ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আইন আর আবেগ এক জিনিস নয়। আজকের কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়ার জন্য সব দুর্বলতা সরকারের এবং আপিল করার সুযোগ না থাকার দায়ও আওয়ামী সরকারের। কারন সব আইন তারাই বানিয়েছে এবং আইনজীবি ও বিচারক তারাই নিয়োগ দিয়েছে তারপরেও কেন ফাঁসি হলোনা। তবে কি জামায়াতে ইসলামীর কাছে আওয়ামীলীগ বিক্রি হয়ে গেছে? আমি জানি তবে এটা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের বিচার এসব নিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতির খেলা এখনো শেষ হয়নি। এটা নিয়ে তারা আরো অনেক রাজনীতি করতে চায়, আবার ক্ষমতায় আসতে চায়। আওয়ামী মন্ত্রীদের আস্ফালন দেখে মনে হয় তারা কতই না ব্যথিত, কিন্তু সত্যিই কি ব্যথিত?

আমরা ৭১ পরবর্তী প্রজন্ম আমার মনে হয় আমরা প্রায় সবাই চাই (শুধু যাদের পায়ে রাজনৈতিক দলের শিকল পড়ানো আছে তারা বাদে) যুদ্ধাপরাধ, রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই chapter totally closed হোক। উন্নয়নের নতুন ভিষন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। তাই আজকের এই আন্দোলন হতে হবে আওয়ামী মুক্ত আন্দোলন, রাজনীতি মুক্ত আন্দোলন। আমরা আর শুনতে চাই না মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ। আমরা ৭১ পরবর্তী প্রজন্ম আমরা একটাই পক্ষ আমরা বাংলাদেশী। আমরা দেশের আপামর জনগণ আবার এক হই নতুন এক স্বাধীনতার জন্য, নতুন এক অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেউ স্বাধীনতার পক্ষ কেউবা বিপক্ষ। কেউ ভারতের পক্ষ আবার কেউবা পাকিস্তানের পক্ষ। কিন্তু আমরা ৭১ পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের একটাই পক্ষ বাংলাদেশে। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। আমরা বাংলাদেশী। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেউ ভারতকে ভালবাসে আবার কেউবা পাকিস্তানকে ভালবাসে কিন্ত আমরা শুধু ছোট্ট এই ভূখন্ডকেই ভালবাসি মনেপ্রাণে ভালবাসি। তাই আমাদের বিভক্তিত পুর্বপুরুষদের অনুস্মরণ-অনুকরণের দিন শেষ। এখন এদেশের হাল ধরতে হবে আমাদেরকেই ৭১ পরবর্তী প্রজন্মকেই। আমরা পাকিস্তানকেও ভালবাসতে চাইনা, ভারতকেও না। আমরা শুধুই ভালবাসতে চাই বাংলাদেশকে।

আমি আবারো বলি, এই আন্দোলনের সাথে আমাদের পুর্বপুরুষদের জড়ানো যাবে না, কারণ তাদের সবার শরীরে হয়তো ভারতের রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে নয়তো পাকিন্তানের রক্ত। আমরা ভারত-পাকিস্তান কারোরই রক্ত চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশী রক্ত। তাই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে ৭১ পরবর্তী প্রজন্মকেই।

আমরা বিশ্বাস করিনা রাজনৈতিকদের। আওয়ামী-বিএনপি-জামায়াত কাউকেই। সবাই এ দেশের জনগণকে গিনিপিক হিসাবে শুধুই ব্যবহার করছে। এদেশের মানুষের উনন্নয়নের জন্য রাজনীতি করেনি। একথা আজ অধম মুর্খও বুঝে। তাই এ আন্দোলন হোক, যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের কবর দেওয়ার আন্দোলন, বিভক্তিত রাজনীতিকে কবর আন্দোলন। মনে রাখতে হবে, বার বার একত্রিত হওয়া যায় না যেভাবে হয়েছিল ৭১ এ। তেমনি একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে একত্রিত হওয়ার।

………. নেমে আসো তুমি খোলা শমসের ধরি, আর এক বার লোহিত সাগরে লালে লাল হয়ে মরি।