ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অনেক দিন পর ব্লগে লিখতে বসলাম । পড়াশোনা ও কাজের চাপে ব্লগে ভিজিট করা হলেও লেখা হয় না । কিন্তু, আজকে না লিখে পারলাম না । জুনায়েদ আহমেদ পলক – আমাদের নাটোর শিংরা আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য । তাঁর একটি টক শো চোখে পরল আজকে ইউটিউবে । সেদিনের আলোচনার বিষয় ছিল তরুণরা কেন রাজনীতি বিমুখ । তাঁর সাথে আলোচনায় আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আপু । আপু বলেছেন, পরিবেশ নেই , নোংরা রাজনীতি ,হামলা ও মামলার কথা । পলক সাহেব তাঁর সাথে একমত হয়েছেন এবং বলেছেন যে এগুলো কাটিয়েই আমাদের সামনে আসতে হবে। আমিও একমত ।

তবে, বিষয় হল, কার সামনে আসব ? আমাদের তরুণরা এখন রাজনীতি সম্পর্কে কি ভাবে তার কিছু নমুনা দেই । আমি একটি কলেজের সাবেক ছাত্র সংসদের সদস্য । বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যখন আমি একদিন বন্ধুদের মাঝে এই কথা বলি, সেদিন তাদের অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছিল, কত টাকা লাভ হয়েছে । অর্থাৎ, রাজনীতি নিয়ে অনেকেই ভাবে যে রাজনীতি মানেই দুর্নীতি ও রাহাজানি ।

রাজনীতিতে রাহাজানি আছে, এবং এই রাহাজানির বেশির ভাগ করেই তরুনেরা । কারন বুড়োদের মাজার জোর কম, তাই তরুনদের দিয়ে তারা এই কাজ গুলো করায় । এখন, আমি একটি ভালো পরিবার থেকে তো সরাসরি দুর্নীতিতে যেতে পারি না । রাজনীতি করতে হলে টিকে থাকতে হবে । টিকে থাকতে অপর পক্ষকে দমন করতে হবে, এটাই এখন তরুণদের তথা বাংলাদেশের রাজনীতি । আর, নীতি কিন্তু তরুণরা বানায় না । বানান সিনিয়র রা ।

পলক সাহেব বলেছেন, বাধা পেরিয়ে সামনে আসতে হবে। কিন্তু সামনের সবাই যদি বাধা হয়!! তাহলে তো নতুন দল নিয়ে সামনে আসতে হবে, বাংলাদেশ তরুন দল !! কারন, খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, বিভিন্ন দলের সিনিয়র রা তাদের নিচে যাদের রাখেন, তারা কোন না কোন সময় রাহাজানির ভেতর ছিল । আমরা ইলিয়াস কে নিয়ে এত হই চই করি, সেও ছিল এক বিখ্যাত সন্ত্রাসী । এইটা তো একটা মাত্র উদাহরন । আরও দেখুন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতারা বিভিন্ন সময় কত সুনামের কাজ করে, পরে তারাই আবার মুল দলের কাণ্ডারি হয় ।

বিরোধীদলীয় চিপ হুইপের উপর আক্রমণকারি পুলিশ অফিসারের পরিচয় হয়তো অনেকেই জানেন, আর যারা জানেন না, তাদের জন্য কিছু তথ্য দেই । ২০তম বিসিএস ক্যাডারে পুলিশের চাকরি নেয়া হারুন ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগের বাহাদুর-অজয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসময় চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চাকরি নেয়ার পর থেকেই ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে ‘বেয়াদব’ হিসেবে পরিচিত হলেও নানা অপকর্ম করে অদৃশ্য কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান।

এই হল আমাদের বাধা পেরিয়ে উপরে যাওয়া । উপরে যারা আছে, তারা কতখানি স্বদিচ্ছা নিয়ে দেশপ্রেমী তরুণদের কাছে নিবেন ? আলাদা আছেন কিছু মানুষ, কিন্তু খারাপের ভিরে তারাও নিরুপায় । আমরা তরুনরা কি করব তাহলে? আমি দেখছি যে আমাদের সামনে দুইটা রাস্তা খোলা, এক রাহাজানি করে নেতাদের নজরে আসা, পরে না হয় ভালো হয়ে যাব(!) । আরেকটা হল, নতুন ভাবে বজ্রকন্ঠ নিয়ে নতুন দল গঠন করে সামনে আসব ।

দুইটাই আমাদের জন্য স্বপ্ন । কারন, যখন মানুষ খারাপের মজা পেয়ে যায়, তখন আর ভালো হতে পারে না । হয়তো, নিজে থেকেই চায় না, অথবা পরিবেষের জন্য পারে না । আর, নতুন দল!!! ইউনুস সাহেব এত বড় মানুষ!! তার যদি এই হাল হয়, তাহলে তরুন শূন্য বাংলা হতে খুব বেশি সময় লাগবে না ।

হুম, কিছু নেতা আছেন, যারা তরুন, চাইলে কিছু একটা পরিবর্তন আনতে পারেন । যেমন, পলক ভাই, আন্দালিভ রহমান ভাই । কিন্তু এনারা দলের বাইরে টুঁ শব্দও করেন না । পলক ভাই তাও মাঝে মাঝে বলেন, কিন্তু আন্দালিভ রহমান যতই ভালো বক্তা হন, তিনি কাজের না । কারন কথায় কথায় ম্যাডাম এর পথ ধরেন । অর্থাৎ, বিরোধীদলের যা কাজ আমাদের দেশে, তাই করেন । অর্থাৎ, সমালোচনা । আজকেও দেখলাম তার ফেসবুকে লিখেছেন, আমরা সোনার বাংলা করব কিভাবে, আমাদের দেশে তো নরমাল বাংলাই নাই । হা হা ..। তিনি তো বলে ক্ষান্ত দিলেন । কিন্তু সমাধান দিন । প্রতীবাদ জানিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বলেন সোনার বাংলা কিভাবে আসবে !! দেখবেন, আপনার পেছনে অনেকেই আছে । আমিও থাকব । কিন্তু, আপনি কি আসবেন সামেন ? আপনার হাত তো বিএনপি এর কাছে বেঁধে রেখেছেন ।

এই হল আমাদের তরুন রাজনীতি । এখন বলুন, ভালো তরুন কেন রাজনীতিতে আসবে ? চাঁদাবাজি করার জন্য? অধ্যক্ষরে মারার জন্য ? ভর্তি বাণিজ্য করার জন্য ? যদি পলক সাহেব এই লেখাটি পান, তাহলে তার উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, ভাই আগে সব দলের মাথাদের ঠিক হতে বলুন । আপনি তো একটা পজিশনে আছেন । বেশি না, ফেসবুকে একটি ডাক দিন । দেখবেন, আপনাদের পেছনে কতজন হাজির হয় !! আপনি ভেবে নিন, আপনি কি আওয়ামীলীগ এর লোক না মুজিব আদর্শে তৈরি মানুষ । তরুণরাও দেশের জন্য কাজ করতে চায়, কাজ অনেকেই করছে । কিন্তু নোংরা রাজনীতির বাইরে গিয়ে । একা একা । তরুণরাও আসবে, একদিন অবশ্যই আসবে । তবে সেই দিন খুব কাছে হবে, যদি সিনিয়র নেতারা আসলেও চান ভালো মানুষ দিয়ে দেশ চালাতে । আর, তারা না চাইলেও আসবে সেই দিন । তবে কবে আসবে জানি না । তবে আসবেই । তরুণরা রক্তে গরম । কখন আসবে কে জানে !! আমরা আসবই । জয় বাংলা