আমার জীবনে এরকম সৎ কর্মকর্তা দেখিনি। তার কথা আমি এর আগেও বলেছি, যতদিন বাংলাদেশে সাহজাহান কবির স্যারের মতো কর্মকর্তা আছেন, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। 

আজ বিকেলের দিকে জানতে পারলাম সাহজাহান কবির স্যারের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে দুর্বৃত্তরা। অফিসকে ঘুষ, দুর্নীতি ও দালাল মুক্ত করার প্রচেষ্টার কারণে পাসপোর্টের দালালরা এই হামলার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে।

 

স্যারের উপর হামলার খবর জানার সাথে সাথে স্যারের নাম্বারে ফোন দিলাম, কোনো একজন ভদ্রলোক ফোন রিসিভ করলেন, জানালেন স্যার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। আমি সাথে সাথে সিএনজিতে চড়ে হাসপাতালে গেলাম। ডাক্তার জানালেন স্যারের অবস্থা ভালো না। খানিক বাদে ডিসি স্যার এলেন, তিনি জানালেন হেলিকপ্টার আসছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এখনই ঢাকা নিয়ে যাওয়া হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টার এলো, স্যার ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চলে গেলেন, জানিনা এই দেখা শেষ দেখা কি না।

শ্রদ্ধেয় পুলিশ সুপার আলী আশরাফ স্যারের সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করেছি সন্ত্রাসীরা যেন দ্রুত আইনের আওতায় আসে। জানিনা শেষ পর্যন্ত কী হবে। আল্লাহ যেন সাহজাহান কবির স্যারকে সুস্থভাবে আমাদের বগুড়ায় ফিরিয়ে দেন।

 

 

‘স্যার, আমি নাভিদ।’ স্যার চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন, ধীরে বললেন ‘ভালো আছো নাভিদ’? স্যারের চোখ দুটো অশ্রুতে ভরা। আমার ভীষণ কান্না পেলো। এই কান্নাগুলো চেপে রাখা খুব কঠিন। আল্লাহকে স্মরণ করে বললাম, আমার জীবনের সময় কমিয়ে দিয়েও যেন তিনি সাহজাহান স্যারের জীবন রক্ষা করেন!

 

 

 

ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক সাহজাহান কবিরকে হেলিকপ্টারে উঠানো হচ্ছে।

শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক স্যারকে ধন্যবাদ, তিনি এত দ্রুত হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অফিস দালাল মুক্ত করার কারণে দালালরা সংঘবদ্ধ হয়ে সাজাহান কবিরের উপর হামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।