ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আসলেই তো অনেক দিন বাড়ি যায়নি, গোপন সূত্রে খবর এসেছিল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির আম বাগানে জল উঠেছে।পাশের সাতটি পুকুর ভেসে গেছে।চারিদিকে পানি আর পানি,থমথমে স্রোতহীন পানি।বাড়ির পেছনে অনেক পানি,অনায়সে আমার ডুবে যাওয়ার মত পানি।যে ভীত সে হাটুঁজলেও ডুবে যেতে পারে!পানিতে নামতে সাহস লাগে,এই পানি কোথা হতে এল,কোথায় গেল,এত সব ভাবলে পানিতে নামতে পারা যায়? এত সব এতদিন ভেবেছিলাম বলে নামতে পারিনি।
তখন রোজার মাস, কাঁধসম পানি,পানিতে নেমেছিলাম ভয় নিয়ে, সাতাঁর যে জানিনা।সাথে ছিল কলসী, আহা,কলসী নাকি ডোবে না কিন্তু আমার কলসী ডুবে যায় শুধু,পরে হাতবদলে অন্য কলসী এল,বুঝলাম কলসীর রহস্য।
আমার কলসী উঁচু করে আলোর দিকে ধরলে অন্ধকার থেকে আলোর রশ্মি দেখা যায়।:) তার মানে কলসী আমার ফুটো ।অত:পর হাত বদল হল কলসীর,এখন আমি ভেসে থাকি জলের মাঝে সব ভুলে কোথায় ছিলাম,কোথায় আছি।
সেই মুহূর্তের জন্য সমস্ত হাসি জলের মাঝে আচঁড়ে পড়ছিল।কিছু সময়ের জন্য নিজেকে বন্দী করলাম,উপলব্ধি করলাম জীবনের গান।

নিছিদ্র কলসী শুধু ভাসিয়েই রাখতে জানে কিন্তু ছিদ্রযুক্ত কলসী ভাসার সাথে সাথে ডুবতেও সাহায্যে করে, সেই ডুবে যাওয়াতে জলের কিছু পানি পেটে যেতে পারে।কিন্তু নির্ভেজাল বেচেঁ থাকা কি শুধু আনন্দ নয়,আনন্দ হল সাতাঁর না জেনে পানিতে নামা, আর পানিতে নামার পর অনুভব করা আমি এখন জলের কন্যা।যে জলে ডুবে যেতে যেতে শাপলা কুড়িয়ে আনতে জানে,যে জলের মাঝে সবুজ থেকে সাদা আর বেগুনী আভার কচুরিপানার ফুল তুলতে জানে!!

আলহামদুলিল্লাহ্‌। আবার বাড়িতে যেতে হবে আমাকে, যেখানে জল আছে,ফুল আছে,প্রশান্তবদনের দুটি কোমল মানুষ আছে,আমায় দেখলে যারা অনাবিল হাসিতে উদ্ভাসিত হবে।