ক্যাটেগরিঃ সুরের ভুবন

 

KORG সিনথেসাইজার কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া লোভনীয় কয়েকটি মিউজিক কনটেস্ট এর কথা জানাই আপনাদের এখনই।

১. আই-পলিসিক্স রিমিক্স কনটেস্ট
সারাবিশ্বের মিউজিশিয়ানদের এই প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে আহ্বান করা হয়েছে; তবে যারা আই-পলিসিক্স ব্যাবহার করেন। আই-পলিসিক্স একটি আধুনিক সিনথেসাইজার (বা বাংলাদেশে কি-বোর্ড বলে) যেটার বিশেষত্ব হল মডার্ন মিউজিক ঘরানা বা হাউজ, ট্রান্স, ডিস্কো, টেকনো, এজাতীয় মিউজিকের সাউন্ডিংগুলোর খুব ভাল সংগ্রহ করা আছে যা ব্যবহার করে আজকের সময়ের অদ্ভুত শব্দের গান তৈরী করা যাবে; (উদাহরণ হিসেবে পিএসওয়াই এর গ্যাংনাম স্টাইল বা লেডি গাগার গান গুলোর কথাও বলা যায়) – এমনকি ডিজে মিউজিক বা পার্টি মিউজিক এও কাজে লাগানো যাবে।

এবার বলি কি করা চাইঃ
ক. আই-পলিসিক্স একটা থাকতে হবে ও সাউন্ডক্লাউড এ একটি একাউন্ট থাকতে হবে। সাউন্ডক্লাউড হল জনপ্রিয় একটি সাইট যেখানে অডিও দেয়া থাকে, ইচ্ছামত ডাউনলোড করার সুবিধা আছে ও সাউন্ড মান ভাল।
খ. একজন প্রতিযোগী আসল গান ও রিমিক্স গান জমা দেবেন।
গ. যে গানটি রিমিক্স হবে তার নাম লিখতে হবে P6 ‘গানের নাম’।
ঘ. সর্বোচ্চ ৬টি গান দেয়া যাবে, তবে ৬ এর উর্দ্ধে হলে পরবর্তি বা শেষ এর গুলোকেই গণ্য করা হবে।
ঙ. প্রতিযোগীতার সময় সীমা ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩ থেকে জানুয়ারী ৩১, ২০১৩। (অনেক অল্প সময়)
চ. পেইজে উদাহরণস্বরূপ ডেমো গান দেয়া আছে – আপনি একবার শুনে দেখতে পারেন কি ধরণের গান হতে পারে প্রতিযোগীতার জন্য।

পুরস্কারঃ
ক. ছয়জনকে পুরস্কার দেয়া হবে।
খ. ১০০ ডলারের আই টিউন গিফট কার্ড।
গ. ৬০০ ডলারের ২বছর সাউন্ড ক্লাউড প্রো মেম্বারশীপ।
ঘ. ১৯৯ ডলারের কর্গ লিগেসি স্পেশাল বান্ডেল। (মিউজিক লুপ, সাউন্ড, টিউন ব্যাংক)
ঙ. কর্গের অফিশিয়াল সাইটে এড।
চ. রিমিক্সটি কর্গের অফিশিয়াল সাইটে থাকবে ও সার্টিফিকেট পাবে।
ছ. রিমিক্স গানটি নতুন ভার্সন পলিসিক্স সিনথেসাইজার এ ইনস্টল করা থাকবে।
জ. এছাড়া পাঁচজন রানার আপ হলেও তাদের জন্যও থাকছে পুরস্কার।

তাহলে আর দেরী নয়, এক্ষুণী ভিজিট করুন—-
http://ipolysix.herokuapp.com/

২. কর্গ অন-লাইন গীটার টিউনার

অন-লাইনে কর্গ টিউনার দিয়ে যেকোনখানে বসে গিটার টিউন করা যাচ্ছে। এই সুবিধা নেয়া হলে প্রতি সোমবার একটি করে কর্গ অডিও টিউনার জেতার সুযোগ আছে।

তাহলে গীটারিস্ট!! এক্ষেত্রেও দেরী কেন? দেশের নাম, ইমেইল আর জিপ কোড দিয়ে এখনই লুফে নাও।
http://www.free-guitartuner.com/?AspxAutoDetectCookieSupport=1

৩. সিঙ্গার সঙ রাইটার ২ প্রতিযোগিতা

যারা গান লিখে, নিজে সুর করে আবার নিজেরাই গায় তারা সঙ রাইটার ক্যাটাগরীর বলা হয় যদিও ক্ষেত্র বিশেষে অনেকটাই বদলেছে সংজ্ঞা। মুলতঃ জন ডেনভার, ক্যানী রজারস, অঞ্জন দত্ত, সুমন কবির এরা হলেন সঙ রাইটার। সঙরাইটার যেকোন ঘরানা চাইলে বেছে নিতে পারেন। এই প্রতিযোগীতা মুলত এই কবিগায়েনদের। ১০ হাজার ডলার ক্যাশ সহ গ্র্যামি উইনার প্রোডিউসার জন শ্যাঙ্কস ৪টি গান প্রযোজনা করবেন – সেই সাথে স্পন্সর থাকছে কর্গ, মার্টিন, ফেন্ডার, শিউর, বোস, জুম, ডি’এডারিও এর মত স্বনামধন্য কোম্পানি আর কিমি কিমেল লাইভে পরিবেশনা করার সুযোগ। গত প্রতিযোগীতার বিজয়ী জোস ডয়েল – তার গাওয়া গানটি শুনে আইডিয়া নিতে পারেন, সাইটেই দেয়া আছে।

তবে যারা আমেরিকান নিবাসী তারা এটা পারবেন। তাই বিস্তারিত আমাদের দেশীয় প্রবাসী বাঙ্গালী শিল্পীদেরকে খোঁজখবর নিতে অনুরোধ করছি।
http://songwriter.whooznxt.com/

শেষের প্রতিযোগীতাটি দেখে নিজের দেশের মুমুর্ষু সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিল। মুমুর্ষু বলছি একারণে যারা বড় গলায় জোর করে বলেন – হচ্ছে তো, দেশে ভাল শিল্পী উঠে আসছে তো – তাদেরকেই বলি একবার ঘুরে আসুন দেশের অডিও কোম্পানিগুলার দুয়ারে। তারা আপনাকে ‘ব্যাবসা নাই’ কথাটি শুনিয়ে দেবেন। আসলেই ব্যবসা হচ্ছে না। ঠিক আগের মতন এদেশের মানুষ গান শুনছে না, আগের মতন মনে রাখার মতন গান আসছে না, এখনো বাংলা গানে নতুন গবেষণা হয় না। আমার কথার বিরোধীতা যারা করবেন তারা বলেন – আমরা কি ইয়ান্নির মত কম্পোজার তৈরী করতে পেরেছি? আমাদের গানে কি ঈগলসের ‘হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’এর মত লিজেন্ডারী প্রোগ্রেসন তৈরী হয়েছে? আমাদের কোন শিল্পী কি গ্রামী-ব্রিটস নোমিনী পেয়েছে? বিদেশে মামফোর্ড এন্ড সন্স ইন্ডি রক করে, লিন্‌কিন পার্ক টেকনো মেটাল জনর বানায় – আমাদের বাংলা গানকে কোন আলাদা জনর মনে করা হয় না – ইন্ডিয়ান ফিল্ম সঙ বলে অবহেলা করা হয়, আমরা কি কখনও দাবী করেছি আমাদের বাংলা গানে নিজস্ব জনর আছে? দাবী করেছি তানজীব-সোমা এর ‘মেঘমিলন’ গানটি একটি রাগা-রক? বা রাগা–রক একটি নতুন বাংলা জনর? কখনও কি ভেবেছি তিশমার কন্ঠ ডিস্কো জনরের জন্য নয়, তার কন্ঠ আফ্রো-পেরুভিয়ান জনরের জন্য যেটা সাকিরা ব্যবহার করে? আমাদের বাংলা গানের জন্য কঠোর সমালোচণা আর অন্যকে উঠতে না দেয়ার মত হাবিজাবি করা ছাড়া আর কি করেছি?

এখন কত প্রতিভা তোলার জন্য রিয়েলিটি শো করে, তাতে কি প্রতিভা আসে? যারা আয়োজক তাদের সহযোগীতা করে বলি – প্রতিভারা আসে না, প্রতিভাদের খুঁজে নিতে হয়। মণি মানিক্য খুঁজে বের করে মানুষ ব্যবসা করে লাভ পেয়েছে। সবাইকে যদি মণি-মানিক্য আনতে বলি তাহলে ঘরের চৌকির তলায় পড়ে থাকা কাঁচের ভাঙা অংশকেও অনেকেই আনবে পরীক্ষা করাতে আপনাদের খরচ করে আসনে বসানো বিচারকদের দিয়ে; তাহলে কিন্তু সময় অপচয় হচ্ছে, আর টাইম ইজ মানি কথাটার মূল্য না বোঝাটাই প্রমাণিত হচ্ছে।

তারচেয়ে যার প্রতিভা আছে সে নিশ্চয়ই নিজের গান লিখে শোনাবে, ভাল বাজিয়ে হলে খুব কঠিন গান বাজিয়ে শোনাবে ইত্যাদি। আমাদের এই একইরকম রিয়ালিটি শো থেকে বের হয়ে আসতে হবে – কাজে লাগবে এমন কিছু করা উচিত যা আমাদের শিল্প সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে।

কর্গের সাইট থেকে আমি মনে করি এমন অনেক কিছুর আইডিয়া পাওয়া যায়। তাহলে দেখে নিন চট করেঃ
http://korg.com/

তথ্যঃ ইন্টারনেট
https://www.facebook.com/pages/wOwi/133782376650198?ref=hl