ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আমাদের দেশের রাজনৈতিকরা আমেরিকা অথবা বৃটেনের গণতন্ত্রের বয়সের উদাহরণ দেন (তৃতীয় মাত্রায়- সংসদ সদস্য জনাব গোলাম মাওলা রনি’র এমন উদাহরণের প্রেক্ষিতেই আজকের এ লেখার অবতারনা, যদিও অনেক বয়স্ক রাজনৈতিকের মুখে অনেকবার এমন কথা শুনেছি)। ২০০-২৫০ বছর বয়স পেরিয়ে ওদের গণতন্ত্র পরিপক্কতা পেয়েছে। আর আমাদের তো ৪০ কিশোর দেশে ২০ বছরের শিশু গণতন্ত্র। কতটা বোকা বোকা উদাহরণ। কতটা অযৌক্তিক উদাহরণ। বৃটেন বা আমেরিকা কারো তৈরি করা পথে হাটেনি, তাদের পথ তৈরি করে করে হাটতে হয়েছে। তারা য়খন যাত্রা শুরু করেছে তখন গণতন্ত্রের কোন উদাহরণ ছিল না, ছিল না কোন দিক নির্দেশনা। তাই গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে গিয়ে অনেক জায়গায় ভূল করে থামতে হয়েছে, আবার নতুন পথের সৃষ্টি করে নতুন করে হাটতে হয়েছে। এভাবেই প্রায় ২০০ বছরে পূর্ণতা লাভ করেছে তাদের গণতন্ত্র। তাদের গণতন্ত্রের বয়স যখন ১৬০ বছর তখন বাংলাদেশ নামের এই রাস্ট্রের জন্ম। ১৯৯১ সাল থেকে যখন আমরা গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করলাম তখন ১৮০ বছরের পরিপক্ক গণতন্ত্র ছিল। অনুস্বরন করার মত গণতন্ত্রের অনেক উদাহরণ ছিল, ছিল অনেক অনেক দিক নির্দেশনা। তাছাড়াও ২০০ শত বছর আগের মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি আর আজকের মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি এবং চিন্তাশীলতা, ২০০ শত বছর আগের প্রযুক্তি আর আজকের প্রযুক্তি কি এক? অবশ্যই না। ২০০ শত বছর আগে ১০ তলা একটি বিল্ডিং তৈরি করতে যে সময় লাগতো আজ তার থেকে বহুগুন কম সময় লাগবে। এ্টা যে কোন মূর্খও বুঝবে। শাহ্জাহানের তাজমহল বানাতে যতদিন সময় লেগেছিল, যতগুলো শ্রমিক লেগেছিল আজকের দিনে ঠিক একই রকম একটি তাজমহল বানাতে অর্ধেকেরও কম সময় ও শ্রমিক দিয়ে তা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করি। কারণ আমাদের এখন সবথেকে বড় সাহায্যকারী বন্ধু হলো প্রযুক্তি। কত রকম প্রযুক্তি প্রতিদিন আমাদের কতভাবে সাহায্য করছে। সে ক্ষেত্রে তাদের যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে দুই শতক লেগেছিল, সেই একই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের দুই দশকের বেশী সময় লাগার কথা ছিল না। কিন্তু কি দেখছি আমরা? রাজনৈতিকরা অসচেতন ও বোকা (নিরুপায়) জনগণকে গিনিপিক বানিয়ে গণতন্ত্র গণতন্ত্র খেলছে। জনগণ নামের মানুষ গুলোর প্রাণের কোন মূল্য নেই তাদের কাছে। এই বয়ষ্ক রাজনৈতিকদের দেশকে দেবার মত কিছু কি অবশিষ্ট আছে? কেন তারা সরে দ্বাড়িয়ে তরুণদের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন না? একই অনুষ্ঠানে মাহী বি চৌধুরী দু:খ করে বলেছেন- ৩২ বছর বয়সে ড: কামাল সংবিধান রচনা করেছেন, ৩৫ বছর বয়সে শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী হয়েছেন, ৩৭ বছর বয়সে খালেদা জিয়া বিএনপি’র হাল ধরেছেন অথচ ৪২ বছর বয়সেও আমরা নাকি শিশু। তাহলে মাহী বি চৌধুরীদের এদেশকে কিছু দেবার সময় কবে হবে? এ প্রশ্ন সকল বয়স্ক রাজনৈতিকের কাছে।
আমরা ৭১ এর পরের প্রজন্ম। ৭১ পূর্বের প্রজন্ম বেশীর ভাগই আমাদের বাবাদের প্রজন্ম। আমাদের বাবারা আপনারা না পেরেছেন সুন্দর একটা দেশ গড়তে, না পেরেছেন আমাদের জীবনগুলোকে সুন্দর করে গড়ে দিতে। চারিদিকে শুধু আপনাদের সৃষ্ট অনিশ্চয়তা। আমরা কখনোই আপনাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবোনা। যেমনটি করে চায়নাতে মাও-শেতুং কে, ভারতে ইন্দ্রাগান্ধীকে, মালাশীয়ায় জীবন্ত কিংবদন্তী মহাথীরকে, আমরা সেভাবে আপনাদের কখনোই স্মরণ করবোনা। কারণ সেটাই ইতিহাসের শিক্ষা। তাই দয়া করে ক্ষমতার চেয়ার আকড়ে ধরে না থেকে আমাদের তরুনদের আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই, নিশ্চিত নির্ভর করার মত একটা ভবিষ্যত রেখে যেতে চাই।
আমাদের দেশে বর্তমান ধাচের গণতন্ত্র ম্যাচ করছে না। আমেরিকার মত রাষ্ট্রপতি শাষিত শাষন ব্যবস্থা অথবা অন্য কোন ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু হওয়া উচিত। ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের শাষন আমল নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক, যতই অগণতান্ত্রিক বলা হোক। সেই সময় দেশে আইন ছিল, আইনের শাষন ছিল। সন্ত্রাসীর দৌরাত্মা ছিলনা, মাস্তানের মাস্তানি ছিল না, চাঁদাবাজের চাঁদাবাজী ছিল না। সাধারণ জনগণ হিসেবে নিজেকে অনেকখানি স্বাধীন স্বাধীন লেগেছিল।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পর ৩৮ বছরের এক যুবকের মন হাহাকার করে বলে কতটা আরো কতটা সময় পেরুলে আমাদের দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র পরিপক্ক হবে?