ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

জাতীয় শোক দিবস। আমাদের সকল বাঙালির জন্য কলংকিত একটা দিন। একটু ভুল বললাম, না ? মনে হয়। কারণ সব বাঙালি আজকে শোক পালন করছে না। সবাই বাঙালি জাতির পিতার জন্য দোয়া করছে না, কেও নিজের জন্মদিন পালন করা নিয়ে ব্যস্ত, তাও আবার ভুয়া। আর কেও সেই নবজাতকিনীর জন্ম দিনের শুভেচ্ছা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত একটা লিঙ্ক দিলাম, ব্লগের। ব্লগ টা পড়ার পড়ে মনে হবে এককালের প্রধান মন্ত্রীর জন্মের ঠিক নাই। মানে জন্ম তারিখের। যাই হক, আমি বলব না যে শোক পালন করতে গিয়ে কেউ নিজের জন্মদিন পালন ভুলে যাক। কিন্তু, বাঙালি জাতির পিতার (এবং আপনিও তার দোয়ায় অথবা দয়ায় আবার জিয়ার স্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন) জন্য আপনি আপনার সমর্থক নিয়ে দোয়া করতে পারতেন। এতে আপনার মাঠ নিচু হতনা। বরঞ্চ একটা শ্রেণীর কাছে আপনি বড় মুখ নিয়ে বলতে পারতেন, “শিখো ” ।

আমি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলছি, সে একজন ভাল শাসক ছিলেন……হয়তো তার রাজনীতিতে পদার্পণের পথ সঠিক ছিল না । এটাও মানি যে স্বাধীনতার জন্য তিনি অনেক করেছেন। যেই সময় স্বাধীনতা পত্র পাঠ করার মতন যোগ্য লোক ছিলেন না, মেজর জিয়া জীবনের চিন্তা না করে সেই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তিনি জীবিত থাকতে নিজে কোনদিন শেখ মুজিবের সমকক্ষ ভাবেন নাই। কারণ তিনি সুস্থ চিন্তার অধিকারী ছিলেন। পিতার সমান হওয়ার থেকে তিনি হয়তো সেই পিতার সন্তান হয়ে থাকতেই ভালবেসেছিলেন। যদিও অনেক বিতর্ক আছে সবকিছুতেই,কিন্তু বিতর্ক আর কত দিন?

শেখ সাহেব কে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা হয়তো আমার নাই। হয়তো না, আসলেও নাই। কিন্তু অযোগ্যরাও অনেক কথা বলেন, আমিও একটু বলি। বাকশাল নিয়ে তিনি কী করতে চেয়েছিলেন, মানুষকে তিনি তা বুঝতে পারেন নাই। অবশ্যই দেশের ভালই চিন্তা করে কাজ করছিলেন। কারণ, যে মানুষ জীবন বাজি রেখে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর গোলার সামনে থেকে বাঙালিদের স্বাধীনতার নেত্রীত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজের স্বার্থের কথা ভাবতে পারেন না। শুধু তার চিন্তাকে তখনকার মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন নাই, অথবা মানুষ তার বৃহত্‍ চিন্তা শক্তিকে বুঝতে পারেন নাই। তাই আজকে হয়তো আমরা শোক পালন করছি।

এ দুই নেতার একটা বিশেষ মিল আছে। তারা দুই জনই আমাদের নেত্রীত্ব দেবার জন্য দুই জন নারী রেখে গেছেন 🙂 (আমি কিন্তু নারীর বিপক্ষে না)। নারী দুই জন একজন শেখ সাহেবের মেয়ে আরেকজন মেজর সাহেবের স্ত্রী । একজন পিতাকে নিয়ে এমন টানাটানি করেন,যে নিজেও বুঝেন না বাঙালি জাতির পিতাকে তিনি কই নিয়ে যাচ্ছেন। ঘোষকের থেকে পিতার মর্যাদা হয়তো তার কাছে কম। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামীলীগের সম্পদ না। তিনি জাতীয় সম্পদ। তাকে টাকার নোট,সেতু অথবা বিমানবন্দরের টাইটেল করে রাখা টা কতটা সমুচিত টা আপনাদের কাছে জানতে চাই।

বেগম জিয়া । আপনি আপনার জন্মদিনের ব্যাপারে সন্দিহান কেন এটা আমাদের প্রজন্মের একটা প্রশ্ন আপনার কাছে। উত্তরটা মিডিয়াতে দিলে সবাই জানতে পারবে। আপনিও মেজর সাহেব কে অপমান করেন বঙ্গবন্ধুকে সম্মান না দিয়ে। অন্যের সম্মান না করতে জানলে নিজেরও সম্মান আসে না।

হাসিনা আপা মন্ত্রীসভায় শাহজাহান খানের মত নেতাকে মন্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন যিনি ড্রাইভার দের পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেবর জন্য আবেদন করেন, আগে করেছেন ১০০০০ হাজার, এইবার করেছেন ২৪০০০ 😀 । আশা করি ১০০০০ হাজারের মত ২৪০০০ হাজারের পরীক্ষা বিহীন লাইসেন্স যোগাড় হয়ে যাবে। কারণ তিনি মন্ত্রী, তাও বিএনপি থেকে তেলিয়ে আনা :p

যেইটাই হক, দেশটা আমাদের কর নিজের না। দেশটা আমাদের। আমাদের সবার। আমাদের সংসারে যদি কোনও অশান্তি থাকে, তার প্রতিক্রিয়া কিন্তু আমাদের পরিবারের সকল সদস্যের উপর পড়ে , ঠিক তেমনি ভাবে দেশের সরকারের প্রভাব আমাদের নাগরিক জীবনের কিন্তু ভালোভাবে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনার দায় চালকের যত খানি, এর চেয়ে বেশি দায় সরকারের। কারণ সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই চালকরা অসচেতন হয়, চালক দুই নম্বর লাইসেন্স পায়। আপনার দায় এড়াতে পারবেন না। আমরাও না। দয়া করুন অন্তত প্রধান সড়ক গুলে ডিভাইডার দিয়ে দেন। আমরাও বাচি…আপনারাও সড়ক দুর্ঘটনার দায় থেকে মুক্তি পান।

হাসিনা আপাকে বলছি, যারা নৌকা মার্ক বটে দিয়েছেন তারা শাহজাহান সাহেবকে দেখে বটে দেন নাই। শাহজাহান সাহেবকে আমরা প্রধানমন্ত্রী বানাই নাই। আপনি শক্ত হউন। বর্ষীয়ান নেত্রীত্বকে পেছনে ফেলে আসছেন যাই কারণে, নবীন গুলো তো তাদের থেকে অনেক ডিগ্রি এগিয়ে যাচ্ছে।

দলের কথা না, দেশের কথা ভাবুন। আমাদের দুই নেত্রীকেই বলছি। পরিবারের ভোটে আপনার ক্ষমতায় যান না। যান জনগণের ভোটে। তাই বলছি…..জনগণের কথা ভাবুন……পরিবার আর দলের কথা না । জনগণ ভাল থাকলে আপনাদের আর পরিবার সবাই ভাল থাকবে।

আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেজ ::
বাংলাদেশ শান্তিবাদী দল
আমাদের চিন্তা ভাল লাগলে পেজ এ লাইক দিয়েন, আমরা ২০২০ সালে সবার সামনে আসব, কারণ এখনো আমরা ছোট…