ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

কয়েকদিন আগে খবর এসেছে যে, রমনা পার্ক এর পরিবেশ রক্ষার্থে এখন থেকে এখানে শুধু মাত্র ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে । আর কোন ধরনের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয়া হবে না। খবরটি খুবই আশাব্যঞ্জক।

ঢাকার এক কোনে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান যা মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেই বেশি পরিচিত। এই উদ্যানে নিয়ে অনেকের নানা “ মিথ” আছে বলে আমি মনে করি। অনেকে মনে করেন এখানে শুধুমাত্র প্রেমিক যুগলদের আনাগোনা, এখানে অনেক অসামাজিক কাজ হয়, চুরি ছিনতাই হয় ইত্যাদি, ইত্যাদি। বাস্তবের সাথে এসব “মিথ” এর মিল খুবই কম।

আমি গত চার বছর বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রায়শই যাতায়ত করি। উদ্দেশ্য দুটি: পাখি দেখা ও ভ্রমণ। এসব করতে গিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি উদ্যানটি’র ক্ষয় ও ধ্বংস। আজ এসবের কিছু বয়ান করবো ছবির মাধ্যমে।

এর আগে খুব অল্প কথায় বলি, আমি গত ১ বছরে এখানে ১১০+ প্রজাতির পাখি দেখেছি ও ছবি তুলেছি। আছে গেকো, গুইসাপ, দুই রকমের কাঠ বিড়ালী, গন্ধগোকুল, শেয়াল, বেজী, গার্ডেন লিজার্ড, ঢোঁড়া সাপ ইত্যাদি বন্য প্রাণী। আর শতাধিক বৃক্ষ ও গুল্ম ইত্যাদি তো আছে এন্তার । পোকা-মাকড় এসবের হিসেব এখনো কেউ করেন নি। আছে গোলাপ বাগান । এসব মিলে এ এক জীবন্ত প্রকৃতি শেখার পাঠশালা। এরকম একটি প্রাণবৈচিত্র্য পূর্ন উদ্যান ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দ্রুত এসব সমাধানে পদক্ষেপ না নিলে আমরা হরাবো এক অমূল্য সম্পদ।

গত কয়েক বছর থেকে উদ্যানের অনেক গাছ মারা যাচ্ছে উঁই পোকার আক্রমনে। সারা বাগানে এমন মৃত গাছের সংখ্যা অনেক। এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। নিচে মারা যাওয়া কয়েকটি গাছের ছবি।

t-2 T-3

২০১৫ সালে মারা যাওয়া কিছু গাছের সারি।

T-4

 

বাগনে অহেতুক কিছু স্থাপনা করা হয়েছে। যেমন নিচের ছবি’র পেঙ্গুইনটি আদতে একটি ডাস্টবিন। কিন্তু এর মুখ এতো ছোট যে এতে আবর্জনা ফেলা বেশ কঠিন । এর ভিতরে ময়লা রাখার জায়গা খুবই কম। উদ্যানে এরকম পেঙ্গুইন অনেক।

o_1
o-1

পিকনিক। শীতকালে এরকম শত শত বনভোজন আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়। এসব আয়োজনে সারা দিন উচ্চ স্বরে লাউড স্পিকার বাজানো হয়। খাবারের উচ্ছিষ্ট. পলিথিন, প্লাস্টিক খাবারের প্যাকেট ফেলা হয় বন জুড়ে।

 

IMG_5583 o2