ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবাকে আরো মান সম্মত ও টেকসই করার লক্ষে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ ও তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করে পরে একটি সমন্বিত কর্মকরিকল্পনা তৈরি করতে চায় সরকারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

গত নভেম্বর মাসের শেষে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকর্মীদের পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ও সমন্বয় সাধনে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে ভবিষ্যৎ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সেবার খাতগুলো চিহ্নিত করতে নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং মেরী স্টোপস বাংলাদেশের নিরাপদ-২ প্রকল্পের সহযোগিতায় সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের চাহিদা যাচাই সম্পর্কিত একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর-ডিজিএফপি।

গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করতে ঢাকা, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের নির্বাচিত কিছু গার্মেন্টসকে গবেষণার আওতায় রাখা হয়। এর মধ্যে কিছু গার্মেন্টসে আগে থেকেই পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় ছিল। আর কিছু গার্মেন্টসে নতুন করে সেবার আওতায় আনা হয়।

সভায় বলা হয়, এই দুই ধরনের গার্মেন্টেসের শ্রমিকদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা আছে বা গ্রহণ করছে ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে যেসব গার্মেন্টসে সেই সেবা ছিল না, যেসব গার্মেন্টসে এই হার ৪১শতাংশ।

পরামর্শ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়,  তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), এবং ডিজিএফপিকে একই সাথে উদ্যোগ নিতে হবে। সার্ভিস প্রোভাইডারদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। থাকতে হবে মনিটরিং ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে তাদের পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানে কাজ করছে পরিবার অধিদপ্তরের ফ্যামিলি প্ল্যানিং ফিল্ড সার্ভিসেস ডেলিভারি। অধিদপ্তর এরইমধ্যে ২৭৮টি তৈরি পোশাক কারখানার সেবা প্রদানকারীদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ  সম্পন্ন করেছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মহাপরিচালক  কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম বলেন, “সারা বাংলাদেশে যত নারীরা সরকারি ও অ-সরকারি অফিসে কর্মরত, তার চেয়ে অনেক বেশি নারী গার্মেন্টসে কাজ করে। তাই তাদেরকে পরিবার পরিকল্পনার আওতায় আনতে এবং আরো বেশি সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে আরো বড় পরিসরে কাজ করতে হবে দাতা সংস্থার এবং এনজিওদের। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আলোচনা আরো বাড়াতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সব সময় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।“

আলোচনায় বিকেএমইএ ডাইরেক্টর মো. মোস্তফা মনোয়ার ভুঁইয়া বলেন, “২৭৮টা গার্মেন্টসের তথ্য সামনে নিয়ে পরবর্তী কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারি এবং অ-সরকারি যে কোনো উদ্যোগে বিজিএমইএ সাহায্য করবে।”

বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন হেলথের চেয়ারম্যান হানিফুর রহমান বলেন,  “পরিবার পরিকল্পনার বাইরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সার্বিক স্বাস্থ্য নিয়েই কাজ করার সময় এসেছে। মধাহ্ন বিরতিতে তাদের এই স্বাস্থ্যসেবার সময় না রেখে অন্য সময় নির্ধারণ করতে হবে।“

স্বাস্থ্যগত সব তথ্য নিয়ে গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য আলাদা ডেটাবেজ তৈরি করতে পারলে ভালো হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

মেরী স্টোপস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মাসরুরুল ইসলাম বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে গার্মেন্টস সেক্টরে পরিবার পরিকল্পনা সেবার পাশাপাশি এএনসি (এন্টিনেটাল কেয়ার) সার্ভিস এবং সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। নিরাপদ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪০টি গার্মেন্টসে কাজ করছে। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব এনজিও কাজ করছে, সেই সাফল্যগুলো নজরে এনে তা সমন্বিত করে সারা দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিতে পারে সরকার; সাথে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।”

“শ্রমিকের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হলে এতে মালিকদের যেমন লাভ আছে, উপকার হবে দেশের এসডিজি ২০৩০ এবং এফপি ২০২০ লক্ষ্য অর্জনে“, বলেন তিনি।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ভেরোনিকা ফ্লেগার বলেন, “গার্মেন্টস সেক্টরে যে শ্রমিকরা কাজ করে তাদের সার্বিক মানোনন্নয়ের জন্য সহায়তা করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস। বিশেষ করে তাদের পরিবার পরিকল্পনা আর অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করি আমরা। এই খাতে মানোন্নয়নের জন্য  ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

যুগ্ম সচিব ডা. মো: সারোয়ার বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকসহ অন্যান্য কমকর্তারা।

 

slide

মন্তব্য ০ পঠিত