ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মোর্শেদ নামের এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ুয়া ৩য় বর্ষের ছাত্র। তার বেশীর ভাগ সময়ই কাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে। দেশের রাজনীতি নিয়ে আর অন্যসকল সাধারণ তরুণদের মত তারও তেমন একটা আগ্রহ ছিলনা। আর জানতেও সে চায় না … কেননা রাজনীতিতে শুধু হানাহানি কে কাকে ছোটকরতে পারবে ইত্যাদি বিষয়গুলো তাকে রাজনীতি বিষয়ে অনাগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেও সে মাঝে মাঝে খোঁজ খবর রাখে।

গত ৫ ই ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ রায় না প্রাপ্তি সাপেক্ষে শাহবাগে মানব বন্ধনের জন্য ডাক দেয় কয়েকজন ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট। শুরুতে ৪০-৫০ জন গেলেও ধীরে জনসমগম বাড়তে থাকে এবং এক সময় শাহবাগের মোড় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে জনমানুষে। পরবর্তীতে উপস্থিত জনমানুষের দাবীতেই অবস্থান কর্মসূচীর উদ্যোগ নেয় সে তরুণরা। এভাবেই শুরু হয় জনমানুষের জাগরণ তথা গণ জাগরণ।

শাহবাগের অবস্থানের ৩য় দিন অর্থাৎ শুক্রবার মহাসমাবেশ শুরু হয় বেলা ৩টায় এবং তা অনেক টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে। আর মোর্শেদ সেইদিন বাসায় ছিল এবং সে টেলিভিশনে দেখছিল। তার বাবা মুস্তফা আলী। পেশায় একজন প্রকৌশলী। মোর্শেদ তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল কেন এরা শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন? মুস্তফা সাহেব বললেন তুমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে একথা বলছ তাতে আমি লজ্জা পেয়ে গেছি। আমি ভাগ্যবান তুমি বাহিরে অন্য কারোর সামনে এই কথাটা জিজ্ঞাসা করনি তাতে তোমার চেয়ে বেশী লজ্জা আমিই পেতাম।

উল্লেখ্য মুস্তফা আলী খুলনা সোনাডাঙ্গা উপজেলা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার বয়স ছিল ১৬-১৭। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন সে এইচ.এস.সি এর ২য় বর্ষের ছাত্র ছিল। দেশপ্রেম থেকেই বাবা মা কে না বলেই চলে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে। আর তার সন্তান জানে না মুক্তিযুদ্ধে সময়কার গল্প। তিনি তার ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি উপন্যাস কিনে দিলেন। আর এই উপন্যাসের পাশাপাশি নিজেও ছেলেকে বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপট জানালেন।

এভাবেই মোর্শেদ জানল মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন তার পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথা সঠিক ইতিহাস। এতদিন পরে এসে সে বুঝল যে সে অন্ধকারে ছিল। আর মানুষের কথায় সে অনেক সঠিক জিনিসকেই ভুল জেনেছে আর ভুল তথ্য কে সঠিক জেনেছে। যা মোটেও উচিত হয়নি। মোর্শেদ মনে মনে বলল আমার দেশের মত এমন দেশ আর আছে নাকি যে দেশের রয়েছে গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস। আমার প্রাণ প্রিয় দেশের স্বাধীনতা কেউ এমনি এমনি দেয়নি তা ছিনিয়ে এনেছে তার পূর্বসুরীরা যাদের একজন তার বাবা।

দেশপ্রেম ঈমানের অংগ। নিজ দেশের জন্মোত্তর সময়কার সঠিক ইতিহাস জানতেই হবে। আমরা কজন জানি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। ইতিহাস জানলে কেবলমাত্র সর্বোচ্চ ভাবে দেশকে ভালোবাসা সম্ভব। মুস্তফা আলী সাহেব বলেন তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে আর কিছু অর্জন করুক আর না করুক নতুন প্রজন্মকে উদ্ভুদ্ব করেছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং এর মাধ্যমেই সারা দেশেই সাধারণ মানুষের হয়েছে গণ সচেতনতা।