ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

এই পৃথিবী অনেক সুন্দর তবে বর্বরও বটে। এই বর্বরতার কারণের ৯০০০ মাইল দূরে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। হায় হায় করি! আফসোস করি যখন শুনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মারা গিয়েছে আর প্রশাসন বিশৃঙ্খলার ভয়ে ক্যাম্পাসে লাশ আনতে দেয়নি, জানাজার নামাজ ক্যাম্পাসে পড়তে দেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ সর্বদা চুপ থাকে, মিছিল মিটিংয়ে যায় না, নোংরা রাজনীতির সাথে মিশে না, গলা ছেড়ে কথা বলে না, নিজের অধিকারে প্রতিবাদ করে না, বানের জল বাতাসে যে দিকে যায়, তারাও সেদিকে গা ভাসায়। এই নিরীহরাই ক্যাম্পাসে বেশি। এরা সর্বকাজে মৌন।

ক্যাম্পাসের আরেক অংশ নিজের মেধা-মনন-বিবেক-বুদ্ধি ভালো মন্দ নিরুপণের ক্ষমতা সব কিছু বৃটিশ আমলের জমিদার, তালুকদার বা দখলিদের মতো বর্গা দিয়ে রেখেছে রাজনীতি নামের এক ভিন্ন নোংরা শক্তির কাছে। মাঝে মাঝে হাতে অস্ত্রসহ এদের ছবি দেশের প্রধান দৈনিকের শিরোনাম হয়। এরা এদেরই ক্ষুণ করে, গুলি করে, ছাদ থেকে ফেলে দেয়, সুযোগ-সুবিধা মতো রং বদলায়। এদল-ওদল করে, মাঝে মাঝে আবার বিদ্রোহি হয়, আর উপর থেকে কড়া নাড়ে গুরুজনেরা। এসব ছাত্রের বাহুবল কাজে লাগিয়ে তারা নিজের স্বার্থ হাসিল করে আর সেই সুযোগে ছাত্ররা মনে করে সর্বের সর্বা-বাস্তবে এরাই জগত সেরা মূর্খ। এরা মূর্খতার গন্ধে ঘ্রাণ শক্তি কতো আগেই হারিয়েছে তা তারা নিজেও জানে না, আর সেই সুযোগে পুচ্ছ পোঁছা রাজনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো কারিগরেরা এদের নানান ভাবে নোংরামি শেখায়।

নোংরামির এক নমুনা এখন প্রবাসে বসে পত্রিকায় পড়ি। খবরে দেখি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন ’জানাজা পড়ালে পরে হিন্দু ছেলে মারা গেলে লাশ দাহ করার জন্য শ্মশান বানানো লাগবে ক্যাম্পাসে’ ছাত্র হিসাবে এর চেয়ে গর্বের আর কি হতে পারে! শুনেছি ক্যাম্পাসে ক্ষমতাশীল দল প্রশাসনের সমর্থনে দু’জনের লাশ ক্যাম্পাসে আনতে দেয়নি। জানাজা পড়াতে এমন কি ভয় ছিল? ওরা কি বর্তমান বৈধ ছাত্র ছিলো না? ওদের কি কোন পরিচিতি ছিল না?

সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে তেমন কোন ধার নেই এই রীতি বহু পুরনো। কিন্তু যারা দাসত্বের রাজনীতিতে আত্মহারা হয়ে নিজেকে বন্দি করে রেখেছো, একদিন তারা জ্বলে পুড়ে মরবে, একদিন তাদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হবেই হবে, যে দুজন ছাত্র মৃত্যু অবধি ক্যাম্পাসের বৈধ ছাত্র ছিলো, তাদের জন্য সেই ক্যাম্পাসে দু’জনের জানাজা হয়নি বিনা কারণে, তাদের জন্য আজ হল ভ্যাকেন্ট হয়েছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য, তাদের জন্য কতো ছাত্রের জীবন কতো মাস পিছিয়ে গেলো, কতো ছাত্র টিউশনি হারাবে, কতো ছাত্র মা-বাবাকে ঈদে টাকা দিতে পারবে না। আজ তারা অন্যের দাস হয়ে না থাকলে এসব কিছুই হতো না, তারা হতো অনেক বড়ো।

আর আমি বলি তারা মাজুর, তারা খোঁড়া, তারা কীট তারা পিশাচ। তাদেরই এই জগত ছাড়ার দরকার ছিলো। যতদিন তারা দাস হয়ে থাকবে ততো দিন ক্যাম্পাসে মাজুরতা, দৈন্যতা, অন্যায় -অপরাধ বাড়বে।স্রষ্টা তাদেরও সবার মতো মেধা-মগজ বা ব্রেইন দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছে। দল বদলের হিড়িকে তারা কেউ যদি কারো গুলি খেয়ে বা রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের জানাজা ক্যাম্পাসে হবে তো? আজ তারা সাধারণের সাথে এক হয়ে গলা মিলালে এমন কিছুই হতো না।

ফখরুদ্দিনের আমলে কারফিউ দেখেছি, হল খালি করতে দেখেছি। সেদিন ঢাকার বাহিরের ছেলেমেয়েদের কি যে কষ্ট দেখেছি। অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস ঝিমিয়ে থাকবে!
আরো অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু বলতে চাইনা। কি আর করা অনির্দিষ্ট কাল যেহেতু ছুটি!