ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। আজকের এই দিনে আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছেন। আমরা সবাই তার জীবন সম্পর্কে জানি, তবু-কিছু কথা না বললে নয়। শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তার মাতার নাম বেগম ফজিলাতুননেসা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। বোনদ্বয় সেইসময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানীতে অবস্থান করছিলেন।শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ১৯৭৩ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৮ সনে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। ৯ মে ২০০৯ইং তারিখে এম এ ওয়াজেদ মিয়া ইন্তকাল করেন।আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তার দল ১৯৮৬ সালে এই সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীকালে তিনি এবং তার দল এরশাদ বিরোধী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন ও ১৯৯০ সালে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়। ১৯৯৬ সালে তিনি তত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন যা বর্তমানে অনেক দেশে ব্যবহার হচ্ছে।তত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তাঁর আন্দোলনে জয়ী হওয়ায় পরবর্তীতে তার দল জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পুণরায় আন্দোলন শুরু করেন কিছু নতুন সমস্যা নিয়ে।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা প্রথম গ্রেফতার হন ২০০৭ সনে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সকাল ৭:৩১-এ যৌথ বাহিনী শেখ হাসিনাকে তার বাসভবন “সুধা সদন” থেকে গ্রেফতার করে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে আদালত তার জামিন না-মঞ্জুর করে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অন্তরীণ রাখা হয়। গ্রেফতারের পূর্বে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জিল্লুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়। একটি হল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য হত্যা মামলা ও অন্যটি হল প্রায় তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা।[১] এর মাঝে একটির বাদী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি তুলে নেন। জেল থেকে মুক্তি লাভের পরে তিনি বিদেশে কয়েকমাস চিকিৎসার্থে গমন করেন। এরপর দেশে ফিরে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।

শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে রয়েছেন। তার পূর্বে এবং পশ্চাতে রয়েছেন যথাক্রমে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেন জনসন সার্লেফ এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জোহানা সিগার্ডারডটির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরীপে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের ১২জনের নাম নির্বাচিত করে।

উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরীপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে ছিলেন। ঐ সময় হাসিনা জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের পিছনে ছিলেন এবং ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিলেন।

এখন আসি বাস্তবতায়। দীর্ঘ 65 টি বছর পর একবার কী ভেবে দেখবেন জীবনে আপনার পাওয়া না পাওয়া কী? শুধু পাবা না, আপনি আপনার জীবনকে কত টুকু কাজে লাগিযেছেন? ১৯৮১ সালে আওয়ামিলীগের সভানেত্রী হবার পর,আওয়ামিলীগকে কত টুকু দিতে পেরেছেন? দুই বারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশের মানুষকে কী দিয়েছেন ?

৬৫ বছর বয়সে আপনি নিজেকে সবচে বড় দেশপ্রেমী হিসাবে দাবি করেছেন। একটা প্রশ্ন করি , আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ভয়ের যখন শহীদ হন,তারা কী তখন দেশপ্রেমিক হিসেবে গন্য হন না? তারা কিন্তু শুধু টাকার জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেন না, টাকা আয়ের অনেক পথ আছে, তবে কণ তারা ওই পথ বেছে নয়? কারণ তারা দেশ প্রেমিক। দেশপ্রেম, দেশপ্রেম আপনি কিভাবে পরিমাপ করেছেন? এটাতো মাপ যায় না । দেশপ্রেম লুকায়িত অবস্থায় থাকে,প্রয়োজনের সময় প্রকাশ পায়।

বিএনপি কে চোর,বাটপার বলছেন, মানলাম তাদের অনেক চোর মার্কা নেতা আছে। আপনার দলে কী নাই? তাদের নামে যে বিদেশে গিয়ে দুরনাম করছেন, একটা কথা মনে রাখা উচিত, আগামী নির্বাচনে যদি তারা যেতে, তখন আপনি যেই সব দেশে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন,তারা কী বিএনপি সরকার কে সাহায্য করবে? যদি না করে? তখন আমাদের মত সাধারণ মানুষের কী হবে ভেবে দেখেছেন? আপনাদের তো কোনও প্রবলেম নাই। আবার বিদেশে গিয়ে বাস করবেন।

তাই, আজকের এই জন্মদিনে,নিজেকে যাচাই করেন। ভেবে দেখেন। দেশের জন্য ভাল কিছু করতে আপনাকে আগে আপনার মন্ত্রিসভা থেকে কিছু বাচাল মন্ত্রী কে বাদ দিতে হবে,আর কিছু কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। অতীতেও আপনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, আরেকবার নিন। দেশের মানুষ অবসসই আপনার সমর্থনে থাকবে।

আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি……..