ক্যাটেগরিঃ সুরের ভুবন

১. ওজি অসবার্নকে কে কে চেনেন? ব্রিটিশ ব্যান্ড ব্ল্যাক সাব্বাথ এর ভোকাল অসবার্ন। ব্ল্যাক সাব্বাথকে বলা হয় গড অফ হেভি মেটাল। ব্ল্যাক সাব্বাথ মানেই ওজি অসবার্ন। ওজি অসবার্ন একক গান করেও অনেক খ্যাতি পেয়েছেন। আজকে ১৩ই জানুয়ারী ২০১৩ তে ব্ল্যাক সাব্বাথ ঘোষণা দিলো তারা ওজি অসবার্ন সহ এলবাম বের করতে যাচ্ছেন যে এলবামটার নাম হবে ‘১৩’। তবে ব্ল্যাক সাব্বাথ তাদের নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-জাপান ট্যুর সেরে এলবাম বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে – তারমানে আপনি নয়া এলবামটা পাচ্ছেন জুন মাস নাগাদ। নতুন এলবামে যারা থাকছেন – ওজি অসবার্ন (কন্ঠ), টনি আইওমি (গীটার), গীজার বাটলার (বেজ) আর ব্রাড উইক (ড্রাম)। এলবামটি প্রযোজনায় কাজ করছেন রিক রুবিন যিনি ৭টি গ্র্যামি জিতেছেন। ব্যান্ডের লেবেল ভার্টিগো ব্রান্ডেই হবে অর্থাৎ প্রথম ১৯৬৮ থেকে ব্ল্যাক সাব্বাথ যা ছিল সেই পুরোনো স্বাদ। তাদের সেরা সাফল্য হয়েছিল ১৯৭৮ সালে নেভার সে ডাই এলবাম বের করে যেটা ৭০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল।

২. কিন্তু সমাচারে জলপাই আচার নিয়ে এলো লেডি গাগা!! সম্প্রতি লেডি গাগা ওজি অসবার্নের মেয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার কেলি অসবার্নকে বেশ আঁতলামি উপদেশ ঝাড়েন ‘আরো সহনশীল হও আরো সাহসী হও’ টাইপের কথা বলে ফ্যাশন পুলিশ একটা টিভি শো তে। এতে তো মা শ্যারন অসবার্ন যিনি ওজি অসবার্নের স্ত্রী এতটাই ক্ষেপলেন যে নিজের ফেইসবুক স্টাটাসে লেডি গাগা কে কিলিয়ে কাঁঠাল পাকিয়ে ছাড়লেন। লেডি গাগা ‘মাস্তান’ বা ‘স্বস্তা নাম পাওয়ার গায়িকা’ বলে একেবারে ছিঁড়ে ফেললেন। কারণও দেখালেন মহিলা – কেলি অসবার্নকে পাবলিকের সামনে এমনটি না বললেও পারতেন লেডি গাগা, এতটাই অসংযত না হলেই পারতেন। লেডি গাগার ওজন নিয়ে কিছু কথা হয়ত কেলি বলেছিল তাই বলে টুইটারে ভক্তদের কেলির বিপক্ষে বাজে কথা বলা বা জীবন হুমকি দেবার মত উস্কানিটা মোটেও ঠিক কাজ নয়। এজন্য শ্যারন লেডি গাগাকে জবাব দেবার জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলেন আর কথা শেষ করলেন এভাবে – ‘পরিশেষে বলছি, ফার পড়া বন্ধ কর, লোকের স্বস্তা আকর্ষণ থেকে বিরত থাকো, আর বন্ধ কর তোমার ভক্তদের শুধু কেলি নয় বাকি অন্যান্য তারকাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে। তোমার এক কথায় কিন্তু তোমার ছোট্ট রাক্ষসদের হীন, ঋণাত্মক, অযাচিত হুমকি গুলো বন্ধ হতে পারে। তুমি আমাকে জানাও এই বিতর্কের কতদুর তুমি চাও। আমি তোমার জন্য খোলা মাঠেই আছি, সোনা!’ এ যেন মহিলা রেস্টলিং।

৩. কদিন আগে কথা উঠেছিল ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম এয়ারপোর্টের নাম করা হবে ওজি অসবার্ন এয়ারপোর্ট। গতানুগতিক ধারায় যেমন কোন প্রেসিডেন্টের নাম বা স্থানের নাম (বা রাজনৈতিক ক্যাচাল এড়াতে পীর আউলিয়ার নাম) দিয়ে এয়ারপোর্টের নাম করা হয়, এটা ব্যাতিক্রমী ও একজন মহান শিল্পীর পাশাপাশি দেশী সংস্কৃতিকে সম্মান করাও গেল বলে রেকর্ডিং কোম্পানিগুলো চাপ দিয়ে আসছে আর এটার মুল নাট বল্টু নাড়াচ্ছেন জিম সিম্পসন যিনি ব্ল্যাক সাব্বাথের ম্যানেজার। প্রিন্স অফ ডার্কনেস খ্যাত অসবার্নকে নিয়ে এয়ারপোর্ট – এই প্রস্তাবটা মেনে নিচ্ছিল খোদ কাউন্সিলর ফিলিপ পার্কিন। তবে বারমিংহাম এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ সাফ জানালেন যে, ‘লিভারপুল জন লেনন এয়ারপোর্ট আছে কিন্তু ওজি অসবার্নকে নিয়ে আমাদের এমন কোন আলোচণা হয়নি’। দেখাযাক আসলেই অসবার্ন সাহেব এই সম্মান পান কিনা।

৪. ১৯৬৮ সালে টনি আইওমি ও বিল ওয়ার্ড এসটন বার্মিংহামে ঘুরঘুর করছিলেন একটা হেভি ব্লুস রক ব্যান্ড করার জন্য। আর লোকাল মিউজিক দোকানে ওজি অসবার্ন বিজ্ঞাপন দিচ্ছিলেন তার ব্যান্ডের জন্য লোক চাই। উল্লেখ্য গিজার বাটলার ও ওজি অসবার্ন নিজেরাই একটা ব্যান্ড করতেন যার নাম ছিল রেয়ার ব্রিড। বিজ্ঞাপন দেখে পরিচয় হয় এই চার শিল্পীর আর হয়ে গেল ব্যান্ড যার নাম ছিল – পোলকা টাল্ক ব্লুস ব্যান্ড বা পরে সংক্ষেপে পোলকা টাল্ক। অসবার্নের মায়ের বাথরুমে সাজানো স্বস্তা টালকম পাউডারের কৌটা থেকে এই নামের আইডিয়াটা বের হয়। ওই ব্যান্ডে জিমি ফিলিপস একজন গিটারিস্ট ও ক্লার্ক নামের একজন স্যাক্সোফোনিস্ট ছিলেন যারা পরে চলে গেলেন বা বাদ দেয়া হল কিনা জানি না – এই ব্যান্ডের আবার নাম হল আর্থ যে নামটা অসবার্নের মোটেও পছন্দের ছিল না। আর্থ চারজনের ব্যান্ড। আর্থ নাম নিয়ে যাত্রা শুরু হল জিম সিম্পসনের হেনরি’স ব্লুজ হাউজ পান্থশালায় যেখানে তাদের ভাল পারফরমেন্সের জন্য তারা জিমকে ম্যানেজার হিসেবে পায়। জিম সিম্পসন বেশ কটা ব্যান্ডের ম্যানেজার হিসেবে জড়িত ছিল। ১৯৬৯ সালে তারা আবিস্কার করল আর্থ নামের আরেকটি ইংলিশ গ্রুপ আছে আর মানুষ তাদের ওই ব্যান্ডটাই ভাবে। তখন তারা আবার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় মারিও বাভা পরিচালিত বরিস কারলফ অভিনীত ব্ল্যাক সাব্বাথ নামের একটা হরর সিনেমা চলছিল ব্যান্ডের রিহার্সেল রুমের আশে পাশে সিনেমা হলে। গিজার বাটলার দেখলেন মানুষ ভুতের সিনেমা দেখতে কিরকম লাইন ধরে, কিভাবে টাকা উড়ায় – হুমড়ি খায়। এটা দেখে ওজি অসবার্ন আর বাটলার একটা গান লেখে ব্ল্যাক সাব্বাথ। পরে তাদের মনে হল আর হিপি কালচার বা জুডাস প্রিস্টের নতুন সাউন্ডিং এর জোয়ারের কারণে তারাও ব্যান্ডের নাম বদলে রাখল ব্ল্যাক সাব্বাথ। তাই ব্ল্যাক সাব্বাথ ভুতুড়ে মিউজিক করার অনুপ্রেরণায় গড়া।
৫. ওজি দাদু! ওজি দাদু! বলে ক’দিন আগে ডেকে উঠল তার ছেলে জ্যাক এর মেয়ে পার্ল। মাত্র ক’দিন হল পৃথিবীতে এসেছে পার্ল অসবার্ন আর এসেই দাদু বানিয়ে দিল ওজি অসবার্নকে। ওজি তাতে অনেক খুশী। ২রা জানুয়ারী ২০১৩তে নাতনি কোলে ছবি তোলেন ওজি দাদু।

৬. ১৯৭৯ সালে ওজি অসবার্নকে ড্রাগ এবিউস এর জন্য ব্ল্যাক সাব্বাথ থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়। তিনি উল্টা পাল্টা কাজের মধ্যে টেক্সাসের আলামাও মৃতদের কবরে মাতাল হয়ে পেশাপ করে দেন। সান এন্টোনিও সিটিতেও তিনি এক দশক নিষিদ্ধ ছিলেন, মেম্পিসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। ১৯৮৪ সালে আমেরিকান ব্যান্ড মোটলে ক্রু এর সাথে ট্যুরে যান তিনি। ওই ট্যুরকে বলা হয় রক এন্ড রোল এর ইতিহাসে অন্যতম ড্রাগ আর মদের যামানা। এর ফলও তিনি ভোগ করছেন – পার্কিন সিনড্রোম যা পার্কিনসন্সের মত কাঁপাকাপি ব্যারাম ২০০৫ সাল থেকে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে তাঁকে সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে। তিনি কানে কম শুনেন। তবে এতকিছুর পরও তিনি বেঁচে আছেন। এখন অসবার্ন এসব থেকে পুরোপুরি দূরে।

৭. সবচাইতে জটীল সংবাদ হল ব্ল্যাক সাব্বাথ ৩৫ বছর একসাথে হয়ে একটা নতুন এলবাম। ওজি অসবার্নের ৪০ বছর মিউজিক ক্যারিয়ারে তিনি এখনো উজ্জ্বল নক্ষত্র। ফেইসবুকে আপনি চাইলে এই লিঙ্কে ভালবাসা প্রকাশ করতে পারেন
http://www.facebook.com/ozzyosbourne

৮. ব্ল্যাক সাব্বাথ এর ওয়েব সাইট হল
http://www.blacksabbath.com/index.html
এখানে সব খবরাখবর-ইতিহাস-ফটো ইত্যাদি পাবেন। আমি কিছু ট্যুরের খবর দেই।
২০শে এপ্রিল – ভেক্টর এরিনা – অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
২৫শে এপ্রিল – ব্রিসবেইন এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার – ব্রিসবেইন, অস্ট্রেলিয়া
২৭শে এপ্রিল – অলফোনস এরিনা – সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
১ম মে – রড লেইভার এরিনা – মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
৪ঠা মে – পার্থ এরিনা – পার্থ, অস্ট্রেলিয়া
১২ই মে – ওজ ফেস্ট জাপান – মাকুহারি মেসে, টোকিও, জাপান

তথ্যঃ নয়েস১১, মিউজিক নিউজ, স্পিন, ব্ল্যাক সাব্বাথ, হাফিংটনপোস্ট, হেনেমিউজিক, উইকিপেডিয়া, ডেইলীমেইল, ফেইসবুক, আল্টিমেইট ক্ল্যাসিক রক, গুগল।
http://www.facebook.com/pages/wOwi/133782376650198?ref=hl